আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচের কর্মকর্তাদের বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি মিশরের

ছবির উৎস, Allstar via Getty Images
- Author, অ্যালাস্টেয়ার টেলফার
- Role, বিবিসি স্পোর্ট জার্নালিস্ট
- Published
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর যে ম্যাচে তাদের পরাজয় হয়েছে, সেদিন দায়িত্বে থাকা ম্যাচ কর্মকর্তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করার জন্য তারা ফিফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
ইএফএ বলেছে, তারা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে এবং আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে রেফারিংয়ে "দ্বৈত মানদণ্ড" অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে মিসর ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) মোস্তাফা জিকোর একটি গোল বাতিল করে দেন। আক্রমণ শুরুর মুহূর্তে মিসরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আতিয়া, লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে পা দেওয়ার কারণে দণ্ডিত হন।
মিশর আরও মনে করেছিল, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় মোহামেদ সালাহ ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। এর কয়েক সেকেন্ড পরই গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পাল্টা আক্রমণে গিয়ে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয়।
ইএফএর এক বিবৃতিতে বলা হয়, "মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করেছেন, কারণ রেফারিদের দল গুরুতর ভুল করেছে এবং দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করেছে, যার ফলে মিসর দল ম্যাচটি হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে।"
ইএফএ বলেছে, রেফারিদের দল এবং ভিডিও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট রেফারিদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত। তাদের অভিযোগ, "স্পষ্ট ভুল" করা হয়েছে এবং কিছু ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা না করার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি "এই ভুলগুলোর তদন্ত শেষে রেফারি ও পুরো কর্মকর্তাদলকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে" এবং মিশর জাতীয় দলের বিরুদ্ধে "বৈষম্যের অপরাধ" সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে।
এর আগে মিশর কখনোই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যার জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, ৭৯তম মিনিটে দলের প্রথম গোলটি তৈরি করে দেন এবং ৮৩তম মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন।
ম্যাচ শেষে ম্যানেজার হোসাম হাসান বলেন, মিশরের সঙ্গে "অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে" এবং দলটি "অবিচারের শিকার হয়েছে"।
তিনি বলেন, "হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।"
জিকো বলেন, "রেফারি সত্যিই অন্যায্য ছিলেন। অবিচারটি ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের শুরু থেকেই অন্যায্য আচরণ হয়েছে।
"এটা স্পষ্ট যে এই টুর্নামেন্টে কারসাজি করা হয়েছে।"
আগামী রোববার কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি স্পোর্ট ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ছবির উৎস, Getty Images
ফিফার কাছ থেকে খুব বেশি কিছু শোনার আশা নেই
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বিশ্বকাপে রেফারি এবং তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদ খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো ফল বয়ে আনে।
সম্ভবত রেফারিজ কমিটি নীরবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার বিমান টিকিট তুলে দিতে পারে, কিন্তু অভিযোগগুলো সাধারণত খুব বেশি গুরুত্ব পায় না।
২০২২ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে তিউনিসিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারের পর ফ্রান্স আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
সেই ম্যাচে যোগ করা সময়ে ফ্রান্সের একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল করা হয়, যা ভিএআর প্রটোকলের পরিপন্থি বলে মনে হয়েছিল।
ফিফার প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অভিযোগটি খুব সংক্ষিপ্ত একটি বিবৃতির মাধ্যমে খারিজ করে দেওয়া হয় এবং কেন তা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছিল, "৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত তিউনিসিয়া বনাম ফ্রান্স ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচের বিষয়ে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন যে প্রতিবাদ জমা দিয়েছিল, ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি তা খারিজ করে দিয়েছে।"
রেফারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে যেকোনো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমস্যাটি হলো, সিদ্ধান্তগুলো প্রায় সবসময়ই ব্যক্তিনির্ভর বা ব্যাখ্যাভিত্তিক হয়।
মানবিক কারণে ম্যাচ কর্মকর্তাদের ভুল হতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সেখানে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে।
পরাজয়ের আবেগঘন মুহূর্তে উত্থাপিত এসব অভিযোগ সাধারণত সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যায়।
তাই ফিফার কাছ থেকে এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু শোনার আশা করা কঠিন।








