দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বাধা, ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব

জাহেদ উর রহমান

ছবির উৎস, https://www.facebook.com/zahed.urrahman.77

ছবির ক্যাপশান, জাহেদ উর রহমান
    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের বাধায় পড়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দেশে ফিরে আসার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান।

"এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে জানাবো," পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন মি. রহমান।

সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছেএ মন্তব্য করেন। পরে সোমবার বিকেলে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়েকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গেলেও ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে অনেকটা সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত সোমবার দুপুর নাগাদ ঢাকায় ফিরে এসেছেন।

যদিও বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের পর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ নানা পক্ষের তৎপরতায় তাকে শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু তিনি নিজেই দিল্লিতে প্রবেশ না করে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং রাতে শ্রীলংকার কলম্বো যান। পরে সেখান থেকে আজ সকালে রওয়ানা দিয়ে দুপুরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোৗঁছান।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঘটনা নিয়ে জাহেদ উর রহমানের সাথে বিবিসি বাংলা যোগাযোগ করলে তিনি ওই মূহুর্তে কথা বলতে চাননি।

ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান

ছবির উৎস, screengrab

ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান
দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষার পর দেশে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

ছবির উৎস, Hindustan Times via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষার পর দেশে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

ঘটনার বিস্তারিত কী জানা যাচ্ছে

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, "এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে"।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও এ বিষয়ে কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ঘটনাটি অবশ্যই স্বাগত জানানোর মতো নয়। এ ঘরনের ঘটনা আমরা প্রত্যাশা করিনা"।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির বিমানবন্দরে ইমিগ্রশনের বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়েকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার বিকেলে তিনটায় তাকে তলব করা হয় বলে বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহিদুল করিম।

ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে ডেকে ঢাকার প্রতিবাদপত্র তার হাতে তুলে দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এরআগে, দিল্লিতে সংশ্লিষ্ট দফতর ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, জাহেদ উর রহমান ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

ঢাকা থেকে রোববার বেলা তিনটার দিকে একটি ফ্লাইটে তিনি দিল্লি রওয়ানা হয়েছিলেন।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তার এই সফরের আগে বিষয়টি কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল।

তবে এই সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি ব্যবহার করেছেন আগে থেকে নেওয়া একটি সার্ক স্টিকার (সার্ক ভিসা হিসেবে পরিচিত), যা বেশ কয়েক বছর আগে নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী মর্যাদাসম্পন্ন হওয়ার কারণে তিনি বাংলাদেশের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকারী।

তবে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টের বদলে সাধারণ পাসপোর্টই ব্যবহার করেছিলেন।

বিমান থেকে নেমে মি. রহমান তার এই পাসপোর্ট ভারতীয় ইমিগ্রেশনে দেওয়ার পর তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সেখানে অপেক্ষমান ছিলেন এবং সেখানকার কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, জাহেদ উর রহমানের পাসপোর্ট ভারত সরকারের তালিকায় 'ফ্ল্যাগড' ছিল। অর্থাৎ এই পাসপোর্টটি ভারত সরকারের সতর্কতামূলক আপত্তি তালিকায় ছিল। তবে এ বিষয়ে ভারতের কর্মকর্তারা কিছু জানাননি।

আজ ভারত থেকে জাহেদ উর রহমানের ইউটিউব চ্যানেলে ঢোকার চেষ্টা করলে এই বার্তা এসেছে। এখানে লেখা আছে 'জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারের একটি আদেশের কারণে এই কনটেন্ট এখন পাওয়া যাচ্ছে না'।
ছবির ক্যাপশান, আজ ভারত থেকে জাহেদ উর রহমানের ইউটিউব চ্যানেলে ঢোকার চেষ্টা করলে এই বার্তা এসেছে। এখানে লেখা আছে 'জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারের একটি আদেশের কারণে এই কনটেন্ট এখন পাওয়া যাচ্ছে না'।

এদিকে, তাকে স্বাগত জানাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ছিলেন।

পরবর্তীতে তাকে কেন্দ্র করে ভারত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ও বাংলাদেশে উচ্চ পর্যায়ে দফায় দফায় যোগাযোগ হয়।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ থাকা ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর মি. রহমান ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

যদিও এর মধ্যে ভারতীয় ইমিগ্রেশন তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা জানায়। তবে তিনি তাতে সম্মতি দেননি।

এরপর বাংলাদেশ হাইকমিশনই কলম্বো হয়ে তার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করলে রোববার রাত একটার দিকে তিনি কলম্বোর উদ্দেশ্যে দিল্লি ছাড়েন।

এরপর আজ দুপুর নাগাদ তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান।

জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই জাহেদ উর রহমানের ইউটিউব চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর থেকে দুই দেশের তরফ থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ পাচ্ছিল
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর থেকে দুই দেশের তরফ থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ পাচ্ছিল

মি. রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে এসে টেলিভিশন টক শোর মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পলিসি ও স্ট্রাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেন।

মি. রহমানকে নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসছে বাংলাদেশ- ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক তলানি গিয়ে ঠেকলেও বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দুই দেশের দিক থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ ব্যক্ত করা হচ্ছিল।

তবে সম্প্রতি ভারত থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে 'কথিত বাংলাদেশি' হিসেবে লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে এবংএ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা আছে।