ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে মার্কিন সরকার ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও আটক সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন যে, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

"অ্যাক্সিওস কিছুক্ষণ আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও তাদের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা সত্য নয়। আমি তাদেরকে কোনো প্রস্তাব দিইনি," ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ট্রাম্প।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনকে 'ভুয়া' আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, "অন্যান্য অনেক প্রতিবেদনের মতো অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটিও একটি প্রতারণা, যা মূলত ট্রাম্পবিরোধী মানসিকতাকে তৃপ্ত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।"

এর আগে, মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ইতি টানতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

খবরে এটাও দাবি করা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া এবং আটক সম্পদ ছেড়ে দিতেও রাজি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর সেটি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে খবরটি উড়িয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে, যুদ্ধ শেষ করা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সোমবার আরেক দফায় মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে নিউইয়র্ক থেকে তারা তেহরানের উদ্দেশে রওনা হন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাতারের একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সোমবারের বৈঠকটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

মি. আরাঘচি জোর দিয়ে বলেছেন, তার দেশের পক্ষ থেকে যে সাত দফা পরিকল্পনার কথা কাতারের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সেটির আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা।

তেহরান আশা করছে, মঙ্গলবারের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে তারা একটা জবাব পাবে।

"আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ওই শর্তগুলো সম্পর্কে অবহিত করা, সেইসঙ্গে অন্য সব দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও জানানো যে, এ বিষয়ে ইরানের একটি পরিকল্পনা রয়েছে," ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. আরাঘচি।

প্রস্তাবের শর্তগুলো "অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক" বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে ইরান 'নমনীয় হতে পারে' বলে গণমাধ্যমের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন মি. আরাঘচি।

"গত কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চলছে। সেগুলোতে ইরানের ওপর বিভিন্ন বিষয় আরোপ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি যে, ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট," বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গত শনিবার বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তেহরান এমন একটি চুক্তি করতে চাইছে যার মাধ্যমে তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, কারণ তারা 'খুব বাজেভাবে হারছে'।

ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে টেলিগ্রামে এক পোস্টে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

সেখানে তিনি বলেছিলেন, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের জন্য অপেক্ষা করবে।

এর একদিন আগে, গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সাংবাদিকদের আরাঘচি বলেছিলেন, 'প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে' একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব এবং এসব শর্ত দুই দেশের মধ্যে জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ আছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, "আমি তাদের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করছি"।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ গ্যাস ও তেল সরবরাহ পরিবহন করা হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

যদিও ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যেই হরমুজের ওপর 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' রয়েছে এবং 'বিপুল পরিমাণ তেল' এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

"তারা একটি চুক্তি করতে চায় এবং আমি মনে করি সেটা ভালো। আমিও চুক্তি করতে পছন্দ করি। কিন্তু সেই চুক্তি (ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের দিকে ইঙ্গিত করে) গ্রহণযোগ্য হবে না," বলেন ট্রাম্প।

তার এমন মন্তব্যকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে বর্ণনা করেছিল তেহরান।

ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার কাতারের প্রতিনিধিরা ইরানের কাছে ট্রাম্পের বার্তাটিই পৌঁছে দিয়েছেন। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব চাচ্ছে এবং এখন সেটার জন্যই অপেক্ষায় রয়েছে।