একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট যেভাবে লিবিয়ায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্যের ঢেউ ছড়িয়ে দিল

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, আহমেদ নুর, রোয়ান ইংস
- Role, বিবিসি আরবি ও বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
একটি মাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট জুন মাসে লিবিয়ায় অভিবাসী ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ভুল তথ্যের একটি ঢেউ সৃষ্টি করেছিল বলে বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে।
তেসরা জুন, মিশরের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করা হয় যে, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) "অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে আট লাখ ৫০ হাজার আফ্রিকান অভিবাসীকে লিবিয়ার জনসংখ্যার মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে"।
তথ্যটি মিথ্যা ছিল।
২০২৬ সালের জুন মাসের শত শত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট বিবিসি বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এই দাবি পরে একই সময়ে লিবিয়া, মিশর ও তিউনিসিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আপাতদৃষ্টিতে কৃত্রিম একটি অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা আরও বাড়িয়ে তোলা হয়।
দাবিটিকে "সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা" বলে ইউএনএইচসিআর-এর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি খুব কমই প্রচার পায়।
একদিনের মধ্যেই প্রতিবাদকারীরা ত্রিপোলিতে ইউএনএইচসিআর-এর সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হয়, প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে, তাঁবু স্থাপন করে এবং ফটকের সামনে বালুর স্তূপ তৈরি করে।
তারা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা দাবিগুলোর পুনরাবৃত্তি করে এবং সংস্থাটিকে দেশ ছাড়ার দাবি জানায়।
ইউএনএইচসিআর বলেছে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের পুনর্বাসনের কথিত পরিকল্পনা নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্য জাতিসংঘের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিয়েছে, যার মধ্যে ত্রিপোলিতে সংঘর্ষ এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাওয়িয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
উত্তর আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ের এমন উদাহরণগুলোর মধ্যে এটি একটি, যেখানে অভিবাসন নিয়ে অনলাইন ভুল তথ্যের বাস্তব জীবনে প্রভাব পড়েছে।
ভুয়া দাবির সঙ্গে সম্প্রতি মরক্কো থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী অঞ্চল সিউতায় হাজার হাজার অভিবাসী এসে উপস্থিত হওয়ারও সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে, লিবিয়ায় থাকা অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা জানান।
মারিয়াম আলী (এটি তার প্রকৃত নাম নয়), লিবিয়ায় আশ্রয়প্রার্থী একজন সুদানি সাংবাদিক, যিনি বিবিসিকে বলেন যে এখন ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে যেকোনো সম্পর্ক অভিবাসীদের বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
"যে ইউএনএইচসিআর কার্ড আমাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা এবং আমাদের ও আমাদের পরিবারের জন্য একটি ভালো জীবনের দিকে প্রথম পদক্ষেপ হওয়ার কথা, সেটিই এখন আমাদের আরও সহিংসতার ঝুঁকিতে ফেলছে," বিবিসিকে বলেন লিবিয়ায় আশ্রয়প্রার্থী সুদানি নাগরিক আহমেদ হাসান (এটি তার প্রকৃত নাম নয়)।
ইউএনএইচসিআর কার্ড হলো শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউএনএইচসিআর- এর ইস্যু করা একটি আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র।
আহমেদ বিবিসিকে জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় তিনি ত্রিপোলির যে জায়গায় থাকেন সেখানে রাস্তায়, কর্মস্থলে হামলার শিকার হতে হয়েছে অভিবাসীদের; এমনকি তাদের বাড়িতেও সরকারি কর্মকর্তা ও লিবীয় নাগরিকরা অভিযান চালিয়েছে।
"আমরা যেখানেই যাই, ভয়ে থাকি," তিনি বলেন।

ছবির উৎস, Getty Images
