'প্রতিনিয়ত বার্তা পাচ্ছি- কেউ যদি হরমুজ ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করবো'

ছবির উৎস, RASHEDUL HASAN
- Author, মুকিমুল আহসান
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
"মোবাইল ফোনে মিসাইল হামলার সর্তকবার্তা পাচ্ছি। প্রতিনিয়ত ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে, বার্তা পাচ্ছি- কেউ যদি হরমুজ ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে", বিবিসি বাংলাকে কথাগুলো বলছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সাগরে আটকে পড়া 'বাংলার জয়যাত্রা'র প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান।
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমভি বাংলার জয়যাত্রা' গত ২৬শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে পারেনি। বরং, এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।
বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটিতে নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তাদের কয়েকজন বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তেও দেখছেন তারা।
এমন পরিস্থিতি সেখান থেকে কবে হরমুজ পাড়ি দিয়ে নিরাপদে উপসাগরীয় এলাকা ছাড়তে পারবেন, জানেন না জাহাজটিতে থাকা বাংলাদেশি নাবিকদের কেউ।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বুধবার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমরা এমন একটা জায়গায় আটকা পড়ছি, ধরে নিতে পারেন এটা একটা পুকুর। আমাদের বের হওয়ার রাস্তা একটাই, সেটা হরমুজ। জানি না কবে বের হতে পারবো"।
জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে হরমুজ থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির অন্তত ২২৭৩টি জাহাজ। এদের মধ্যে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজও রয়েছে।
এরই মধ্যে আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজটিকে সেখান থেকে বের করে আনতে কূটনীতিক চ্যানেলে ইরানের সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগও করার কথা জানিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বা বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশ জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি'র নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, "আগ্রাসীদের হুমকি বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়া হতে পারে"।

ছবির উৎস, RASHEDUL HASAN
প্রায় চার মাস পারস্য উপসাগরে
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
'বাংলার জয়যাত্রা' জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখ।
এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি। পরে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি কাতারের একটি বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর ওই বন্দরে জাহাজটির দুশো মিটারের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়।
এর মধ্যেও সেখানে পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য ভারতের মুম্বাই বন্দর ঠিক হলেও আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ড নিরাপত্তার কথা জানিয়ে বাধা দিলে জাহাজটি গভীর জলসীমায় অবস্থান নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি শুরু হলে ৮ই এপ্রিল হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি।
জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বুধবার বিবিসি বাংলাকে জানান, "সেই জানুয়ারি থেকেই গালফের মধ্যে আছি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কয়েকটি জায়গায় পণ্য আনা নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছুদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় রয়েছি"।
প্রায় এক মাস ধরে মিনা সাকারের অদূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থানের পর মিসাইল হামলার শঙ্কায় জাহাজটি অবস্থান বদল করে গত সোমবার।

ছবির উৎস, Getty Images
দুই দফায় হরমুজ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি শুরু হলে ৮ই এপ্রিল হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল 'বাংলার জয়যাত্রা'। কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় তখন জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি।
পরে ইরান আবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজটি হরমুজের দিকে রওনা হয়।
কিন্তু হরমুজ প্রণালির ২০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে যাওয়ার পর ইরানের নৌ বাহিনী জাহাজটির হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
বুধবার জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, যুদ্ধবিরতির পর আমরা বের হয়ে আসতে কয়েকরবার উদ্যোগ নিয়েছি। দুইবার হরমুজ অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার পর আবার সর্তকবার্তা পেয়ে ফেরত আসতে হয়েছে"।
তিনি জানান, গত সোমবার পর্যন্ত জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'মিনা সাকার' বন্দরের জলসীমায় ছিল। পরে সেটিকে সরিয়ে এনে নোঙ্গর করা হয় শারজাহর কাছে।
এমভি বাংলার জয়যাত্রা এখন দুবাই থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল এবং শারজাহ বন্দর থেকে ২১ নটিক্যাল মাইল দূরে পারস্য উপসাগরে নোঙর করে আছে।
এ সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি হরমুজের দিকে রওনা দেয়। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল না পেয়ে আবার ফেরত এসে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় অবস্থান করছিল জাহাজটি।
জাহাজটিতে থাকা নাবিক ও কর্মকর্তারা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, যখনই জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে গেছে, কিংবা তাদের কাছে থেকে অনুমতি নিতে গেছে তখনই সেখান থেকে ওয়ারলেস বার্তায় সর্তক করা হচ্ছে।
এমন কয়েকটি ওয়ারলেস বার্তায় ইরানের আইআরজিসি ও নৌবাহিনীর (যেটিকে সংক্ষেপ সিফা নেভি বলা হয়) পক্ষ থেকে বলতে শোনা যায়, "কোনভাবেই হরমুজ অতিক্রম করা যাবে না। হরমুজের দিকে অগ্রসর হলেই আক্রমণের শিকার হতে হবে"।
কয়েকদিনের যুদ্ধবিরতির পর রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম তেল শোধনাগার ফুজাইরাহতে মিসাইল হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আবারো বদলে যায়। তখন উপকূলের কাছাকাছি এলাকা থেকে আবারো মধ্য সমুদ্রে অবস্থান নেয় বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি।
জাহাজের ক্যাপ্টেন ইসলাম জানান, বর্তমানে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি থেকে ৭৪ নটিক্যাল মাইল, ইরান সীমান্ত থেকে ৪৩ নটিক্যাল মাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে নোঙর করে আছে।

