আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনকে 'কুড়াল দিয়ে আঘাত করেছিলেন কো-পাইলট'
- Author, এলা কিপলিং
- Published
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা কো-পাইলট একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে পাইলটকে আক্রমণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই ফ্লাইটে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। যাত্রার আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি ১৭ হাজার ফুট (৫২০০ মিটার) নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রীরা হামলাকারীকে দমাতে সক্ষম হন এবং সফলভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বলেন, আহত অবস্থায় তিনি মেঝেতে পড়ে ছিলেন, যখন তিনি বুঝতে পারেন বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে এবং তাকে কিছু করতে হবে। তিনি বলেন, "আমি নিজেকে বলেছিলাম, শেষ একবার চেষ্টা করে ভেতর থেকে দরজাটি খুলতেই হবে", যার ফলে যাত্রীরা ককপিটে প্রবেশ করতে পারেন।
পরে দুজন রিজার্ভ পাইলট নিরাপদে বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণ করান।
জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সাধারণত ককপিটে একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স রাখা হয়।
এমন একটি সংবেদনশীল পথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা তদন্তকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে, অস্ত্রটি সম্ভবত একটি ছুরি হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি ও এর পেছনের উদ্দেশ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতে, হামলা চালানো কো-পাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক।
রয়টার্স, সিএনএন এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম তার নাম হামাম আল-হাম্মামি বলে উল্লেখ করেছে; তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ওমান এয়ারে কর্মরত থাকাকালে তার উগ্রপন্থি মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ওমানের জাতীয় এয়ারলাইনে তাকে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে তিনি দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে তিন বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি অর্জন করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, সেখানে তিনি কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীকে বিমানে নিয়ন্ত্রণে আনার পর তিনি ক্রু সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, "আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো!"
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "তাই এটা স্পষ্ট যে তিনি আত্মঘাতী ছিলেন... খুব সম্ভবত তিনি বিমানটি বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, হামলাকারী "ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন"।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের এই "ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না" সে ব্যাপারে দেশটি তদন্ত শুরু করেছে।
হামলায় ছুরিকাহত হওয়া মাচ্ছারকে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে তাকে বিমানে করে আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের দূতাবাস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ভারতের এই পাইলট "সুস্থ আছেন এবং ভালোভাবে সেরে উঠছেন"।
মাচ্ছার বলেন, "আমি আত্মবিশ্বাসী যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবারও কাজের জন্য ফিট হতে পারব।"
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
প্রথমে বিমানটি 'সাধারণ জরুরি অবস্থা' নির্দেশকারী স্কোয়াক ৭৭০০ সংকেত দেয়। পরে এটি স্কোয়াক ৭৫০০-এ পরিবর্তিত হয়, যা 'বেআইনি হস্তক্ষেপ' বা ছিনতাইয়ের সংকেত।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন যাত্রী বর্ণনা করেন, কীভাবে তিনি বুঝতে পারেন যে কিছু একটা ভুল হচ্ছে।
আলমগ ইতালি বলেন, "হঠাৎ বিমানটি যেন রোলার কোস্টারের মতো নিচের দিকে নামতে শুরু করল, প্রচণ্ড জি-ফোর্সের সঙ্গে। এটি ২০ বা ৩০ সেকেন্ড দ্রুত নিচে নামল, তারপর কিছুটা স্থিতিশীল হলো, এরপর আবার নিচে নামতে শুরু করল।"
এরপর লোকজন ককপিটের দিকে ছুটে যেতে শুরু করেন বলে তিনি জানান।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বৃহস্পতিবার বলেন, ককপিট থেকে আসা গোলমালের শব্দ শুনে একজন ইসরায়েলি নারী, তালি মানেস, প্রথমে সতর্কতা জারি করেন।
তার স্বামী জভিকা মানেস, এবং আরও তিনজন, ইয়ানিভ হায়ুন, ড. শোতা মুসায়েভ ও আসাফ রাজুয়ান, ককপিটে প্রবেশ করেন।
আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার দরজা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর প্রকাশিত এক ভিডিওতে হায়ুন বলেন, হামলাকারী "বিমানের যন্ত্রপাতি ধ্বংস করার চেষ্টা করছিল, যাতে বিমানটি অক্ষম হয়ে পড়ে"।
হায়ুন এরপর বর্ণনা করেন, কীভাবে তিনি হামলাকারীর গলায় চেপে ধরে তাকে ককপিটের বাইরে টেনে আনেন। পরে অন্য যাত্রীরাও তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন।
তিনি আরও বলেন যে তিনি বিমানের "কন্ট্রোল টেনেছিলেন"।
তিনি বলেন, "বিমানটি কিছুটা হলেও সমতলে ফিরতে শুরু করল, এরপর (আরেকজন) পাইলট আমাকে বললেন যে তিনি সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন।"
বুধবার সন্ধ্যায় সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ছুরিকাহত পাইলট, যাত্রীরা এবং দ্বিতীয় ক্রু দল "আরেকটি ৯/১১ ধরনের বিপর্যয় প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছেন।"