লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জবাবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

লারাক দ্বীপের নিকটবর্তী বন্দর আব্বাসের কাছে হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষমান জাহাজ দেখা যাচ্ছে

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, লারাক দ্বীপের নিকটবর্তী বন্দর আব্বাসের কাছে হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষমান জাহাজ দেখা যাচ্ছে
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে শুরু করে এটিই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্য হামলা।

"ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সদস্যদের হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে সাগরে মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল," যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির অংশীদার সংস্থা সিবিএস নিউজ-কে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স বলেছেন।

আইআরজিসি জানিয়েছে, রোববারের হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। তারা এ হামলার 'জবাব ও শাস্তি' দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আইআরজিসি জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ইরানের ওই বক্তব্যের কিছুক্ষণ পর জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

"আজ সোমবার ভোরে জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে," জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে এটি বলেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।

হরমুজ পার হতে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা কার্গো জাহাজগুলোকে দেখা যাচ্ছে এই ছবিতে

ছবির উৎস, Jack Garland / BBC

ছবির ক্যাপশান, হরমুজ পার হতে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা কার্গো জাহাজগুলোকে দেখা যাচ্ছে এই ছবিতে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জুলাইয়ের শেষ দিকে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান স্থগিত করার পর ইরানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম ঘোষিত মার্কিন হামলা।

লারাক দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বান্দার আব্বাসের কাছেই অবস্থিত এবং হরমুজ প্রণালির ওপরে দিকেই এর অবস্থান। বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ইরান তেলবাহী জাহাজগুলোকে এই দ্বীপের পাশ দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য করছে এবং সেগুলো পরীক্ষা করছে বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে, প্রণালিটি পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার আদায় করা হচ্ছে বলেও খবর বেরিয়েছে।

আইআরজিসি'র মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এ হামলাকে 'ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল' বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, "এই ভুল হিসাবের পরিণতির মূল্য শত্রুকে অর্থনৈতিক ও সামরিক - উভয় ক্ষেত্রেই দিতে হবে।"

আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা এর আগে জানিয়েছিল, হামলাটি ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে, এতে দুজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন সরানো হয়েছে

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন সরানো হয়েছে
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানি গণমাধ্যমে আইআরজিসি'র একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি কিং হুসেইন ও আল-আজরাক-এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী আইআরজিসির দাবি, হামলায় 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে এবং তারা 'প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান অবস্থানগুলো'কে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যে মাইন পেতে জলপথটি অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল, সেগুলোর সবই বিস্ফোরিত করা হয়েছে অথবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, কোনো জাহাজ বা নৌযান নতুন করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি ট্রাম্পের এই দাবিকে 'প্রচারমূলক প্রতারণা' বলে বর্ণনা করেছেন।

গত ২৪শে অগাস্ট ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়, যার লক্ষ্য হলো তেহরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করা।

হরমুজ প্রণালি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়

ইরানের কর্মকর্তারা এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই নিষেধাজ্ঞা অভিযানকে মূলত আগের মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপেরই ধারাবাহিকতা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতার পর ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা শুরু করে।

এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়।

এর ফলে কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এখন ছয় মাস অতিক্রম করেছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।