বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কোন ১০টি সাপ ও এর কতগুলো বিষধর?

গোখরা সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

    • Author, মরিয়ম সুলতানা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। ফলে বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা মিললে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই সাপটি চেনার আগেই মানুষ সেটিকে মেরে ফেলে।

অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাংলাদেশে যেসব সাপ আছে, তার ৮০ শতাংশই বিষধর না।

এইসব সাপের কোনোটি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে থাকে, কোনোটি কৃষিজমি বা জলাশয়ে, আবার কোনোটির দেখা মেলে গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম. মনিরুল এইচ. খানের 'ফটোগ্রাফিক গাইড টু দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অব বাংলাদেশ' বইয়ে বাংলাদেশে মোট ১০৫ প্রজাতির সাপ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশে ২৪ প্রজাতির সাপের উপস্থিতি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে ৮১ প্রজাতি সাপের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রজাতি বিরল এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। আবার কিছু সাপ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

আইইউসিএন বাংলাদেশ এমন ১০টি নাম জানিয়েছে। চলুন, সেগুলোর নাম, কোথায় বসবাস এবং কোনগুলো বিষধর, জেনে নিই।

ঢোঁড়া সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঢোঁড়া সাপ

ঢোঁড়া

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন সাপের একটি ঢোঁড়া।

এর বৈজ্ঞানিক নাম জেনোক্রোফিস পিসকেটর। ইংরেজিতে এটি চেকার্ড কিলব্যাক বা এশিয়াটিক ওয়াটার স্নেক নামে পরিচিত।

আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে এটিকে 'লিস্ট কনসার্ন' বা অনুন্যতম সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই ঢোঁড়া পাওয়া যায়। পুকুর, খাল, হ্রদ, ধীরগতির নদী, জলাভূমি, মাছের খামার ও ধানক্ষেতের মতো পানির কাছাকাছি পরিবেশ এদের পছন্দ। গ্রাম কিংবা শহরের বসতবাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয়েও তাই প্রায়ই এই সাপের দেখা মেলে।

ছোট ঢোঁড়া ব্যাঙের ডিম, ব্যাঙাচি, ছোট ব্যাঙ ও পোকামাকড় খায়। বয়স বাড়লে মাছ ও ব্যাঙের পাশাপাশি টিকটিকি, ইঁদুর এবং ছোট পাখিও শিকার করতে পারে।

মানুষের আশপাশে প্রায়ই দেখা গেলেও ঢোঁড়া বিষধর নয়। তবে বিপদের মুখে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য কামড় দিতে পারে।

এদের শরীর বাদামী রঙের, তার ওপর কালো ও হলুদ রঙের ছোপছোপ দাগ থাকে।

লাউডগা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লাউডগা সাপ

লাউডগা

লাউডগা বাংলাদেশের পরিচিত বৃক্ষচারী সাপগুলোর একটি।

আইইউসিএনের রেড লিস্টে আহেটুলা নাসুটা এবং আহেটুলা প্রসিনা, দুই প্রজাতির স্থানীয় নাম হিসেবেই লাউডগা বা সুতানলি সাপের উল্লেখ রয়েছে।

উভয় প্রজাতিই বাংলাদেশে অনুন্যতম সংকটাপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত।

লম্বা, সরু ও সবুজ দেহের কারণে গাছের ডালপালা ও পাতার সঙ্গে সহজেই মিশে থাকতে পারে লাউডগা। বন ও ঝোপঝাড়ের পাশাপাশি বাগান এবং মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের গাছেও এর দেখা মেলে। দিনের বেলায় এরা বেশি সক্রিয় থাকে এবং বেশিরভাগ সময় গাছেই কাটায়।

টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও অন্যান্য ছোট প্রাণী এদের খাবার। শিকার ধরার সময় গাছের ডালে প্রায় নিশ্চল হয়ে অপেক্ষা করতে পারে।