ছবির উৎস, RASHEDUL HASAN
ঝুঁকি, ভয় ও অনিশ্চয়তায় নাবিকেরা
বিএসসির মালিকানাধীন জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটির ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।
জাহাজটির হরমুজ প্রণালি পার হয়ে সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে যাওয়ার কথা ছিল।
এই জাহাজটির মতো আরো ২২শরও বেশি জাহাজ পারস্য উপসাগরজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় নোঙর করে আছে হরমুজ পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ও জাহাজটিতে থাকা নাবিকেরা সাক্ষী হয়েছিলেন সেই ভয়াবহ ইরান যুদ্ধের। সমুদ্রের মাঝে থেকে দিন-রাত দেখেছেন অসংখ্য মিসাইল, ড্রোন হামলা আর যুদ্ধের দামামা।
জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "মার্চে আমরা যখন দুবাই পোর্টে ছিলাম মুহুর্মুহু হামলা দেখেছি বিভিন্ন তেলের টার্মিনালে। দিন-রাত যখন হামলা হয় তখন ঘুমানোর মতো কোনো পরিস্থিতি থাকে না। সামনে থেকে সেগুলো যখন দেখছি তার বিভীষিকা দেখেছি। চরম আতঙ্কে থাকতাম"।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত এখন একদমই বন্ধ রয়েছে। গত সোমবার একটি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বুধবার পর্যন্ত ২৬টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ইউকেএমটিও (ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস)। তারা বলছে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির "ভেতরে ও আশপাশে" মোট ৪৬টি ঘটনার খবর পেয়েছে তারা।
এর মধ্যে ২৬টি ছিল হামলা, ১৮টি ছিল "সন্দেহজনক তৎপরতা" সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং এর পাশাপাশি দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে।
এদিকে, দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা নাবিকেরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
বাংলার জয়যাত্রায় থাকা নাবিকেরা জানিয়েছেন, আটকা পড়া অন্য দেশের কোনো কোনো জাহাজে নাবিকদের পরিবর্তন পরে নতুন নাবিকরা দায়িত্ব নিয়েছেন।
বাংলার জয়যাত্রার কাপ্টেন মি. ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমরা আমাদের রুটিন কাজ করে যাচ্ছি। যেহেতু জাহাজটি রানিংয়ে আছে, তাই নাবিকরা কিছুটা রিল্যাক্সে আছে। তবে প্রতিনিয়ত তাদের কিছু ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে"।
"এরকম অবস্থায় আগে কখনো পড়িনি। কখনো জাহাজের ওপর দিয়ে মিসাইল যাচ্ছে। কখনো পাশের জাহাজে ডেবরিজ (মিসাইলের ভাঙা অংশ) পড়তেছে। এমন পরিস্থিতি শুধু আমরা একা না, সব দেশের সব জাহাজের নাবিকদের এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে", বলছিলেন তিনি।
নাবিকেরা জানান, নাবিকদের তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরেও জাহাজে থাকা স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেকে যোগাযোগ করছে পরিবারের সঙ্গে।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর

ছবির উৎস, EPA
দাম বাড়ছে কয়েকগুণ, কূটনৈতিক তৎপরতা
বেশ কিছুদিন ধরে বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি আটকা পড়ার কারণে এতে খাদ্য, পানিসহ নানা সংকট দেখা তৈরিও হয়েছে।
এ সপ্তাহে খাবার পানি সংগ্রহের জন্য মিনা সাকার বন্দরের জলসীমা থেকে শারজাহ বন্দরে গিয়েছিল জাহাজটি।
জাহাজের নাবিকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বর্তমানে পানিসহ বিভিন্ন খাদ্য পণ্যের দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সেগুলো সংগ্রহও করতে বহু সময় লাগছে।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বুধবার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "অনেক জাহাজে পানি শেষ হয়ে গেছে। আমাদেরও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পানির দাম বেড়েছে। প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে পানি আনতে হচ্ছে। এখানে এক লিটার পানির দাম ১০০ টাকা"।
এমন অবস্থায় নাবিকরাও হরমুজ থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সম্প্রতি চারটা জাহাজের সাথে আমরা মুভ করেছিলাম। কিন্তু কোনো জাহাজই মুভ করতে পারেনি, আমরা অপেক্ষায় আছি"।
বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে জানান, হরমুজ প্রণালি থেকে জাহাজটি বের করতে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মি. মালেক বলেন, "কূটনীতিক চ্যানেলে আইআরজিসির সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য চাচ্ছে, সেই তথ্যগুলো আমরা সরবরাহ করছি। তারা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে"।
তিনি জানান, হরমুজ অতিক্রম করতে যখন টোল দাবি করেছিল ইরান, বাংলাদেশ তাতে রাজিও ছিল। কিন্তু তাতে বাধ সাধে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে।
"তারা যে পরিমাণ টোল চায় সে পরিমাণ টোল দিলে আমরা হয়তো বের হয়ে আসবো। এরমধ্যে ট্রাম্প বললেন, যদি কেউ টোল দেয় সেই দেশের ওপর স্যাংশন দিয়ে দিবে। আমরা এখন একটা উভয় সংকটের মধ্যে পড়ছি"।
তবে, তিনি জানিয়েছেন জাহাজটির নাবিকদের যেন কোনো সংকটে না পড়তে হয় সে কারণে তাদের বাড়তি আর্থিক সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।







