পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার নিয়ে বিজেপিকর্মীদের মিছিল, ভাঙচুর

- Author, ময়ূরী সোম
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
- Author, প্রচেতা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নানা জায়গায় বিজেপির কর্মীদের বুলডোজার নিয়ে মিছিল করার ছবি সামনে এসেছে। আবার, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ইউনিয়ন দফতর ও লাগোয়া একটি মাংসের দোকান ভেঙে দেওয়ার ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বুলডোজার বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে, বিশেষত উত্তরপ্রদেশে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বুলডোজার দিয়ে মুসলমানদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া উত্তর প্রদেশে প্রায়ই ঘটে থাকে, যদিও সেরাজ্যের সরকার যুক্তি দিয়ে থাকে যে ওই সব বাড়িগুলো হয় বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, অথবা সেগুলোতে কোনো দুষ্কৃতকারী বাস করতেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও 'বুলডোজার' প্রতীকটি বারবার উঠে এসেছে। তিনি যখন পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রচারে এসেছিলেন, তখনও দেখা গিয়েছিল বুলডোজার।
তবে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে বুলডোজারসহ বিজয় মিছিল করা যাবে না এবং যারা এই বুলডোজারগুলো ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক সিদ্ধনাথ গুপ্তাও বুধবার স্বীকার করেছেন যে "ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে হুমকি, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে"।
এই সব সহিংসতায় দুজন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দুই দলই অভিযোগ করেছে যে তাদের দলের দুজন করে কর্মী নিহত হয়েছেন।
বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির পতাকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখল করা, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনাগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন যে এ ধরনের সহিংসতায় যারা জড়িত থাকবেন, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গে এবার বুলডোজার রাজনীতি?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বুলডোজার নিয়ে বিজয় মিছিলের যে ঘটনাটি সবথেকে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে, সেটি মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট অঞ্চলের।
ওই ভিডিওতে দেখা যায় যে বিজেপির পতাকাসহ কয়েকজন একটি বুলডোজার দিয়ে একটি দোকানের একাংশ ভেঙে দিচ্ছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন ওই ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী পাশে দাঁড়িয়ে আছে"।
বিবিসি সেই সময়ের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে জানার চেষ্টা করেছে যে মঙ্গলবার বুলডোজার দিয়ে আসলে কী হয়েছিল।
গৌতম মল্লিক নামে একজন বিজেপি সমর্থক হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে বিবিসিকে বলেন, মঙ্গলবারের নিউ মার্কেটের বুলডোজার র্যালিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
তার দাবি, বুলডোজার দিয়ে ওই জায়গায় অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি একটি কার্যালয় ভাঙার চেষ্টা হচ্ছিল। কিন্তু লাগোয়া একটি মাংসের দোকানের একটি অংশও ভেঙে যায় বলে তার দাবি।
এই ঘটনার আরেক সাক্ষীর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের এই অফিসটি বেআইনিভাবে, কলকাতা পৌরসংস্থার অনুমতি ছাড়া তৈরি করা হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে অবস্থিত একটি ১৫০ বছরের পুরোনো চায়ের দোকানের মালিক বিবিসিকে বলেন, তিনি এইরকম ভয়াভহ ঘটনা আগেই কখনো দেখেননি।
বুলডোজার নির্মাণকারী সংস্থার নাম অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ওই যন্ত্রগুলোকে জেসিবি-ও বলা হয়ে থাকে।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বুধবার জানান, নিউ মার্কেটে বুলডোজার ব্যবহারের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও যেসব পুলিশকর্মী নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করা হবে।
"বিজয় মিছিল পুলিশের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। অনুমতি না নিয়ে মিছিল করলে সেটি আটকানো হবে এবং উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেসিবির মতো জিনিস নিয়ে কোনোরকম র্যালি হবে না পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে। জেসিবি মালিকদেরও সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে, র্যালিতে জেসিবি ভাড়া দিলে পরিণতি ভোগ করতে হবে। বুলডোজার তৎক্ষণাৎ বাজেয়াপ্ত করা হবে, র্যালি বাতিল করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন মি. নন্দ ।
"ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা" করলে যে-কারোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কলকাতায় আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও বেশি দুষ্কৃতকারীকে আটক করতে বিশেষ অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার কলকাতার তপসিয়া ও তিলজলায় প্রায় ২০০ জন জমায়েত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
তপসিয়া ও তিলজলা - এই দুটিই কলকাতার মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, Asian News International
জেলায় জেলায় সহিংসতা
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোট পরবর্তী সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার দুই তৃণমূল কংগ্রেসকর্মী এবং দুই জন বিজেপি সমর্থককে হত্যা করা হয়েছে বলে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে দুটি দলই।
বীরভূমের নানুরে মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী আবির শেখকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়ককে তার বাড়ির বাইরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিনে কলকাতা লাগোয়া নিউটাউনে বিজেপিকর্মী মধু মণ্ডলকে একটি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-গোষ্ঠী মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। মি. মণ্ডল আঘাতের জেরে মারা যাওয়ার পর ওই এলাকায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
আবার হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মী যাদব বর একটি দুষ্কৃতী-দলের হামলায় মারা যান।
বিজেপি মি. মণ্ডল ও মি. বরের মৃত্যুর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের দায়ী করেছে। অপরদিকে তৃণমূল তাদের দুই কর্মীর মৃত্যুর জন্য বিজেপিকর্মীরা দায়ী বলে অভিযোগ করেছে।

