ট্রাম্প বললেন রোববার চুক্তি হবে, সময় নিয়ে সংশয় তেহরানের

ছবির উৎস, Reuters
- Author, জারোস্লাভ লুকিভ
- Published
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচী নিয়ে ইরান সন্দেহ প্রকাশ করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন রোববার চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি হওয়ার পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি 'সবার জন্য উন্মুক্ত' থাকবে।
এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা পাকিস্তানও জানিয়েছে যে চুক্তিটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা এজন্য 'ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি' নিচ্ছে।
অবশ্য ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচী নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন: "সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঠিক তারিখ সম্পর্কে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, তবে এটি আগামীকাল হবে না।"
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, "চুক্তিটি আগামীকাল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।"
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, "যথাযথ সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা সেখানে গিয়ে 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' নিয়ে আসব"।
এবং পরে সেটি ধ্বংস করা হবে বলে জানান তিনি।

ছবির উৎস, Atta Kenare / Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে।
তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় -বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার জন্য।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, বিষয়গুলো যদি দ্রুত, সহজে এবং মসৃণভাবে সমাধান না হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের কাছে 'চূড়ান্ত বিকল্প' রয়েছে, যা তিনি আশা করেন 'আর কখনও ব্যবহার করতে হবে না'।
এর আগে শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছিলেন: "আমরা শান্তি চুক্তির আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি কাছাকাছি অবস্থানে আছি।"
সামাজিক মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লিখেছেন: "আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পরের সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।"
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তার দেশ।
তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতেরও অবসান ঘটবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধও তুলে নেওয়া হবে।
তবে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেছেন, ইরানের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া নির্ভর করবে তেহরান তার প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করে তার ওপর।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে লেবানন এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। যদিও ইরান এটি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সময়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যায়ে গিয়ে তা সম্পন্ন হয়নি।
এই যুদ্ধের সূচনা হয় ২৮শে ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়।
জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালায় এবং কার্যত বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মাঝে মাঝে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে গেছে, যার মধ্যে চলতি সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি দুটি দফা হামলাও রয়েছে।








