আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউরোপে এস আলমসহ তিন অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ, পাচারের টাকা দেশে ফিরবে কবে?
- Author, তারেকুজ্জামান শিমুল
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ভূ-মধ্যসাগরের ছোট একটি দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস। দেশটির রাজধানী নিকোশিয়ার একটি আদালত সম্প্রতি সেখানকার বিলাসবহুল একটি বাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছে। ওই বাড়িটির মালিক বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম।
মি. আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নিকোশিয়া জেলা আদালত মি. আলমের ওই বাড়িটি জব্দের আদেশ দিয়েছে বলে সাইপ্রাসের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন বা ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়।
গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কয়েক মাস পর পাচারের সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ থেকে কোন দেশে কী পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সেটি তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা শাখা 'বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট' (বিএফআইইউ)।
অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত দেড় ডজনের মতো দেশ ও এলাকার নাম পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
সেগুলো হলো– যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সাইপ্রাস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীনের হংকং, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, ভারত, লুক্সেমবার্গ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যের সাথে সম্পর্কিত একটি স্বশাসিত অঞ্চল আইল অব ম্যান, ব্রিটিশ আইলসের অন্তর্ভুক্ত দ্বীপ জার্সি, ইংলিশ চ্যানেল অঞ্চলের দ্বীপ গার্নসি এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস।
এসব দেশ বা এলাকার সরকার ও প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযুক্তদের সম্পদ জব্দের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান এবং সাইপ্রাসে অভিযুক্তদের কিছু সম্পদ জব্দও করা হয়েছে।
"তিনটি দেশে কিছু সম্পদ জব্দ হয়েছে। বাকি দেশগুলোতে এখনো যে সম্পদ জব্দ করা হয়নি, সেটার কারণ জব্দ করার পূর্বে সেই দেশকে তো যথাযথভাবে প্রসিডিউর মেনেই সেটা করতে হচ্ছে। অন্য একটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, বিষয়টি এমন না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
"তাদের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি হয়েছে কি-না এবং বিচ্যুতির কারণে সম্পদ জব্দ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি-না, সেটা যাচাই করেই তো তারা জব্দ করবে," বলেন মি. খান।
ছয় মামলায় অগ্রাধিকার
দেশের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনায় প্রথম ধাপে অভিযুক্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স।
সেই তালিকায় প্রথমদিকেই রয়েছে সাইফুল আলম চৌধুরীর এস আলম গ্রুপ এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আরামিট গ্রুপের নাম।
এর বাইরে বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা এবং ওরিয়ন গ্রুপের বিরুদ্ধেও মামলা চলবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
ইতোমধ্যেই মামলাগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অভিযুক্তদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, সাইপ্রাস এবং আইল অব ম্যানে এস আলম গ্রুপের মি. আলম, আরামিট গ্রুপের মি. চৌধুরী এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান পরিবারের সদস্যদের কিছু সম্পদ জব্দ করেছে সেদেশের সরকার।
তবে এখনই সেগুলো ফেরত আনতে পারবে না বাংলাদেশ। ফেরত পাওয়ার জন্য আগে ওইসব দেশের আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে, সম্পদগুলো বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছিল।
সামনে যত চ্যালেঞ্জ
অভিযোগ প্রমাণ করে পাচারের অর্থ দেশে ফেরানোর জন্য যে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, সেটাই বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
"বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যে অর্থ পাচার হয়, তার মাত্র এক শতাংশ দেশে ফেরত আসে। এই যে এক শতাংশ ফেরত আসে, সেটির জন্যই দেখা যায়, গড়ে সাত থেকে ২০ বছর বা আরও বেশি সময় লেগে যায়," বলছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
এত দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, "সময় বেশি লাগে, কারণ সেই দেশের আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে, অর্থটা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ওই দেশে গেছে।"
কিন্তু আরেক দেশে গিয়ে সেখানকার আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণ করাটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
"অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে যে, টাকা আমাদের দেশ থেকে বেআইনিভাবে ওই দেশে পাচার করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা, সেটা হলো আমরা এখনো সেভাবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আসলে জোগাড় করতে পারিনি," বলছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।
সামনের দিনগুলোতেও অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা সহজ হবে না বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
"কারণ অর্থগুলো অন্য দেশে ঢুকেছে বিনিয়োগ হিসেবে। আর সেই বিনিয়োগটা গেছে তৃতীয় আরেকটি দেশ হয়ে। সুতরাং যথাযথ তথ্য-প্রমাণ দেখিয়ে সেটা প্রমাণ করা কঠিন এবং কষ্টসাধ্য হবে। সব মিলিয়ে পাচারের অর্থ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফিরবে কি-না, সেটা নিশ্চিত নয়," বলেন মি. কবীর।
এদিকে, ভিনদেশের আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে তার খরচ চালিয়ে যাওয়াটাও আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
"মামলা চালানোটা এমনিতেই ব্যয়বহুল একটা ব্যাপার। তারপরও সেটা যদি বছরের পর বছর ধরে চালাতে হয়, সেটার জন্য বড় বাজেট দরকার হবে। আবার এত টাকা-পয়সা খরচের পর মামলায় আমরা জিতবো কি-না, সেটাও নিশ্চিত না," বলেন টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক মি. ইফতেখারুজ্জামান।
বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?