লাউডগা বিষধর না হলেও "চট করে কামড় দিয়ে ফেলে," বলছিলেন অধ্যাপক ফরিদ আহসান।

এরা বেশ লম্বা ও চিকন হয়। পাশাপাশি, গাছে বেশি থাকলেও এরা নিচে নামে মাঝে মাঝে।

কালনাগিনী সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কালনাগিনী সাপ

কালনাগিনী

উজ্জ্বল রঙের কারণে সহজেই নজর কাড়ে কালনাগিনী।

এর ইংরেজি নাম অর্নেট ফ্লাইং স্নেক। বৈজ্ঞানিক নাম ক্রাইসোপেলিয়া অর্নাটা।

নামের সঙ্গে 'নাগিনী' থাকলেও এটি গোখরা বা কেউটে গোত্রের সাপ নয়।

কালনাগিনী মূলত বৃক্ষচারী। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, বাগান এবং গাছপালাসমৃদ্ধ এলাকায় এদের দেখা যায়। গাছ বেয়ে ওঠায় অত্যন্ত দক্ষ এই সাপ এক গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় শরীর চ্যাপ্টা করে বাতাসে ভেসে কিছুটা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

এ কারণেই এর ইংরেজি নামে 'ফ্লাইং স্নেক' কথাটি এসেছে।

টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও বাদুড়সহ ছোট প্রাণী এদের খাবার। সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে।

ধারণা প্রচলিত আছে, এই সাপ ছোবল দিলেই নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু বাস্তবে এটি মানুষের জন্য সাধারণত বিপজ্জনক নয়।

অধ্যাপক আহসান বলেন, "কালনাগিনী দেখতে খুব সুন্দর। এই সাপ খুবই হালকা বিষধর। তবে এখন পর্যন্ত ওই বিষে কোনো মানুষ মারা যায়নি।"

ঘরগিন্নী সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঘরগিন্নী সাপ

ঘরগিন্নী

ঘরগিন্নী নামের সাপটি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে দেখা যাওয়ার কারণেই সম্ভবত এমন নাম পেয়েছে। আইইউসিএনের তালিকায় লাইকোডন অলিকাস, লাইকোডন জারা, লাইকোডন জাউইসহ একাধিক সাপের স্থানীয় নামের সঙ্গে ঘরগিন্নী নামটি যুক্ত রয়েছে।

ঘরের দেয়ালের ফাঁক, ইটের স্তূপ, পুরোনো ঘর, গাছের বাকল ও বসতবাড়ির আশপাশের আড়ালযুক্ত জায়গায় এদের দেখা যেতে পারে।

এরা মূলত নিশাচর। দিনের বেলায় লুকিয়ে থাকে এবং রাত হলে খাবারের সন্ধানে বের হয়।

টিকটিকি ও স্কিঙ্কজাতীয় ছোট টিকটিকি এদের অন্যতম প্রধান খাবার। মানুষের বাসা-বাড়িতে টিকটিকি বেশি থাকায় অনেকসময় খাবারের সন্ধানে ঘরেও ঢুকে পড়ে এরা।

এছাড়া, ছোট ইঁদুর ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও খেতে পারে। ঘরগিন্নী সাপ বিষধর নয়।

তবে শরীরের রঙ ও নকশার কারণে অনেক সময় বিষধর সাপ ভেবে মানুষ একে মেরে ফেলে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, এই সাপ চট্টগ্রাম অঞ্চলে খুবই পরিচিত।

পাতি দুধরাজ বা কমন ট্রিঙ্কেট স্নেক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাতি দুধরাজ বা কমন ট্রিঙ্কেট স্নেক

পাতি দুধরাজ

পাতি দুধরাজের বৈজ্ঞানিক নাম কোয়েলোগনাথাস হেলেনা। ইংরেজিতে এটি কমন ট্রিঙ্কেট স্নেক নামে পরিচিত। বাংলাদেশে পরিচিত নির্বিষ সাপগুলোর একটি এটি।

ঝোপঝাড়, বনাঞ্চলের প্রান্ত, কৃষিজমি এবং মানুষের বসতবাড়ির আশপাশেও পাতি দুধরাজের দেখা পাওয়া যায়। মাটিতে চলাচল করলেও প্রয়োজনে গাছেও উঠতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকায় লোকালয়েও এর দেখা মেলে।

ইঁদুর এই সাপের অন্যতম খাবার। এছাড়া, টিকটিকি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও খেতে পারে। ইঁদুর শিকার করায় কৃষিজমি ও বসতবাড়ির আশপাশে এদের দেখা যায়।

