সুনামগঞ্জে 'ইসলামপন্থিদের' আপত্তির মুখে নারীদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করেছেন আয়োজকেরা।
জেলার দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে সোমবার বিকেলে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
খেলার আয়োজক সংগঠন 'স্বপ্নচূড়া স্পোটিং ক্লাবে'র পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে, সিলেটের জারা স্পোটিং ক্লাবের মেয়েদের সঙ্গে স্বপ্নচূড়া স্পোটিং ক্লাবের মেয়েদের ওই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের বিষয়ে তারা আগেই উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন।
খেলা উপলক্ষ্যে জারা স্পোটিং ক্লাবের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা সিলেট থেকে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ চলেও এসেছেন।
পরে রোববার শরিফ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে 'অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে' খেলা বন্ধের আবেদন জানান।
পরে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আয়োজকদের জানান এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন।
কিন্তু বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কায় একপর্যায়ে খেলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এদিকে, খেলা নিয়ে আপত্তি তোলা ব্যক্তিরা নিজেদেরকে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন। শরিফ উদ্দিন ওই কমিটির সভাপতি বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, "আমরা আগে শুনেছিলাম, কিশোরীদের ফুটবল খেলা হবে। কিন্তু পরে মাইকিং করে বলা হয় যে, মহিলাদের ফুটবল খেলা হবে। দিরাইয়ে এর আগে এভাবে মহিলাদের কোনো ফুটবল খেলা হয়নি।"
"আমরা খেলাধূলার বিরোধী নই, আমরা অশ্লীলতার বিরোধী," সাংবাদিকদের বলেন মি. উদ্দিন।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে দিরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেন যে, তারা খেলা বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা দেননি।
"স্থানীয় আলেমদের একটি পক্ষ আমার কাছে এসে জানিয়েছে যে, খেলার মাঠের কাছেই একটি মাদ্রাসা রয়েছে। কাজেই সেখানে মহিলাদের ফুটবল ম্যাচ হলে বাধার মুখে পড়তে পারে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে," বলেন মি. সরকার।
খেলার যারা আয়োজক এবং যারা আপত্তি তুলেছেন- উভয়পক্ষই একই এলাকার বাসিন্দা জানিয়ে ইউএনও আরও বলেন, "তারা একই এলাকার হওয়ায় আমরা বলেছি যেন বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে একটা সমাধানে পৌঁছায়। পরে আয়োজকরা জানিয়েছেন যে, তারা খেলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আমরা বন্ধ করতে বলিনি।"