আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইরানে হামলা চলার মধ্যেই ফের আলোচনার দাবি ট্রাম্পের, যুক্তরাষ্ট্র সফরে নেতানিয়াহু
- Author, জেরোস্লাভ লুকিভ
- Published
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাত বন্ধে দেশটির সাথে 'খুব বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে' বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ যুদ্ধরত কোন পক্ষই পরপর তিন দিন ধরে পরস্পরের ওপর কোনো হামলা চালায়নি।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমার মনে হয় কিছু একটা হওয়ার ভালো একটা সম্ভাবনা আছে।"
তবে, তিনি সতর্ক করে দিয়ে এটাও বলেছেন যে, যদি এবারের আলোচনাও ব্যর্থ হয়, তাহলে যুদ্ধে এ বিরতির আগে ওয়াশিংটর 'যা করছিল, ঠিক সেটাই আবার শুরু করবে'।
ট্রাম্প জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে চলমান আলোচনাকে আরও একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি গত শুক্রবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা নিয়মিত মার্কিন বিমান হামলা এবং পালটাপালটি আক্রমণ বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধবিরতীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
মূলত কদিন ধরে চলা পালটাপালটি হামলার কারণে গত জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেস্তে গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করার পর থেকে ইরানও তাদের পাল্টা হামলা বন্ধ রেখেছে। তবে, সরাসরি কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি আবারও অস্বীকার করেছে তেহরান।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হওয়া না হওয়ার এই চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটন সফর করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগে জানিয়েছিল যে, তেল পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে- বাণিজ্যিক জাহাজে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করাই ছিল তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্য।
সংঘাত আপাতত অবসানের কারণে সোমবার একপর্যায়ে তেলের দাম নয় শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে।
এদিকে, পাঁচ মাস ধরে চলা লড়াইয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ ফুরিয়ে আসছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনগুলো নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেছেন যে, "আমাদের প্রচুর গোলাবারুদ আছে। এমনকি মাঝারি ধরনের সরঞ্জামও আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে, যা আমরা কখনোই শেষ করতে পারব না। তবে আমাদের আরও বেশি থাকলে ভালো হতো।"
তিনি জানান, প্রচুর পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে, বিশেষ করে অত্যন্ত মূল্যবান মার্কিন নির্মিত অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক মিসাইল 'প্যাট্রিয়ট'।
তিনি আরও বলেন, "সেই সিস্টেমের উৎপাদনও বাড়ছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ আছে।"
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সব কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন এবং তার বাইরেও তা সফল করার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মজুদ মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে।
আর 'অপারেশন এপিক ফিউরি' প্রমাণ করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পরিণতি কী হতে পারে, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
"পর্যাপ্ত অস্ত্রের মজুদ থাকার পরও প্রেসিডেন্ট আমাদের ডিফেন্স কন্ট্রাক্টর বা অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবসময় আরও বেশি করে 'মেইড-ইন-আমেরিকা' বা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র উৎপাদনের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন, যা বিশ্বের সেরা," মুখপাত্র যোগ করেন।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনার পাশাপাশি ইসরায়েলের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এর আগে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তির চুক্তিতে পৌঁছাতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল।
কিন্তু গত ১৩ই জুলাই ইরানি বাহিনী এই জলপথে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করে।
এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক সুবিধা ও ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়, যার ফলে চার মার্কিন সেনা নিহত হন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর পর থেকে মার্কিন হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রিপাবলিকান পার্টির দীর্ঘদিনের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিরও ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথকভাবে এই দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন নেতানিয়াহু, যখন নিউ ইয়র্কের মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানি গাজার যুদ্ধকে একটি "যুদ্ধাপরাধ" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ঝুলে থাকা মামলার কারণে নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর তিনি নেতানিয়াহুকে "গ্রেফতার" করতে পারতেন।
যদিও এর পরের দিনই তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন এবং স্বীকার করেন যে, নিউ ইয়র্কের মেয়রের পদটি তাকে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয় না।
অবশ্য ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের মূল উদ্দেশ্য সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করা থেকে বিরত রাখা।