রায়কে 'প্রতিহিংসামূলক' বলল আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে তাকে ‘একতরফা, পক্ষপাতদুষ্ট ও সাজানো রায়’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি।
দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতা ও দলটির ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে এ রায় নিয়ে “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের মৌলিক নীতি লংঘন করে ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায়” শীর্ষক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা করেছে।
বিবৃতিতে দলটি বলেছে, “এই বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের মৌলিক ও সর্বজনস্বীকৃত নীতিগুলোর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হয়েছে, যা আইনের শাসনের পরিবর্তে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকেই প্রতিষ্ঠিত করে”।
আওয়ামী লীগের দাবি, “শুধু এই রায় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর সকল কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় যেসব ডিজিটাল সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে তা আন্তর্জাতিক আদালতের সাক্ষ্য মানদণ্ড ও ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার কোন সাক্ষ্য মূল্য নেই।
“এই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশিত রায় প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়,” দলটি বিবৃতিতে দাবি করেছে।
আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজকের রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তার বিচারিক ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে শাস্তি প্রদান করেছে।
“১৯৭৩ সালের আইনে কোন অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার শাস্তি উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও, আজকের রায় সম্পূর্ণ অসংবিধানিক ও বেআইনিভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছে- যা বিচারকদের প্রতিহিংসা মূলক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যে মহৎ উদ্দেশ্যে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল, বর্তমান অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকার সেই পবিত্র উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক জিঘাংসা চরিতার্থ করতে এবং একমাত্র আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও নিশ্চিহ্ন করতে এই ট্রাইব্যুনালকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ও মৌলিক মানবাধিকারের স্বীকৃত নীতিগুলোকে পদদলিত করে রাজনৈতিক আজ্ঞাবহ আদালতে দেওয়া এই মিথ্যা ও বানোয়াট রায়ের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই''।