ছবির উৎস, Asian News International
সহিংসতার ঘটনায় শত শত আটক
ভোটের ফলাফলে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ছবি ও ভিডিও সামনে আসছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে।
প্রতিটি ছবি বা ভিডিও এবং ঘটনার সত্যতা পৃথকভাবে বিবিসির পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তাই বুধবার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক সিদ্ধনাথ গুপ্তার সংবাদ সম্মেলনে তাকেই ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করে বিবিসি।
উত্তরে মি. গুপ্তা বলেন, ভোটপরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং আরো ১১০০ জনকে 'প্রিভেন্টিভলি' আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "যেখানে সহিংসতার ঘটনায় এফআইআর হয়নি আমরা সব থানাকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছি"।
তিনি এও বলেন যে বিজয় মিছিলে কাউকে বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং মানুষের "আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়"।
পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, "পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করার এবং সহিংসতার ঘটনায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন"।

ছবির উৎস, Asian News International
'তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের অত্যাচার করা হচ্ছে'
তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, "বিজেপির গুন্ডারা" ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, বালি, আসানসোল ও জলপাইগুড়িতে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। শিলিগুড়ি ও জগৎবল্লভপুরে আগুনের ভিডিও প্রকাশ করে দলটি জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাদের অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপি সমর্থকরাই দায়ী।
এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ও প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজা তার বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতার শ্যামপুকুরে "সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া" কর্মীদের দ্বারা ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন।
"আরও অনেক জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ও সামাজিক কল্যাণ ক্লাব বিজেপি জোর করে দখল করে নিচ্ছে," তিনি এক্স-এ লেখেন।
নন্দীগ্রাম, আলিপুরদুয়ার এবং কলকাতার মানিকতলায় দলীয় কর্মী ও পদাধিকারীদের উপর বিজেপি সমর্থকদের হামলার অভিযোগও তৃণমূল কংগ্রেস তুলেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটে দুষ্কৃতকারীরা পুলিশ কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর একজন সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিরিয়ানির মতো আমিষ খাবারের দোকানগুলোকে বন্ধ করে অন্যত্র সরে যেতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে উঠেছে বলে তৃণমূল জানিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তৃণমূলের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি দলীয় কার্যালয় আক্রমণ করা হয়েছে। তার দাবি, তৃণমূলের প্রায় ১৫০ জন প্রার্থীর বাড়িতেও বিজেপি সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মঙ্গলবার বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, "তারা আমাদের মানুষদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে, তফশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষরাও বাদ পড়েননি... ভাঙড় থেকে বারাসত, বারাসত থেকে দেগঙ্গা, দেগঙ্গা থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ, উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, বর্ধমান থেকে বীরভূম, সব জায়গায় বিজেপি দুষ্কৃতীরা আমাদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে"।
পাশাপাশি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ১২ সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি আগামী দিনগুলোতে সহিংসতার অভিযোগ ওঠা এলাকা পরিদর্শনে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

'পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে'
ভোটপরবর্তী সহিংসতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "যা হচ্ছে তার জন্য আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি। এখন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে"।
তিনি অবশ্য এও বলেন যে, যেসব তৃণমূল কংগ্রেসকর্মী বিজেপির পতাকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসেরই সমর্থকদের উপর হামলা চালাচ্ছেন, তাদের কার্যকলাপের দায় বিজেপি নেবে না, কারণ দলটি এখনও সরকার গঠন করেনি।
"তৃণমূল চলে যাওয়ার পর যে ব্রিদিং টাইমটা থাকে নতুন সরকারের সেখানে রাজ্যপালকে এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে তৃণমূলকেই তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। আজকে যা হচ্ছে, তৃণমূল তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। হঠাৎ কিছু নব্য বিজেপি হয়েছে যারা তৃণমূল থেকে ঢুকেছে, এদের আমরা পার্টি থেকে বার করব। বিজেপির তৃণমূলীকরণ হতে দেব না"।
মি. ভট্টাচার্য জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসায় দুই বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ফলাফল উল্টো হলে "এতক্ষণে বিজেপির ২০০ ছেলে খুন হয়ে যেত হত এবং এক হাজার মহিলার গণধর্ষণ হয়ে যেত"।
তিনি জানান, যেকোনো দুষ্কৃতকারীকে লাঠিচার্জ করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে তিনি পুলিশ প্রধানকে বলেছেন।

ভোটপরবর্তী পর্যায়ে রাজ্যজুড়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও অশান্তি প্রতিরোধে ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন রাখার কথা আগেই জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জাদ মাহমুদ বলছিলেন যে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা পশ্চিমবঙ্গে সবসময়েই হয়ে এসেছে।
বিবিসিকে তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ দেশভাগের শিকার হয়েছে, অতএব এই রাজ্যে নির্বাচনের আগেও সহিংসতার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ভোটপরবর্তী সহিংসতার একটি অন্যতম কারণ হলো, পশ্চিমবঙ্গ স্বভাবতই একটি 'পার্টি সোসাইটি'। গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে আমরা জাতি বা ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বেশি নৃশংসতা দেখেছি। এটি এমন একটি রাজ্য যেখানে, বিশেষ করে গ্রামীণ বা মফস্সল এলাকায়, মানুষের বেঁচে থাকা এবং জীবনধারণ তাদের দলীয় আনুগত্য দ্বারা পরিচালিত হয়। তাদের জন্য, সরকার পরিবর্তন তাদের জীবিকা বা নিরাপদে বেঁচে থাকাটা অনিশ্চিত করে তুলতে পারে"।
বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলেও সহিংসতহা হয়েছে জানিয়ে তিন বলেন, "২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় এসে সিপিআই(এম)-এর দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করেছিল। এখন তৃণমূলের কার্যালয়ের উপর হামলা হচ্ছে। তবে, এখন বাংলার এই সহিংসতা ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক রূপ নেয় কি না, তা আমাদের দেখতে হবে"।







