টি-২০ বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে মরিয়া ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল

ছবির উৎস, Sam Mellish/Getty Images
একদিনের বিশ্বকাপ জেতার পর ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলকে নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও এর আগে তারা টি-২০ বিশ্বকাপ জেতেনি।
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ১২ই জুন থেকে।
ভারতীয় দল এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ইংল্যান্ডে পৌঁছেছে।
রোববার প্রথম ম্যাচে তারা মুখোমুখি হতে চলেছে পাকিস্তানের। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বরাবরই ক্রিকেটপ্রেমীদের বাড়তি আগ্রহ থাকে।
একই দিনে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ছবির উৎস, Alex Davidson-ICC/ICC via Getty Images
হরমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে কেমন এবারের নারী দল?
ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হরমানপ্রীত কৌর। দলের সহ অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। ভারতের ১৫ সদস্যের দলে শেফালি ভার্মা, জেমিইমা রদ্রিগেজ, ভারতী ফুলমালি ও রিচা ঘোষের রয়েছেন।
দলে ফিরেছেন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া ও রাধা যাদব, পেসার হিসেবে নেওয়া হয়েছে নন্দিনী শর্মাকে, যার সদ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে।
ভারতের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা তাদের ওপেনিং জুটি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মৃতি মন্ধনা এবং শেফালি বর্মার জুটি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বিপজ্জনক পার্টনারশিপ।
স্মৃতি মান্ধনা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের তীর সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। ২০২৫ সালে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১২৯, যা ২০২৬ সালে ১৪৬-এ পৌঁছেছে। তিনি ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তি।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, Alex Davidson-ICC/ICC via Getty Images
টিমকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কোচও
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে, বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে দলের অনুশীলন চলাকালীন বিবিসি মারাঠির সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধান কোচ অমোল মুজুমদার জানান, "আমি যখন এই পদের জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন এটিকে পুরুষ বা নারী দল হিসেবে দেখিনি।"
"আমি এটিকে ভারতীয় ক্রিকেট দল হিসেবেই দেখেছি। আমার লক্ষ্য ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের সেবা করা। বিরাট বা রোহিতকে আমি যা বলতাম, হরমানপ্রীত বা স্মৃতি মান্ধানাকেও ঠিক তাই বলি। কিছু বিষয় হয়ত আলাদা, তবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।"
অমোল মজুমদার মনে করেন, "মূল কথা হলো, নিজের কাজটা সঠিকভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে করে যাওয়া।"
একদিনের বিশ্বকাপ জিতলেও টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের পারফরম্যান্স যদি দেখা যায়, ২০২০ সালে তারা এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সেবার ভারতের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
এবার কি সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে তারা? হরমনপ্রীত কৌরদের কাছে সেটাই চ্যালেঞ্জ। তবে সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ার্ম আপ ম্যাচ জিতে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে ভারতীয় দল।

ছবির উৎস, Sam Mellish/Getty Images
ইংল্যান্ডের আবহাওয়া বড় প্রতিকূলতা
ভারতের প্রধান কোচের মতে, "টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কাউকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তা করলে তার মাশুল গুনতে হবে।"
ইংল্যান্ডের মাটিতে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় খেলা নিয়ে সতর্ক প্রধান কোচ। তিনি জানিয়েছেন, "আমরা গত বছর ইংল্যান্ড সফর করেছিলাম। সেখানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত প্রথমবার ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল এবং ওয়ানডে সিরিজটিও ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।"
"দলের গঠন প্রায় একই রয়েছে, মাত্র দু-তিনটি পরিবর্তন হয়েছে। তাই ইংল্যান্ডে খেলার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস—দুটোই আমাদের আছে। বেঙ্গালুরুর আবহাওয়া ইংল্যান্ডের মতো নয় ঠিকই, তবে আমরা এখানে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পিচ তৈরি করতে পারি— যেমন, কিছুটা ঘাসযুক্ত পিচ, যেখানে বল কিছুটা মুভ করে। ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব না হলেও, আমরা তার কাছাকাছি পরিবেশ তৈরি করতে পারি।"
ইংল্যান্ড সফরের আগে, ২০২৬ সালে ভারতীয় দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ সফরে অংশ নিয়েছিল। মি. মুজুমদার বিবিসিকে জানিয়েছেন, হার থেকে দল কী কী শিক্ষা নিয়েছে।
"আমরা আলোচনা করেছি যে কোন কোন জায়গাগুলোয় আমাদের বেশি করে নজর দিতে হবে। কোথায় কোথায় উন্নতির প্রয়োজন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলটির গঠন প্রায় একই ছিল, শুধু নন্দিনী শর্মা ছাড়া রাধা যাদব দলে ফিরেছেন। আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, মাসখানেক আগে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়েছি।"

ছবির উৎস, Sonu Mehta/Hindustan Times via Getty Images
ভারতে নারী ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে
২০২৫ সালে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতে নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই বোঝা যাচ্ছে।
নারী ক্রিকেট নিয়ে সম্প্রতি বিবিসির করা একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে অনেক তথ্য। ভারতের ১৪টি রাজ্যের ১০,০০০-এরও বেশি নারীর ওপর করা বিবিসি-র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে একজন জানিয়েছে যে তারা ক্রিকেট খেলে।
৪০ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা সপ্তাহে অন্তত একবার ক্রিকেট খেলে। ১৫-২৪ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে ২৬ শতাংশ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চায়।
৪৩ শতাংশ নারী জানিয়েছিল যে তারা গত ছয় মাসে সরাসরি লাইভ নারী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখেছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন সেই কারণেই সমাজ মাধ্যমে নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা রয়েছে।

ছবির উৎস, Sam Mellish/Getty Images
নারী টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট কবে কোথায়?
আইসিসি নারী টি-২০ বিশ্বকাপের দশম আসরটি আয়োজন করছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস। মোট ৩৩টি ম্যাচ খেলা হবে। টুর্নামেন্টটিতে মোট ১২টি দল অংশগ্রহণ করছে।
২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে এই ১২টি দলকে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দলগুলি নকআউট পর্বে পৌঁছবে। ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৫ই জুলাই লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট মাঠে।
আয়োজক দেশ হিসাবে ইংল্যান্ড সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া ২০২৪ বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ দল নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান তাদের র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে জায়গা পেয়েছে।
এছাড়াও বাছাইপর্ব পেরিয়ে সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড।
অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে 'গ্রুপ এ'-তে রয়েছে ভারত। একই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
গ্রুপ ম্যাচের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কোচের দাবি, আমাদের গ্রুপটি বেশ শক্তিশালী। এতে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
"আইসিসি টুর্নামেন্টে কোনো দলই দুর্বল নয়, আবার কোনো দলই অজেয় নয়। আইসিসি ইভেন্টগুলোতে এক ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে। ম্যাচের দিন সেই চাপ সামলে নিতে পারলে জয় নিশ্চিত।"
নিউজিল্যান্ড গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড নিজেদের ঘরের মাঠে খেলবে। ভারতীয় দল কি একদিনের ক্রিকেটের মতো টি-২০ ক্রিকেটেও সেরার শিরোপা জিততে পারবে?
ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা সেই দিকেই তাকিয়ে।








