


বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন শুরু হয়েছিল ভয়-ভীতি দেখানোর মাধ্যমে। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট, সাউন্ড ও স্টান গ্রেনেড এবং প্রাণঘাতী গুলি ভর্তি শটগান ব্যবহার করে।
এরপরই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ বছর বয়সী ছাত্র আবু সাঈদ ছিলেন, যিনি শটগান দিয়ে ছোড়া ছররা গুলির আঘাতে প্রাণ হারান।

এরপর যা ঘটে তা ছিল আরও মারাত্মক - নিরাপত্তা বাহিনী সামরিক রাইফেল ব্যবহার করে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও পথচারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে শত শত মানুষ নিহত হন।
পড়ার জন্য এই সেকশনে
ক্লিক করুন



৫ই জুন থেকে ৫ই অগাস্ট ২০২৪ সালের মধ্যে, দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থেকে শুরু করে সহিংস দাঙ্গা পর্যন্ত মোট ৫৩৩টি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
ACLED- অনুসারে বিক্ষোভ-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো সম্পর্কে পড়ুন
আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓
এ মানচিত্রে সরকারি তথ্য অনুযায়ী অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়। তবে, সরকারি পরিসংখ্যান নিবিড়ভাবে দেখলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি জেলাতেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে সেসময় এবং অনেক মানুষ হতাহত হন।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই থেকে ৫ই অগাস্টের মধ্যে ৮৩৪ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। কিন্তু জাতিসংঘের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের তথ্য বলছে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি, ১৫ই জুলাই থেকে ৫ই আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (ACLED) থেকে তথ্য ব্যবহার করে বিবিসির বিশ্লেষণে প্রায় একই রকমের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে ১,৩৮৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এই বিশেষ প্রতিবেদনে, কোটা সংস্কারের দাবি থেকে ক্রমে ক্ষোভ বৃদ্ধি এবং এক পর্যায়ে সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের ঘটনা পরম্পরার দিকে ফিরে তাকিয়েছে বিবিসি।
আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓
কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতন: দুই মাসের ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓

আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓


আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓



আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓
আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓

আরো পড়তে স্ক্রল করুন
↓
জুলাই অভ্যুত্থান: সম্পাদকের কলমে বিবিসি বাংলার অভিজ্ঞতা

২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনের উত্তাপ শুরু থেকেই আঁচ করছিল বিবিসি বাংলা। কোটা সংস্কারের দাবিতে যখন তরুণরা রাজপথে নামতে শুরু করে, তখন সরকারের এক ধরনের অস্বীকারের প্রবণতা এবং দমনচেষ্টা স্পষ্ট হতে থাকে। শুরু থেকেই বিবিসি বাংলা এই আন্দোলন এবং সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল।
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত খবরে বিবিসি বাংলা সরকারের ভাষ্য এবং মাঠের বাস্তবতার মধ্যেকার ফারাক তুলে ধরে প্রশ্ন করেছে। দিন যত গড়িয়েছে, পরিস্থিতি ততই জটিল হয়েছে; সহিংসতা এবং হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সংকটময় সময়ে বিবিসি বাংলা সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রচারে তার সবটুকু সামর্থ্য নিয়োজিত করে।
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুগুলো—যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা-বাড্ডা সড়ক, উত্তরা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ—প্রতিটি জায়গা থেকে বিবিসির সংবাদদাতারা নিয়মিত প্রতিবেদন, লাইভ সম্প্রচার ও ভিডিও পাঠানোর মাধ্যমে সারা বিশ্বে খবর পৌঁছে দিয়েছেন।
বিবিসি বাংলার সাংবাদিকেরা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নিয়মিত খবর সংগ্রহ করেছেন এবং প্রচার করেছেন।
যখন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়, তখন বিবিসি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তার সম্প্রচার সচল রাখে। এই ‘ইনফরমেশন ব্ল্যাকআউট’-এর মধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কেমন, তা বিশ্ববাসীকে জানাতে বিবিসির ইংরেজি ভাষা বিভাগ বাংলা বিভাগের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে। বিবিসি বাংলার সাংবাদিকদের প্রতিবেদন প্রচার হয়েছে ইংরেজিসহ বিবিসির ৪২টি ভাষা বিভাগের অধিকাংশ ভাষার প্ল্যাটফর্মে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময়ে বিদেশে অবস্থানরত লাখ-লাখ বাংলাভাষী মানুষ বিবিসি বাংলার মাধ্যমে খবরাখবর জানতে পেরেছেন। বিবিসি বাংলা বিরতিহীনভাবে অনলাইন এবং সামাজিক মাধ্যমে খবর প্রচার করে গেছে, একইসাথে বিবিসি বাংলা টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কোনো কাটছাঁট ছাড়াই বাস্তব তথ্য প্রচার করেছে, আন্দোলনকারীদেরসহ সকল পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরেছে, নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলেছে, এবং সরকারকে প্রশ্ন করেছে।
এসময় আন্দোলনের নেতৃত্বস্থানীয় কয়েকজনকে গোপনে আটক এবং গণগ্রেপ্তারের খবর প্রচার করেছে বিবিসি বাংলা, যা পরবর্তীতে অন্যান্য গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে।
সীমিত লোকবল নিয়েও বিবিসি বাংলার সাংবাদিকেরা আন্দোলনে শত-শত মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। একইসাথে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে উঠে আসা নিহতের সংখ্যাও তাদের সূত্রে প্রকাশ করেছে।
সেই সময়ে অনেক গুজব, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তির মাঝে বিবিসি বাংলা সবসময়েই যাচাই-বাছাই করে শুধুমাত্র নির্ভুল এবং যাচাইকৃত তথ্য তুলে ধরেছে।
আন্দোলনের পুরো সময়টাতে বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার বরাতে সংবাদ প্রচার করেছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে বাংলাদেশে কী ঘটছে, দেশের বাইরের মানুষের কাছে, বিশেষ করে অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সেটা জানার তখন প্রধান নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল বিবিসি বাংলা।
সংবাদকর্মীদের ঝুঁকি ও পেশাগত দায়বদ্ধতা
আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং সহিংসতার সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি বিবিসিকে নিজেদের কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও যখন মাঠে কাজ করা অপরিহার্য ছিল, তা সংবাদকর্মীদের জন্যেও এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়।
টিয়ারশেল, রাবার বুলেট আর সংঘর্ষের ডামাডোলের মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে খবর সংগ্রহ করা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাও ছিল। কিন্তু কোনো কিছুই বিবিসির সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। অনেক সংবাদকর্মীই তখন ব্যক্তিগত ছুটি বাতিল করে টানা দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রযুক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেই অক্লান্ত পরিশ্রমে লন্ডন অফিসে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশের বাইরেও যুক্তরাজ্য এবং ভারতে বিবিসি বাংলার সহকর্মীরাও সেই সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে সহায়তা করে গেছেন।
এই পুরো সময়টাতে বিবিসি বাংলাকে ক্ষমতাবানদের অসন্তোষ এবং বিরুপ আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু সকল প্রকার চাপ উপেক্ষা করে বিবিসি তার সম্পাদকীয় নীতিতে অবিচল থেকেছে, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে।
অভ্যুত্থানের পরেও বরাবরের মতোই বিবিসি বাংলা কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে সব পক্ষের মতামত ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
বিবিসির সাহসের উৎস
প্রশ্ন হতে পারে, এই প্রতিকূলতার মধ্যে বিবিসি বাংলা এমন দৃঢ় থাকার সাহস কোথায় পায়?
এর উত্তর আছে বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আস্থার মধ্যে। ‘বিবিসি বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করবে’—পাঠক-দর্শকের এই বিশ্বাসই বিবিসির সবচেয়ে বড় শক্তি। এই আস্থাই আমাদের সাহসের মূল উৎস।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশটির ইতিহাসে সব বড় রাজনৈতিক বাক পরিবর্তনের সময় বিবিসি বাংলা নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও এর ব্যতিক্রম নয়।
ভবিষ্যতেও বিবিসি বাংলা এই দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করে যাবে। কোনো সরকার বা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের সন্তুষ্টির জন্য নয়, মানুষের কাছে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য পৌঁছে দেওয়াই বিবিসির একমাত্র লক্ষ্য।
মীর সাব্বির
সম্পাদক, বিবিসি বাংলা
নোট: ACLED অনুযায়ী অশান্তি-সংক্রান্ত ঘটনার সংজ্
১. শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ: এমন বিক্ষোভ যেখানে অংশগ্রহণকারীরা কোনো ধরনের সহিংসতা, ধ্বংসাত্মক কাজ বা দাঙ্গায় জড়ায় না এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো জোরপূর্বক প্রতিক্রিয়া দেখানো হয় না বা বাধা দেওয়া হয় না।
২. সহিংস বিক্ষোভ: এমন ঘটনা যেখানে প্রতিবাদকারীরা সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়—যেমন কর্তৃপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সাথে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, টায়ারে আগুন ধরিয়ে বা অন্যান্য বস্তু দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি। এক্ষেত্রে সহিংসতা কে শুরু করেছে তা বিবেচ্য নয়।
৩. হস্তক্ষেপসহ প্রতিবাদ: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ যেখানে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ বা দমন করার চেষ্টা করা হয়, যেমন গ্রেপ্তার বা জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া, কিন্তু এতে মারাত্মক বা প্রাণঘাতী ক্ষতি হয় না।
৪. বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যখন প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করা হয় বা সহিংসতা সৃষ্টি হয়। এতে প্রাণঘাতী অস্ত্র বা বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়, হোক তা রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক।
লিখেছেন: তারেকুজ্জামান শিমুল, স্বোয়াতি জোশি
অতিরিক্ত রিপোর্টিং: সাইয়েদা আক্তার, তোয়াহা ফারুক
ডিজাইন ও ইলাস্ট্রেশন: লোকেশ শর্মা
ভিজ্যুয়াল প্রোডাকশন: স্বোয়াতি জোশি
সম্পাদক: মীর সাব্বির
সূত্র: আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (ACLED), জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন OCHR, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ
স্থিরচিত্র: গেটি ইমেজেস, বিবিসি বাংলা







































.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)