লিবিয়া অভিবাসীদের জন্য যেমন একটি গন্তব্য, তেমনি একটি ট্রানজিট দেশও।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাবে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে লিবিয়ায় ৯ লাখ ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসী ছিল, যাদের বেশিরভাগই সুদান, নাইজেরিয়া, মিশর ও চাদ থেকে এসেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক লাখ ১২ হাজারেরও বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও ছিল, যাদের বিপুল সংখ্যাই চলমান সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত সুদানি।
পূর্ব ও পশ্চিম উভয় লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ জুনের শুরু থেকে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান ঘোষণা করে, যার মধ্যে গ্রেফতার, আটক ও বহিষ্কারের ঘটনা রয়েছে।
পূর্ব লিবিয়াভিত্তিক হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস 'লিবিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের স্থায়ী বসতি স্থাপন' প্রত্যাখ্যান করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
ত্রিপোলিভিত্তিক গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটিও লিবিয়ায় অভিবাসীদের 'বসতি স্থাপন' ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।
বিবিসি ত্রিপোলির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তাদের মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলন
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের লিবিয়া-বিষয়ক গবেষক নাদেজ লাহমার ব্যাখ্যা করেন যে, এই দাবি উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত একটি বৃহত্তর 'বসতি স্থাপন-বিরোধী' আন্দোলনের অংশ।
তিনি বলেন, "২০২৩ সাল থেকে উত্তর আফ্রিকা জুড়ে 'বসতি স্থাপন-বিরোধী' আন্দোলনের বিকাশ ঘটেছে।"
"কিন্তু জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এবং কথিত বসতি স্থাপনে তাদের ভূমিকার জন্য সরাসরি জাতিসংঘকে লক্ষ্য করে এমন বড় আকারের প্রকাশ্য প্রতিবাদ, তাদের ভাষা ও কথোপকথনে একটি নতুন মাত্রা।"
লাহমার বলেন, তিনি তিউনিসিয়া, মরক্কো, আলজেরিয়া ও মিশরে এই পরিভাষার ব্যবহার দেখেছেন।
তার মতে, এই আন্দোলনে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে "শরণার্থী ও অভিবাসীদের যেকোনো ধরনের সহায়তা, স্বীকৃতি বা অধিকার দেওয়া মানে তাদের স্থায়ী বসতি স্থাপনকে সমর্থন করা।"
কিন্তু, তিনি বলেন, "মানবিক সহায়তা মানেই কোনো ব্যক্তির একটি দেশে অবস্থানকে সমর্থন করা নয়।"
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, X
অনলাইনে মিথ্যা দাবির উৎস অনুসন্ধান
বিবিসি মন্তব্যের জন্য সুরাইয়া তুয়েবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই 'বসতি স্থাপন' সংক্রান্ত দাবি তার আইওএম ও ইউএনএইচসিআর-এর নথির ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে, যার মধ্যে ইউএনএইচসিআর লিবিয়া বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৪-ও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল:
"লিবিয়ায় সরকার ২০২৪ সালের জাতীয় আদমশুমারিতে অভিবাসীদের একটি নমুনা (যার মধ্যে শরণার্থীদের একটি উপগোষ্ঠীও রয়েছে) অন্তর্ভুক্ত করেছে।"
তুয়েবি অভিবাসী ও শরণার্থীদের আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত করাকে লিবিয়ায় তাদের 'স্থায়ী বসতি স্থাপন' করার মনোভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বিদ্যমান আরও একটি লিবীয় আইনের উল্লেখ করেন, যা লিবিয়ায় বিদেশিদের অননুমোদিত বসতি স্থাপন রোধে ব্যবস্থা নির্ধারণ করে এবং অনিয়মিত অভিবাসনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
তার দাবি, এই আইন বাতিলের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তুয়েবি বিবিসিকে জানান যে তিনি একটি প্রচারণার অংশ, তবে "ভুল তথ্য প্রচারে জড়িত নন"।
ইউএনএইচসিআর অ্যানুয়াল রেজাল্টস রিপোর্ট ২০২৪ অনুযায়ী– "লিবিয়ায় সরকার ২০২৪ সালের জাতীয় আদমশুমারিতে অভিবাসীদের একটি নমুনা (যার মধ্যে শরণার্থীদের একটি উপগোষ্ঠী রয়েছে) অন্তর্ভুক্ত করেছে। গণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া শরণার্থী, অভিবাসী ও নাগরিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রয়োজন বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"
আদমশুমারিতে বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ জাতিসংঘ লিবিয়ায় অভিবাসীদের বসতি স্থাপন করছে– এমন কোনো প্রমাণ নেই।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এই অন্তর্ভুক্তি "শরণার্থী, অভিবাসী ও নাগরিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাহিদা বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"
পরবর্তীতে তুয়েবির সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি এক্সের একটি অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়, যে অ্যাকাউন্টে কয়েক ঘণ্টাপর করে ২৪ ঘণ্টাই বিভিন্ন পোস্ট আসে এবং আপাতভাবে এটি মিশরীয় সরকারের সমর্থক বলে মনে হয়।
প্রোফাইলটি তাদের প্রায় ১৩ হাজার অনুসারীর কাছে সাক্ষাৎকারে থাকা মিথ্যা তথ্য পুনরায় তুলে ধরে এবং অঞ্চলজুড়ে অভিযোগটিকে আরও ছড়িয়ে দেয়।
বিবিসি অ্যাকাউন্টটির মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। অ্যাকাউন্টটি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং বড় পরিসরে পোস্ট করছে।
তুয়েবির সাক্ষাৎকারসহ পোস্টটিও এখনো অনলাইনে রয়েছে।
এই মিথ্যা দাবি এবং বর্ণনাটিকে নবার আগে বাড়িয়ে তোলা অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে এক্স-এর কাছে মন্তব্য চেয়েছিল বিবিসি, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিশর, তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই দাবি ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১০ লাখ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছায়।
এই বর্ণনা প্রচারকারী অনেক অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম আচরণের লক্ষণ দেখা যায়। একই ধরনের দাবি একাধিক প্রোফাইলে প্রায় অভিন্ন ভাষায় আবারও পোস্ট করা হয়েছিল।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
ফেসবুকে বিবিসি এমন একটি সমন্বিত কৃত্রিম অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করেছে বলে মনে হয়েছে, যা প্রতিবাদের আগের এক মাসজুড়ে অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য প্রচার করছিল।
তারা প্রতিবাদের ভিডিও শেয়ার করে এবং পরে অভিবাসীবিরোধী বর্ণনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টগুলো প্রতিবাদকে প্রচার করে। এর মধ্যে তেসরা জুন একটি পোস্ট করে– "আগামীকাল বিশেষ করে আল-সারাজে একটি বড় বিক্ষোভ হবে এবং সব মানুষ আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে যাবে।"
বিবিসির অনুসন্ধানে সমন্বিত কৃত্রিম আচরণের বেশ কয়েকটি সূচক পাওয়া গেছে।
৪০টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩৪টি ২০২৬ সালের ২ থেকে ৭ই মে, মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে তৈরি হয়েছিল, যা ব্যাচ আকারে সক্রিয় করার ইঙ্গিত দেয়। এটি সমন্বয়ের একটি সাধারণ লক্ষণ।
অ্যাকাউন্টগুলো তাদের প্রোফাইল ছবিতে কোনো ব্যক্তির নয়, বরং জেনেরিক বা সাধারণ ছবি ব্যবহার করেছে এবং নেটওয়ার্কজুড়ে অভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছে।
অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন তৈরি এসব অ্যাকাউন্ট সম্মিলিতভাবে ১৪ লাখ ৬০ হাজার অনুসারীর কাছে পৌঁছায়।
ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, তারা লিবিয়ার পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণকারী দল মোতায়েন করেছে এবং তাদের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট সরিয়ে দিচ্ছে, যার মধ্যে ভুল তথ্য এবং অভিবাসী, মানবিক সহায়তাকর্মী ও জাতিসংঘের কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া বিষয়বস্তুও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিবিসি যে অ্যাকাউন্টগুলোর কথা উল্লেখ করেছে, সেগুলো তারা তদন্ত করছে।
বিবিসির যোগাযোগের পর নেটওয়ার্কটির ১১টি অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেয় মেটা।
অনলাইনে মিথ্যা বর্ণনা ছড়িয়ে পড়লেও আশ্রয়প্রার্থীরা অফলাইনে সহিংসতার মুখোমুখি হতে থাকেন।
আমনা একজন সুদানি মা, যিনি ২০২৪ সালে সুদান থেকে লিবিয়ায় যাওয়ার পথে সহিংসতায় তার এক সন্তানকে হারিয়েছেন।
তিনি বিবিসিকে জানান, আশ্রয়প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছয়জন তরুণ সেই বাড়িতে ঢুকে পড়ে যেখানে তিনি ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে থাকছিলেন।
তারা দুজনকে মারধর করে, জোর করে তার মুখের পর্দা খুলে দেয় এবং তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে।
এরপর তারা বাড়ি তল্লাশি করে তার স্বামীর ইউএনএইচসিআর কার্ড এবং তার ছেলের পরিচয়পত্র খুঁজে পায়, দুটি নথিই ছিঁড়ে ফেলে এবং পরিবারের সামান্য নগদ অর্থ ও তার ছেলের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়।
"আমাকে কাপড় খুলে নির্যাতন করতে দেখার পর আমার ছেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে," তিনি বিবিসিকে বলেন।
"সে এখনো খুব ছোট এবং যা ঘটছিল তা থামানোর কোনো ক্ষমতা তার ছিল না।"








