যে চার অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

ছবির উৎস, Obaidul Quader facebook

ছবির ক্যাপশান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা চার অভিযোগ প্রমাণিত
Published
পড়ার সময়: ৬ মিনিট

জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাত আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

একেকজনের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে কোনোটিতে মৃত্যুদণ্ড, কোনোটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান।

এছাড়াও এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এই সাত আসামিই পলাতক রয়েছে বিধায় আইনানুযায়ী তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা চারটি করে অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে।

"প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে, আমৃত্যু সাজা ভোগ করার আদেশও হয়েছে," বলেন মি.ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "এর মধ্যে মামলার প্রথম আসামি ওবায়দুল কাদেরের তিনটি কাউন্টে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, একটি কাউন্টে আমৃত্যু সাজা দেওয়া হয়েছে। দুই নম্বর আসামি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে দুই নম্বর কাউন্ট থেকে খালাস, এক নম্বর চার্জে আমৃত্য সাজা দেওয়া হয়েছে এবং তিন ও চার নম্বর চার্জে মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়েছে।"

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

"মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে তিন নম্বর কাউন্ট থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, এক ও চার নম্বর চার্জে মৃত্যদণ্ড এবং দুই নম্বর কাউন্টে তাকে আমৃত্যু সাজা দেওয়া হয়েছে। শেখ ফজলে শামস পরশকে এক নম্বর কাউন্ট থেকে খালাস, দুই নম্বর কাউন্টে তাকে আমৃত্যু সাজা দেওয়া হয়েছে এবং তিন ও চার নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে," বলেন মি. ইসলাম।

এখানে কাউন্ট বলতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে বুঝিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে এক নম্বর কাউন্টে আমৃত্য দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে, দুই, তিন এবং চার নম্বর কাউন্টে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাদ্দাম হোসেনকে এক ও দুই নম্বর কাউন্টে আমৃত্য এবং তিন ও চার নম্বর কাউন্টে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, তাকেও এক এবং দুই নম্বর কাউন্টে আমৃত্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তিন ও চার দুইটি একইসাথে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।"

চব্বিশের পাঁচই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

পুনর্গঠিত দুই ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলার রায়ে ৬৮ জন আসামির সাজা হয়েছে।

এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২২ জনের মধ্যে ১৮ জনই পলাতক। কারাগারে আছেন চারজন।

জুলাই আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ছবির উৎস, Getty Images

আসামিদের বিরুদ্ধে যে চার অভিযোগ

জুলাইয়ের গণঅ্যভুত্থানের সময়ের ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, উসকানি, আন্দোলন দমনের নির্দেশ, অপহরণ ও হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

এই মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরের বেশ কয়েকটি অডিও শোনানো হয়েছে। এসব অডিওতে মি. কাদেরকে তার নেতা-কর্মীদের জুলাই অভ্যুত্থান দমনের নির্দেশ দিতে শোনা গেছে।

মি. কাদেরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো, ২০২৪ সালের ১১ই জুলাই বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তার সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে কথোপকথনে আন্দোলন দমনের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

মি. কাদের তখন বলেছিলেন, "মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন?"

পরে ১৪ই জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা "রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি" উচ্চারণ করে যে বক্তব্য দেন সেই সংবাদ সম্মেলনে মি. কাদের উপস্থিত ছিলেন।

তিনি অপরাধ সংঘটনে সমর্থন ও প্ররোচনা দেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

একইসঙ্গে, পরদিন "আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ" এমন বক্তব্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের দমন করতে মি. কাদের নিজ দলের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। ১৫ই জুলাই শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য নির্দেশ দেন।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে অপরাধ সংঘটনে সমর্থন ও প্ররোচনা দেন।

এরই প্রেক্ষিতে বাহাউদ্দিন নাছিমের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ই জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে, মি. কাদেরের ওই নির্দেশসহ অন্যান্য বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

এমন হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এবং সারাদেশে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।

আন্দোলন দমন করতে মি. কাদের তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ফোন করে ইন্টারনেটের গতি ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে, চব্বিশের ১৬ই জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ফোন করে ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম মহানগরের সব এলাকা দখলে রাখার নির্দেশ দেন।

তার নির্দেশের পর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি করে চট্টগ্রামে চাঁন্দগাঁও থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহম্মেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করে।

একই দিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে ছয়জন নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০২৪ সালের ১৭ই জুলাই দলীয় নেতাদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় আন্দোলন দমনের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।

পরদিন ধানমন্ডির আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে আখ্যা দেন তিনি।

মি. কাদের ১৯শে জুলাই গণভবনে নিজ দল ও ১৪ দলের প্রধানদের বৈঠক শেষে কারফিউ জারি ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে বলেছিলেন, "এটা অবশ্যই কারফিউ, সেটা শ্যুট অ্যাট সাইট হবে," এর অর্থ দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।

রায়ের পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর

ছবির উৎস, Screen Grab

সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাহাউদ্দিন নাছিম অন্যতম ভূমিকা পালন করেন।

তাদের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনের জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করেন ওবায়দুল কাদের।

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ অন্যান্য দলীয় নেতা এবং ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে অপহরণ, গুম, হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে ওবায়দুল কাদের নির্দেশ দেন।

তার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা গুলি করে মিরপুরে ২০২৪ সালের চৌঠা অগাস্ট শাহরিয়ার হাসান আলভী, মিরাজ ফরাজি, মহিউদ্দিনসহ ১২ জনকে, ফেনীর মহিপালে ইশতিয়াক আহাম্মেদসহ সাতজনকে এবং লক্ষ্মীপুর সদরে সাদ-আল আফনানসহ চার জনকে হত্যা করে।

একইভাবে পাঁচই অগাস্ট মিরপুরে মাহফুজুল আলমসহ ২০ জনকে এবং রাজশাহী মহানগরে রায়হান আলী ও সাকিব আনজুমসহ সারা দেশে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।

চব্বিশের ১৪ই জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের 'রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি' সম্বোধন করে উসকানিমূলক যে বক্তব্য দেন, সেখানে আলী আরাফাত উপস্থিত থেকে অপরাধ সংঘটনের সমর্থন ও প্ররোচনা দেন বলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে।

আন্দোলন দমনে সরকারের অবৈধ বল প্রয়োগ ও বিভিন্ন সহিংসতার সংবাদ প্রচার করায় চব্বিশের ১৮ই জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার সংবাদ বুলেটিন চলার সময় বাংলা ভিশন, দেশ টিভি, চ্যানেল ২৪ ও এনটিভি এবং ২২ জুলাই বেলা দুইটায় সংবাদ চলার সময় বাংলা ভিশন ও চ্যানেল ২৪ এর সম্প্রচার ৩০ মিনিটের জন্য বন্ধ করে দেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আলী আরাফাত।

চৌঠা অগাস্ট আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে মোহাম্মাদ আলী আরাফাত সংসদ ভবন এলাকায় পতিত সরকারের মুখপাত্র হিসেবে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেন।

আন্দোলনকে সহিংস কর্মকাণ্ড দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের আন্দোলন দমনের জন্য নির্দেশ দেন তিনি।

তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, এ আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দলীয় সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর আক্রমণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এক হাজার চারশোর বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে। ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়।

এই হত্যা, নির্যাতনের অন্যতম নির্দেশদাতা ও নেতৃত্বে শেখ ফজলে শামস পরশ ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।