নামের মধ্যে 'দুধ' থাকলেও এই সাপ দুধ খেতে আসে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বেত আঁচড়া

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বেত আঁচড়া

বেত আঁচড়া

বেত আঁচড়া বা কমন ব্রোঞ্জব্যাক ট্রি স্নেকের বৈজ্ঞানিক নাম ডেনড্রেলাফিস ট্রিস্টিস। ইংরেজিতে এর নাম দাউদিন'স ব্রোঞ্জব্যাক।

এটি সরু ও লম্বাটে দেহের অত্যন্ত দ্রুতগতির একটি বৃক্ষচারী সাপ। তাই এটি স্থানীয়দের কাছে গেছো সাপ নামেও পরিচিত।

বন, ঝোপঝাড়, বাগান ও গাছপালাসমৃদ্ধ এলাকায় এই সাপের দেখা পাওয়া যায়।

মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত গাছপালা থাকলেও সেখানে চলে আসতে পারে। মাটিতে নামলেও এদের জীবনের বড় একটি অংশ গাছ ও ঝোপঝাড়েই কাটে।

এটি প্রধানত দিনের বেলা সক্রিয় থাকে। টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ এবং ছোট পাখি এদের খাবারের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত চলাফেরা এবং গাছে ওঠার দক্ষতা শিকার ধরতে সাহায্য করে।

বেত আঁচড়া বিষধর নয়। মানুষকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে এবং সুযোগ পেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

দাঁড়াশ সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দাঁড়াশ সাপ

দাঁড়াশ

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত বড় আকারের নির্বিষ সাপগুলোর একটি দাঁড়াশ।

এর বৈজ্ঞানিক নাম পিটিয়াস মিউকোসা এবং ইংরেজিতে ইন্ডিয়ান র‍্যাট স্নেক বা ওরিয়েন্টাল র‍্যাট স্নেক নামে পরিচিত।

কৃষিজমি, ঝোপঝাড়, গ্রামের বসতবাড়ি, পুকুরপাড় এবং মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়াশের দেখা পাওয়া যায়। মাটিতে দ্রুত চলতে পারে, আবার প্রয়োজন হলে গাছে ওঠা ও পানিতে সাঁতার কাটতেও সক্ষম।

ইঁদুর দাঁড়াশের অন্যতম প্রধান খাবার। এছাড়া ব্যাঙ, টিকটিকি, পাখি, ডিম ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও খায়। ইঁদুর শিকার করার কারণে কৃষিজমিতে এই সাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আকারে বড় এবং দ্রুত চলার কারণে দাঁড়াশ দেখে অনেকে ভয় পেলেও এটি বিষধর নয়। বিপদে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য কামড় দিতে পারে, তবে এতে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি নেই।

অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, দাঁড়াশ সাপে কামড় দিলে অনেকসময় মাংসও ছিঁড়ে যেতে পারে। এই সাপে কামড় খাওয়া সাধারণ ঘটনা।

ওয়াটার স্নেক ট্রাঅ্যাঙ্গেল কিব্যাক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ওয়াটার স্নেক ট্রাঅ্যাঙ্গেল কিব্যাক

মাইট্যা

মাইট্যা বা মেটে সাপ বলতে সাধারণত অলিভ কিলব্যাক ওয়াটার স্নেককে বোঝানো হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাট্রেটিয়াম স্কিস্টোসাম।

এটি মূলত পানির কাছাকাছি থাকা সাপ। পুকুর, জলাভূমি, ধানক্ষেত, খাল ও অন্যান্য স্বাদুপানির জলাশয়ের আশপাশে এদের দেখা যায়। জলজ পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ায় গ্রামীণ এলাকার পুকুর ও ধানক্ষেতেও মানুষের চোখে পড়ে।

ব্যাঙ, ব্যাঙাচি, মাছ এবং জলাশয়ের আশপাশে থাকা বিভিন্ন ছোট প্রাণী এদের খাবার। মাটি ও পানি দুই জায়গাতেই চলাচল করতে পারে।

মাইট্যা সাপ বিষধর নয়। জলাশয়ের কাছাকাছি বেশি দেখা যাওয়ায় অনেক সময় ঢোঁড়ার সঙ্গেও এটিকে গুলিয়ে ফেলা হয়।

এই সাপ সহজে কামড়ায় না, বলছিলেন অধ্যাপক আহসান।

গোখরা সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গোখরা সাপ

গোখরা

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

গোখরা বাংলাদেশের বহুল পরিচিত অত্যন্ত বিষধর সাপ।

বাংলাদেশে একাধিক প্রজাতির গোখরা পাওয়া যায়, যার মধ্যে মনোকল্ড কোবরা বা নাজা কাউথিয়া (পদ্ম গোখরা) এবং স্পেকট্যাকল্ড কোবরা বা নাজা নাজা (খৈয়া গোখরা) উল্লেখযোগ্য।

কৃষিজমি, ঝোপঝাড়, গ্রামের বসতবাড়ির আশপাশ, ইঁদুরের গর্ত, পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন আড়ালযুক্ত স্থানে গোখরার দেখা পাওয়া যেতে পারে। মানুষের বসতির আশপাশে ইঁদুরের উপস্থিতি থাকায় খাবারের সন্ধানে গোখরাও সেখানে চলে আসতে পারে।

অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, পদ্ম গোখরা ও খৈয়া গোখরা সারা বাংলাদেশেই আছে। পদ্ম গোখরা বেশি থাকে পানিযুক্ত এলাকার কাছাকাছি, আর খৈয়া গোখরা থাকে ধানক্ষেতে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পদ্ম গোখরা বেশি, রাজশাহীতে আবার খৈয়া গোখরা বেশি।

ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি এবং অন্যান্য সাপ এদের খাবারের মধ্যে রয়েছে।

বিপদের মুখে পড়লে গোখরা শরীরের সামনের অংশ উঁচু করে ফণা মেলে, যা এর সবচেয়ে পরিচিত আত্মরক্ষামূলক আচরণ।

গোখরার বিষ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দংশনের পর দ্রুত চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। তাই, গোখরা দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

অধ্যাপক আহসান বলেন, কোবরা ভালোভাবে কামড় দিলে আধ ঘণ্টার মাঝেই লক্ষণ দেখা যায়।

কমনক্রেইট বা কালকেউটে বা কালাচ নামে পরিচিত এ সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কমনক্রেইট বা কালকেউটে বা কালাচ নামে পরিচিত এ সাপ

কাল কেউটে

কাল কেউটে বাংলাদেশের পরিচিত বিষধর সাপগুলোর একটি। বাংলাদেশে যে কয়টি সাপের ছোবলে মানুষের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয়, এটি তার অন্যতম।

বাংলাদেশে বাঙ্গারাস গণের একাধিক প্রজাতির কেউটে রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে 'কাল কেউটে' বা 'কালাচ' নামটিও একাধিক কাছাকাছি প্রজাতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, গোখরার চেয়ে বেশি বিষধর হলো এই কালাচ সাপ।

কেউটে মূলত নিশাচর। দিনের বেলায় গর্ত, ইট-কাঠের স্তূপ, মাটির ফাটল কিংবা অন্য কোনো অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত জায়গায় লুকিয়ে থাকে।

রাত হলে খাবারের সন্ধানে বের হয়। মানুষের বসতবাড়ির কাছেও এদের দেখা যেতে পারে।

অন্যান্য সাপ এদের খাবারের বড় অংশ। পাশাপাশি, টিকটিকি, ব্যাঙ বা ছোট প্রাণীও খেতে পারে। রাতের বেলা সক্রিয় হওয়ায় অন্ধকারে মানুষের সঙ্গে হঠাৎ মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

অধ্যাপক আহসান আরও বলেন, কেউটে চুপচাপ থাকে এবং ফস করে কামড় দেয়। বোঝাও যায় না। তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে এর বিষের প্রভাব শুরু হয়। তার আগে হয় না।

কাল কেউটের বিষ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং গুরুতর বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। দংশনের শুরুতে ব্যথা বা ফোলা তুলনামূলক কম হলেও পরে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এই সাপের গায়ের রঙ সাদা কালো এবং এদের শিরদাঁড়া তুলনামূলত উঁচু।