আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালি থেকে যেভাবে বের হয়ে এলো বাংলার জয়যাত্রা
- Author, মুকিমুল আহসান
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস আটকে আটকে থাকার পর অবশেষে ৩১ জন নাবিক নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। বাংলাদেশের সময় রোববার ভোর রাত তিনটার কিছু পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বা বিএসসি'র জাহাজ 'এমভি বাংলার জয়যাত্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিলেও শিগগিরই দেশে ফিরছে না বলেও জানিয়েছে মালিকানা প্রতিষ্ঠান বিএসসি।
জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকা থাকার কারণে জাহাজের তলদেশে শ্যাওলা জমা পড়েছে। এছাড়াও ফুজাইরাহ থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা হবে।
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমভি বাংলার জয়যাত্রা' গত ২৬শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে পারেনি। বরং, এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।
জাহাজটিতে নাবিক-ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তেও দেখছেন তারা।
অনেকটা বন্দিদশা থেকে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার বিষয়টিকে একটি দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রার অবসান হিসেবে দেখছেন জাহাজটিতে থাকা নাবিকেরা।
জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "আমাদের বন্দিদশা শেষ হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই একটি মৃত্যুকূপের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা"।
এদিকে, বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঘটনাকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
যেভাবে প্রস্তুতি ও যাত্রা শুরু
'বাংলার জয়যাত্রা' জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখ।
এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি। পরে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি কাতারের একটি বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি। পরে চলতি বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি কাতারের একটি বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির পর ফেব্রুয়ারির শেষে বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি। এরপর তিন দফায় হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বাংলার জয়যাত্রা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি তারা।
যে কারণে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে শারজাহ অ্যাঙ্কারেজে নোঙর করে ছিল বাংলার জয়যাত্রা।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে সুইজারল্যান্ডে চলছে আলোচনা। এর মধ্যেই কিছু কিছু জাহাজ ইরানের সামরিক বাহিনী বা আইআরজিসির অনুমতি নিয়ে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে শুরু করে গত রোববার থেকে।
জাহাজটির একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন "আমাদের জাহাজ অপারেট করে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি। তারা আমাদেরকে জানায় যে ভারবালি হরমুজ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে। তোমরাও মুভ করতে পারো"।
প্রাথমিকভাবে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় সোমবার সকালেই।
বিএসসির এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে বলেন, "যেহেতু আমরা আরো কয়েকটি জাহাজের মুভমেন্ট দেখতে পারছিলাম মেরিন ট্রাফিক ওয়েবসাইটে। সে কারণে আমরাও মুভমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন আমি আমাদের ক্যাপ্টেনকে বললাম হরমুজ প্রণালির দিকে মুভ করতে"।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজগুলোর জন্য এই প্রণালি পাড়ি দেওয়ার জন্য দুইটি অপশন ছিল। প্রথমত ইরানের চাহিদামাফিক টোল দিয়ে হরমুজ পাড়ি দেওয়া। দ্বিতীয়ত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসা।
মি. মালেক বলছিলেন, "আমরা দেখলাম কেউ কেউ টোল দিয়ে বের হয়ে আসছে। আমাদের টোল দেওয়ার টাকাও ছিল। কিন্তু আমরা যদি ইরানকে টোল দেই তাহলে আবার যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনেরও শঙ্কা ছিল। যে কারণে আমাদের অনেকটা কৌশলে সেখান থেকে রেব হয়ে আসার রাস্তা খুঁজতে হয়েছে। এবং আমরা সফল হয়েছি"।
জাহাজটিতে থাকা নাবিকেরা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ফিরে যেতে হতে পারে এমন আশঙ্কার জায়গা থেকে জাহাজটি শুরুতে অনেক ধীর গতিতে চলছিল।
হরমুজ পাড়ি দিতে যে কৌশল
ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটি চ্যানেল হরমুজ প্রণালি। এর ঢোকা এবং বেরনোর অংশ ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত। মাঝে সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে এই প্রণালির বিস্তৃতি প্রায় ৪০ কিলোমিটার।
পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানী তেল রপ্তানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। হরমুজ প্রণালি হচ্ছে ইরানের জ্বালানী তেল রপ্তানির প্রধান রুট। ইরানের অর্থনীতির জন্য এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালির কেন্দ্রীয় অংশটা বড় জাহাজ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গভীর। ভারী তেল ট্যাংকারগুলোর কথা মাথায় রেখে সামুদ্রিক নেভিগেশন চার্টে একটা নিরাপদ ইনবাউন্ড লেন, একটা নিরাপদ আউটবাউন্ড লেন এবং এই দুইয়ের মাঝে একটা বাফার জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই, বড়সড় জাহাজগুলোকে মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটা চ্যানেল ধরে চলাচল করতে হয়।
বাংলার জয়যাত্রায় থাকা নাবিকেরা বিবিসি বাংলাকে জানান, সোমবার রাতেই হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি। যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম (টিএসএস) বা নৌযান চলাচল পৃথকীকরণ ব্যবস্থা চালু হয়।
নাবিকদের ভাষ্যমতে, এই টিএসএস'র মধ্যেই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সামুদ্রিক মাইন স্থাপন করে ইরান।
বাংলার জয়যাত্রার চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমরা টিএসএস দিয়ে আসতে পারিনি। সে কারণে আমাদের পাড়ি দেওয়ার পথটি ছিল আরেকটু বেশি। যদি টিএসএস দিয়ে আসতাম তাহলে ২৫ নটিক্যাল পথ পাড়ি দিলেই হতো। কিন্তু এবার আমাদের পুরোটা হরমুজের ৩৫ নটিক্যাল মাইল পথ"।
জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ইঞ্জিনও কিছুটা ধীরে চালাতে হয়েছে। হরমুজে প্রবেশের আগে সাড়ে সাত নটিক্যাল মাইল এবং হরমুজে প্রবেশের পর ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চালাতে হয়েছে।
চিফ ইঞ্জিনিয়ার মি. হাসান বলছিলেন, "দ্বিতীয় আরেকটি ভয় আমাদের কাজ করছিল সেটি হলো কোর্স অল্টার। অর্থাৎ যদি এমন হয় আবার আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরতে হতো সেই কারণে আমরা খুব বেশি গতিতে জাহাজটি চালাইনি"।
তিনি জানান, বাংলার জয়যাত্রা যখন হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছিল তখন কাছাকাছি দূরত্বে সব মিলিয়ে তিন থেকে চারটি জাহাজ ছিল। হরমুজ পাড়ি দেওয়ার সময় সে সময় ইরানের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও ঘোষণা তারা শুনতে পেয়েছিলেন যে, কোন ধরনের মিলিটারি জাহাজ প্রণালি দিয়ে পার হতে গেলে গুলি করা হবে।
ওই বার্তা তাৎক্ষণিকভাবে মালিকানা প্রতিষ্ঠানকে বিএসসিকে পাঠায় জাহাজের ক্র'রা। এদিকে পুরো যাত্রাপথটি বড় স্ক্রিনে বিএসসি কার্যালয়ে মনিটর করছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও শিপিং কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলার জয়যাত্রার এমডি কমডোর মাহমুদ মালেক বিবিসি বাংলাকে বলেন, "হঠাৎ এ ধরনের বার্তা পেয়ে জাহাজের নাবিকরা কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমাদের কাছেও অডিও বার্তা পাঠানো হলো। আমরা তখন ভাল করে শুনলাম এই নির্দেশনা মিলিটারি জাহাজের জন্য। তখন আমরা তাদের তখন আশ্বস্ত করলাম"।
পরে সাড়ে তিনঘণ্টার চালিয়ে যখন বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ অতিক্রম করে তখন বাংলাদেশের সময় ভোর রাত সাড়ে তিনটা।
হরমুজ থেকে বের হয়ে সাড়ে তিনটার কিছু পড়ে বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান, "দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমরা নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন"।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর
জাহাজটি বাংলাদেশে ফিরবে কবে?
গত জানুয়ারিতে ৩১ জন নাবিক নিয়ে বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি বাংলাদেশ ছেড়েছিল। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি। পরে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি কাতারের একটি বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
জাহাজ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১১ই মার্চ জেবেল আলী বন্দরে স্টিল কয়েল কার্গো সফলভাবে খালাস করে জাহাজটি। তারপর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে প্রায় ৩৭,০০০ মেট্রিক টন সার নিয়ে জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন ও ডারবান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ও পরে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি বাংলার জয়যাত্রা।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের এমডি মাহমুদ মালেক বিবিসি বাংলাকে জানান, জাহাজটি একটি চুক্তির আওতায় থাকায় যতদিন পারস্য উপসাগরে আটকা ছিল প্রতিদিনই তার জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। যে কারণে আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বাংলাদেশ।
মি. মালেক বলেন, "এই সময়ে আমরা প্রতিটি নাবিককে অতিরিক্ত মজুরি দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ক্রুদের দৈনিক সাত ডলার করে দেওয়া হয়। বাংলার জয়যাত্রার ক্রু যারা আটকা পড়েছিলেন তাদের এই অবরুদ্ধ সময়ে আমরা ১২ ডলার করে মজুরি দিয়েছি। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের 'ওয়ার ওয়েজ' বা যুদ্ধকালীন মজুরি দিয়েছি, ঈদের সময় স্পেশাল প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে"।
হরমুজ প্রণালি থেকে বের হয়ে আগামী দুই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের আউটার বারে থাকবে জাহাজটি। সেখান থেকে পরে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে বাংলার জয়যাত্রা।
চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বলেন, "আমাদের কাছে আর ২৪ দিনের তেল আছে। সে কারণে আমরা ফুজাইরাহতে ১২শ টন এইচএফও বা ভারী জ্বালানি তেল নেবো। জাহাজের তলদেশের ময়লা পরিষ্কার করা শেষে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ডারবানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবো। যেহেতু জাহাজে সার বোঝাই রয়েছে"।
তার কাছে প্রশ্ন ছিল যে এতদিন আটকা থাকার পর সেখান থেকে বের হয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চান কী-না নাবিকেরা।
জবাবে মি. রাশেদুল হাসান বলছিলেন, "আমরা সেই ঝুঁকির জায়গা থেকে, মৃত্যুকুপ থেকে বের হয়ে এসেছি। এখন আমাদের আর সেই ফেরার তাড়া নেই"।
জাহাজটির দেশে ফেরার বিষয়ে প্রায় একই রকম বলেছেন বিএসসির এমডি মি. মালেক। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অন্য রুটগুলোতে পণ্য পরিবহন করবে জাহাজটি। দক্ষিণ আফ্রিকায় পণ্য খালাস করেই যে দেশে ফিরবে এমন কোন তাড়া নেই জাহাজ কর্তৃপক্ষের।