নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করলো 'ঋতব্রত শিবির'

ছবির উৎস, ANI
ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জী। তার নেতৃত্বে তৃণমূলের বিদ্রোহী সদস্যদের নিয়ে তৈরি ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
তৃণমূলের তহবিলে থাকা টাকার মালিকানা ও জোড়া ফুলের প্রতীক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর দলের কাছে থাকবে, না কি ঋতব্রত ব্যানার্জীর শিবির তা পাবে- সে বিষয়ে জল্পনা চলছে।
এদিকে, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত ব্যানার্জী সাংবাদিকদের বলেন, “২২শে জুন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিশেষ অধিবেশন ছিল। অধিবেশনের পরপরই আমরা নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে জানাই এবং কলকাতায় নির্বাচন কমিশনে দেখা করি। সেই সময় আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম।”
“প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা আজ ধৈর্য ধরে আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা আশাবাদী যে নির্বাচন কমিশন শিগগিরই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।”
অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ ব্যানার্জীর মতো নেতারা বরাবরই ঋতব্রত ব্যানার্জী এবং তার সমর্থনে থাকা সদস্যদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা বিধায়কদের নতুনভাবে নির্বাচনে জেতার জন্য চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন।
সেই প্রসঙ্গে ঋতব্রত ব্যানার্জী বলেন, “আমি (মমতা ব্যানার্জী নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের) দাবির বিষয়ে কথা বলতে চাই না। ২৯১টি আসনের সর্বত্র মমতা ব্যানার্জীর ছবি ছিল, তবুও টিএমসি হেরেছে। বাংলার জনরায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে গেছে।”
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন মমতা ব্যানার্জী নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করায় অভ্যন্তরীণ সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহী দলটি পরে বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঋতব্রত ব্যানার্জীকে সমর্থন জানায় এবং মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জীকে একটি নতুন ৩০ সদস্যের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (এনডব্লিউসি) ঘোষণা করে।
আরো পড়তে পারেন: তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে নিমেষে তিন টুকরো হলো যে তিনটি কারণে


