পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় ফিরলেন দেড় হাজার ভোটার

ছবির উৎস, Asian News International
- Author, ময়ূরী সোম
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
- পড়ার সময়: ৬ মিনিট
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের আগেরদিন ভোটাধিকার ফিরে পেলেন প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ। যদিও নির্বাচনের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন, এমন কেউ কেউ ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কথা বলছেন।
ভারতের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের ২৪ ঘণ্টা আগে প্রকাশিত হয় অতিরিক্ত ভোটার তালিকা।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগারওয়াল মঙ্গলবার জানান, আপিলেট ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তের পর তালিকায় যুক্ত হন ১৪৬৮ জন ভোটার, যারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার ভোটপ্রয়োগ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সেই সব ভোটার, যাদের নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর মূল তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, কিন্তু আপিলেট ট্রাইবুনালের বিবেচনায় বৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তবে এই তালিকা থেকে এখনো বাদ পড়েছে ছয় জনের নাম।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রাক্তন বিচারপতিদের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে গঠন করা হয়েছিল ১৯টি আপিলেট ট্রাইবুনাল। এখানে বাদ পড়া ভোটাররা নিজেদের আবেদন বা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারেন।
ভারতের শীর্ষ আদালতের ১৩ই এপ্রিলের পর্যবেক্ষণ, আপিলেট ট্রাইবুনালে ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া এবং নাম যোগ হওয়ার বিরুদ্ধে ততদিনে ৩৪ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে, অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে, যেসব ভোটারকে আপিলেট ট্রাইবুনাল বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, তারা এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অতএব, আগামীকাল, নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৪৬৮ জন ভোটার তাদের নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে নতুন করে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছিলেন ১৩৯ জন বাদ পড়া ভোটার এবং ভোটাধিকার হারিয়েছিলেন মোট ৮ জন।
এই ১৩৯ জনের মধ্যে একজন মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পৌরসভার চেয়ারপার্সন এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মোঃ ইনজামুল ইসলাম। তিনি বিবিসিকে বলেন, "আমার নাম ভোটার তালিকায় পুনরায় যুক্ত হওয়ার পর আমি অবশ্যই ভোট দিয়েছি। বাকি কথা ৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফলের পর হবে।"
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার নতুন করে যুক্ত হওয়া ভোটারদের সিংহভাগ কলকাতা দক্ষিণ ও কলকাতা উত্তরের।
সামাজিক গবেষক সাবির আহমেদের মতে, আপিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি ছিল এটিই তার প্রমাণ।
তিনি বলেন, "আমরা দেখেছি যে শিক্ষা, সাক্ষরতা এবং সচেতনতা গ্রামীণ এবং শহুরে ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে। আপিল প্রক্রিয়াটির ডিজিটাইজেশন অনেকের জন্য বাধা সৃষ্টি করেছে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং নারীদের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য ব্যাপক। এর ফলে তারা অনেক অধিকার এবং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।"

ছবির উৎস, Asian News International
বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারাও
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আদালতের মাধ্যমে কেউ কেউ ভোটাধিকার ফিরে পেলেও, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি নিজেরাই এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।
অন্তত ৬৫ জন সরকারি কর্মচারী, যাদের নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন বুথে পোলিং অফিসার হিসেবে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন।
এমনই দু'জন ভোটাধিকার হারানো প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তাদের বক্তব্য, 'বৈধ ভোটার হয়েও' সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ পরিচালনা করা তাদের জন্য তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হ্যান্ডবুক অনুযায়ী, প্রিসাইডিং অফিসার ভোট কেন্দ্রের 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ' কর্মকর্তা, যার দায়িত্বে থাকা ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য তার 'পূর্ণ আইনি ক্ষমতা রয়েছে।'
প্রিসাইডিং অফিসারের হ্যান্ডবুকে আরও বলা হয়েছে, ''ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত সমস্ত কার্যকলাপের জন্য আপনি সম্পূর্ণরূপে দায়ী। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই আপনার প্রধান কর্তব্য।"
মুর্শিদাবাদের আখতার আলি সাত বছর ধরে একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তার দাবি, তিনি ইতিমধ্যেই চারটি নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিবিসিকে বলেন, "বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় আমি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার পিতার নাম চিহ্নিত করেছিলাম। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক নির্দেশ অনুযায়ী, তাতেই প্রমাণ হওয়া উচিত ছিল যে আমি বৈধ ভোটার। আমার নাম খসড়া তালিকায় ছিল। কিন্তু পরে 'যৌক্তিক অসঙ্গতি'র কারণ দেখিয়ে আমাকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়।"
মি. আলি জানান, তিনি শুনানিতে হাজির হয়ে কমিশনের উল্লিখিত ১৩টি নথির মধ্যে একাধিক নথি জমা দিয়েছিলেন।
"আমি আমার পিতার ভোটার কার্ড এবং ১৯৫১ সালের জমির দলিলও জমা দিয়েছিলাম। সেগুলি গ্রহণও করা হয়। কিন্তু পিতার নামের তথাকথিত অসঙ্গতির অভিযোগে আমি বিবেচনাধীন তালিকায় পড়ে যাই। অতিরিক্ত যাচাইয়ের পর দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে জানতে পারি, আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।"
তিনি জানান, প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ শুরুর আগের দিন তিনি জানতে পারেন তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণে হরিহরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম 'একতরফাভাবে' বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং যথাযথভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, "আমি, আমার পিতা-মাতা, দাদু-দিদা, আমরা সকলেই ভারতের নাগরিক। কিন্তু আমি এবং আমার ভাই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছি। বৈধ ভোটার হয়েও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক।"
তিনি আরও বলেন, "আমি বিচারব্যবস্থা ও সংবিধানের ওপর আস্থা রাখি। আপিলেট ট্রাইবুনালে আবেদন করেছি; প্রয়োজন হলে হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টেও যাব।"
তার দাবি, তার পরিচিত বহু ডাক্তার, শিক্ষক, এমনকি স্কুলের প্রধানশিক্ষকসহ একাধিক সরকারি কর্মচারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে।
মুর্শিদাবাদের মহঃ মোসলেউদ্দীন সুভানী এই নিয়ে অষ্টমবার প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, মোট ১২-১৩টি নির্বাচনে তিনি পোলিং কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।
কিন্তু এ বছর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় প্রথমবার তিনি নিজে ভোট দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, "আমরা ছয় ভাইবোন ২০০২ সালের তালিকায় একই পিতার নাম দেখিয়েছিলাম। কিন্তু কমিশনের নোটিসে বলা হয়, একজন পিতার ছয় সন্তান 'যৌক্তিক অসঙ্গতি'। শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েও দেখলাম আমাদের সবার নামই বাদ পড়েছে।"
তিনি সমশেরগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটার হলেও এ বছর ভগবানগোলা কেন্দ্রের একটি পোলিং বুথের দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি বলেন, "ট্রাইবুনালে আবেদন করেও সাড়া পাইনি। বৈধ ভোটার হয়েও অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি ভোটগ্রহণ পরিচালনা করেছি, কিন্তু নিজে ভোট দিতে পারিনি। এ এক অদ্ভুত ও কষ্টকর পরিস্থিতি।"
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ২৪শে এপ্রিল নির্দেশ দেয়, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬৫ জনেরও বেশি নির্বাচনী কর্মী যেন আপিলেট ট্রাইবুনালে আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৭শে এপ্রিলের মধ্যে যাদের বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, তারা ভোট দিতে পারবেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, Asian News International
বাদ গিয়েছিলেন সংবিধানের চিত্রকর নন্দলাল বোসের নাতি
রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। তাদের মধ্যে একজন সুপ্রবুদ্ধ সেন, যার পূর্বপুরুষ নন্দলাল বসু ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপির অলংকরণ করেছিলেন।
৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা এবং বোলপুর কেন্দ্রের ভোটার। তার দাবি, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
তিনি বিবিসিকে বলেন, "এসআইআরের সময় নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, আমার নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই। শুনানিতে আমি পাসপোর্ট, জমির দলিল, আধারসহ একাধিক নথি দেখাই। তারপর জানতে পারি, আমার নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে।"
পরে তিনি জানতে পারেন, তার, স্ত্রীর এবং দীর্ঘদিনের সহকারীর নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কারণ জানানো হয়নি তার দাবি।
"আমাদের বলা হয় ফর্ম ৬ ও ট্রাইবুনালে আবেদন করতে। সেটাও করেছি, কিন্তু সমাধান হয়নি। পরে শুনি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আমাদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত হয়েছে।"
তিনি জানান, ২৩শে এপ্রিল ভোট দিতে গিয়ে প্রথমে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়, কারণ পোলিং বুথে থাকা ভোটার তালিকায় তাদের নাম ছিল না।
"জেলা শাসকের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভোট দিতে পারব না, এমনটাই আমাদের বলা হয়। আমি তখন হাল ছেড়ে দিলেও আমার ছেলেমেয়েরা ছাড়েনি। অবশেষে বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ আমরা ভোট দিতে পেরেছি। হয়তো এটাই আমার জীবনের শেষ ভোট।"
পশ্চিমবঙ্গের বাদ যাওয়া ভোটারদের আবেদন ও আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করা হলে, সবর ইনস্টিটিউট নামে কলকাতার একটি সামাজিক গবেষণা সংস্থা একটি হেল্পডেস্ক চালু করে।
সবর ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক সাবির আহমেদ বিবিসিকে বলেন, "আমরা দিনে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি ফোন পাচ্ছিলাম বিভিন্ন জেলার বাদ যাওয়া ভোটারদের থেকে। গৃহকর্মী থেকে শুরু করে প্রখ্যাত ডাক্তার, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন। বেশিরভাগ মানুষেরই ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই।"
তিনি জানান, লিখিত আপিলের জন্য নির্ধারিত ১০০০ শব্দের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য রাখা এবং ভোটার হিসেবে তাদের যোগ্যতা ও নথিপত্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করা অনেক ভোটারের কাছেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য এবং সবর ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিলের ২২ তারিখের মধ্যে আপিলেট ট্রাইবুনালে বাদ যাওয়া ৮ জন ভোটারদের মধ্যে ৬ জন মহিলা ভোটার (৭৫%)। ২ জন পুরুষ ভোটার (২৫%)।
সবর ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এই ৩টি জেলার ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারদের নাম পুনরায় বাদ গিয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র পশ্চিম বর্ধমানেই ৮টির মধ্যে ৫টি (৬২.৫%) নাম বাদ গিয়েছে। এরপর রয়েছে মুর্শিদাবাদ (২) এবং পূর্ব মেদিনীপুর (১)।







