রোহিঙ্গাদের ত্রাণে লাগবে সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বেশি

মিয়ানমার রোহিঙ্গা বাাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, টেকসাফ-কক্সবাজার রাস্তা বরাবর রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি অস্থায়ী শিবির
    • Author, শাহনাজ পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এখন মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীর জন্য আশ্রয়, খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে এ মুহুর্তেই অন্তত ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার দরকার - বলছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো।

এসব সংস্থার এক যৌথ বৈঠকে অংশ নেয়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর কাছ থেকে আজ এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে খুব অল্প সময়ে এত বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা প্রবেশ করায় তারা ত্রাণ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিভিন্ন দেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে অর্থের প্রতিশ্রুতি মিললেও সমন্বিত-ভাবে উদ্যোগের একটি অভাব দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মজহারুল হক বলছেন, "হটাত করে যেভাবে মানুষের ঢল নেমে আসলো সেটাকে সামাল দেয়ার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি তো সেরকম ছিলো না। সেখানে একটা অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের অন্ন বস্ত্র সহ সব ধরনের সহায়তা দরকার। সবার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। যৌথ প্রচেষ্টা দরকার। এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়"

ইউএনএইচসিআর বলছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা পায় তিন লাখে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান বলছেন সেখানে প্রচুর জরুরী সহায়তা দরকার।

তিনি বলছেন, "পরিস্থিতি সেখানে খুবই কঠিন। আমরা যে দুটি শরণার্থী শিবিরে কাজ করি সেখানে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তারপরও নতুন করে শরণার্থীরা আসছে। আপনি যদি সেখানে যান তাহলে দেখবেন শুধু শরণার্থী শিবিরে নয়, সেখানকার স্কুল বা অন্যান্য যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো আমরা খুলেছি সেগুলো ঠাসাঠাসি অবস্থা। ক্যাম্পের বাইরে রাস্তার ধারে, ধান ক্ষেতে নিজেরাই তারা ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। খুব মরিয়া অবস্থা সেখানে এবং তাদের প্রচুর জরুরী সহায়তা দরকার"

মিয়ানমার রোহিঙ্গা বাাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, প্রতি দিনই আরো হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে ঢুকছে

ভিভিয়ান ট্যান বলছেন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে যে অঞ্চলে রয়েছেন সেখানে গত কয়েক দিন ধরে সাহায্য সংস্থাগুলো ঘুরে দেখেছে এবং একটি হিসেবের পর তারা মনে করছেন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রাথমিকভাবে এই মুহূর্তে ৭৭ মিলিয়ন ডলার দরকার।

তিনি বলছেন, "৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের নানা সংস্থা ও এনজিও গুলো একত্রিত হয়েছিলো এবং এর পর তারা বাংলাদেশে নানা এলাকা ঘুরে দেখেছে। তারা দেখতে চেয়েছে কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এ দফায় ঢুকল এবং এ মুহূর্তে সেখানে ঠিক কি দরকার। সংস্থাগুলো মনে করছে প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গাদের জরুরী সহায়তা দিতে এই মুহূর্তে ৭৭ মিলিয়ন ডলার দরকার হবে। এটি একটি প্রাথমিক হিসেব এবং এই অর্থের জন্য সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাছে আবেদন করছে"

ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া সহায়তা হিসেবে চার মিলিয়ন ডলার দেবে বলে জানিয়েছে। ডেনমার্ক তিন মিলিয়নের একটু বেশি দেবার কথা বলেছে ডেনমার্ক। মালয়েশিয়ার সরকার খাদ্য সহায়তার কথা জানিয়েছে। সহায়তার প্রস্তাব করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে তারা রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের যে ১৯০ টি সদস্য দেশ রয়েছে তাদের কাছে ১২ মিলিয়ন ডলার আহবান করবেন।

বিভিন্ন দেশ বা সংস্থা থেকে এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিললেও সমন্বিত-ভাবে উদ্যোগের একটি অভাব দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সরকারও কি পরিমাণে তহবিল দরকার তার মূল্যায়ন করে উঠতে পারে নি।

বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলছেন, "পুরনো ক্যাম্পে যারা প্রবেশ করেছে তাদের ইউএনএইচসিআর ও ডব্লিউএফপি খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। যারা বাহিরে উখিয়া ও টেকনাফে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের সহায়তা করছে আইওএম। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন এজেন্সি সহায়তা করছে। সামগ্রিকভাবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা সমন্বয় করছি"

তিনি বলছেন, কি পরিমাণে অর্থ ও খাদ্য এই মুহূর্তে লাগবে সেটিই তারা এখন মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এসব কিছুর মধ্যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্রোত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: