ইরানের বিষয়ে 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' নিতে ট্রাম্পের বৈঠক, তবে চুক্তির ঘোষণা হয়নি

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, আওইফে ওয়ালশ
- Role, বিবিসি নিউজ
- Published
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর একটি রূপরেখা নিয়ে 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' নিতে শুক্রবার শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেটি শেষ হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ''ইরানকে অবশ্যই এই বিষয়ে সম্মত হতে হবে যে তারা কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না, হরমুজ প্রণালি 'অবাধ জাহাজ চলাচলের' জন্য পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং এই জলপথের সব মাইন "ধ্বংস" করতে হবে''।
হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যা সাধারণত বড় ধরনের সংকট মোকাবেলায় ব্যবহৃত হয়।
ইরান এর আগে বলেছিল যে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না, যে কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে তারা দাবি করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ট্রাম্প ও ইরানের নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা (একটি সমঝোতা স্মারক হিসেবে পরিচিত) চুক্তির রূপরেখায় বৃহস্পতিবার দুই দেশ সম্মত হয়েছিল।

ছবির উৎস, US Navy via Getty Images
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বিবিসির মার্কিন সংবাদ অংশীদার সিবিএস নিউজকে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতেই রাজি হবেন যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো এবং তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারে না।"
৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং আলোচনা এগোচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব ফল পাওয়া যায়নি।
শুক্রবারের শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, যাতে জলপথে আটকে থাকা জাহাজগুলো "বাড়ির পথে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে" পারে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংস করতে দিতে হবে।'
তিনি বলেন, "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।"
"অন্যান্য কিছু বিষয়, যেগুলোর গুরুত্ব অনেক কম, সেগুলোতে সম্মতি হয়েছে।"
পরে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেন যে সিচুয়েশন রুমের বৈঠক শেষ হয়েছে। তবে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য "সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ"।
সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করার কোনো বিধান ছিল না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, তাদের মূল লক্ষ্য "যুদ্ধ বন্ধ করা, পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা হচ্ছে না"।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে ইরান যেন উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে এবং তাদের বিদ্যমান মজুত ধ্বংস করে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করা হয়।
ইরান বলছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে, এমন দাবি অস্বীকার করেছে।
ইরানে পুনরায় হামলা শুরু করার মার্কিন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সিঙ্গাপুরে একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, "সেখানে এবং বিশ্বজুড়ে আমাদের যে সামরিক মজুত রয়েছে তা এর জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত, কারণ আমরা অত্যন্ত নিখুঁত এবং প্রচুর পরিমাণে যুদ্ধাস্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখি।"
তিনি আরও যোগ করেন: "তাই আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি।"
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

ছবির উৎস, Reuters
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে যায়।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনাকারীরা "কয়েকটি ভাষাগত পয়েন্ট" নিয়ে কাজ করছেন, যার মধ্যে "ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রশ্নটি" অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
"আমরা এখনো সেখানে পৌঁছাইনি, তবে আমরা খুব কাছাকাছি এবং আমরা এটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি," তিনি বলেন।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবারের আগে এক পোস্টে বলেন, তাদের "কোনো নিশ্চয়তা বা কথায় বিশ্বাস নেই", বরং তারা কেবল কার্যকর পদক্ষেপে আস্থা রাখে।
তিনি বলেন, "অন্য পক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।"
"যেকোনো চুক্তির বিজয়ী হলো সেই পক্ষ, যে চুক্তির পরদিন যুদ্ধের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকে।"
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা কুয়েতে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যা হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কৌশলগত ইরানি বন্দর শহর বান্দার আব্বাসে আগের হামলার "উৎস" ছিল।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড কুয়েতে এই হামলাকে একটি "গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছে।