উল্লেখিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেটি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কিন্তু এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা।
"মামলা চালানোর জন্য আমরা দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করছি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এ লক্ষ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও করা হচ্ছে, যাদের পাচারের অর্থ উদ্ধারের অভিজ্ঞতা ও সুনাম রয়েছে," বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মি. খান।
পাচারের অর্থ পুনরুদ্ধারে এখন পর্যন্ত নয়টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেছে।
কিন্তু মামলা চালানোর জন্য যে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটা কোথা থেকে আসবে?
"এটার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরকারী ব্যাংক বা সরকারকে এখনই কোনো নগদ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না। কারণ আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা 'নো উইন, নো ফি' ভিত্তিতে চুক্তি করেছি। অর্থাৎ তারা যদি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে পারে, কেবল তখনই সেই প্রাপ্ত অর্থ থেকে তারা ফি পাবে। অন্যথায় কোনো অর্থ পাবে না," বলেন মি. খান।
চুক্তির চেষ্টা
পাচারের সম্পদ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা হচ্ছে, দু'দেশের আইনগত ভিন্নতা। এক্ষেত্রে গন্তব্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনগত সহায়তা চুক্তি না থাকলে পাচারের অর্থ ফেরানো কঠিন হবে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।
সেজন্য পাচারের অর্থ যাওয়া শীর্ষ ১০টি গন্তব্য দেশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সরকার এবং হংকং-এর প্রশাসনের কাছে ইতোমধ্যে চুক্তির প্রস্তাবও পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এবং হংকং ইতিবাচক সাড়া দিলেও বাকি দেশগুলো একক চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
"কারণ আমাদের দৃষ্টিতে অবৈধ হলেও বিনিয়োগ হিসেবে নেওয়ায় তাদের দৃষ্টিতে ওই অর্থ অবৈধ না। এই যে পারসেপশন বা দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা এবং ওইসব দেশে যদি পাচারের অর্থকে ওয়েলকাম জানানো হয় আইনের মাধ্যমে, তাহলে সেই অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে শুধু আইনি প্রক্রিয়াই যথেষ্ট না। সেখানে আমাদের ডিপ্লোমেসিকেও যথেষ্ট কার্যকর থাকতে হবে," বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা মি. খান।
সরকার কী বলছে?
বিএনপি সরকার বলছে যে, পাচারের অর্থ ফেরানোর জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সব ধরনের প্রচেষ্টাই তারা অব্যাহত রেখেছেন।
"এটি জনগণের অর্থ। যেহেতু আমরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি এবং দেশের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই জনগণের অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণের জন্য এবং দেশের কল্যাণে ব্যয় করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব," সম্প্রতি সংসদে বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
"যে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জনগণের অর্থ ফেরত আসবে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, এই সরকার সেই পদক্ষেপই গ্রহণ করবে," যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থ পাচার হয়ে যেসব দেশে গেছে, সেসব দেশের সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা বিএনপি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, "সেটা ইউকে তে পাচার হোক, মিডল ইস্টে হোক আর সাউথ-ইস্ট এশিয়ার যেকোনো দেশে হোক, সেন্ট্রল এশিয়াতে হোক, যেখানেই আমরা শনাক্ত করতে পারবো, ফেরত আনার চেষ্টা করবো, যে টাকার মালিক মূলত জনগণ," বলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা।
অর্থ পাচার ও সম্পদ জব্দ হওয়ার বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ী এস আলম, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইনি লড়াই চালানোর কথা বলেছেন।
মি. আলম ইতোমধ্যে বিদেশি কিছু আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তিও করেছেন বলে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ হয়েছে।
দেশে-বিদেশে সম্পদ জব্দের প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে তিনি একটি মামলাও দায়ের করেন, যার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
ফলে এতসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করে পাচারের অর্থ কতুটুকু দেশে ফেরানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু অন্তত একটি মামলাতেও জয়লাভ করে পাচারের অর্থ যদি দেশে ফেরানো সম্ভব হয়, এ ধরনের অপরাধ দমনে সেটি বাংলাদেশে নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
"আর অর্থ পাচার রোধে এমন নজির স্থাপন করাটা খুবই জরুরি। কারণ এর মধ্য দিয়ে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হবে যে, দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে কেউই শান্তিতে থাকতে পারবে না। আইনের হাতে ধরা তাদের পড়তেই হবে," বিবিসি বাংলাকে বলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবীর।