ভারতে গুলবার্গ হত্যাকাণ্ডে ১১জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

এগারোজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, এগারোজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
Published

ভারতের গুজরাটে আহমেদাবাদ শহরের গুলবার্গ সোসাইটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ২০০২ সালে মুসলমান বিরোধী দাঙ্গার সময় ৬৯ জন মুসলিমকে কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ওই ঘটনায় ভারতের একটি বিশেষ আদালত যে ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল তার মধ্যে ১১ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাকিদের মধ্যে ১২ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১ জনকে দশ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কট্টরপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলের একজন স্থানীয় নেতাও রয়েছেন যার সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির যোগাযোগ রয়েছে।

হামলার ঘটনায় ওই আবাসিক কমেপ্লেক্সের বাসিন্দা একজন বিশিষ্ট রাজনীতিক, কংগ্রেস সংসদ সদস্য এহসান জাফরিকেও কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

মিঃ জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি সাজার এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

জাকিয়া জাফরি : ''এটা আদৌ ন্যায়বিচার হয় নি।''
ছবির ক্যাপশান, জাকিয়া জাফরি : ''এটা আদৌ ন্যায়বিচার হয় নি।''

''এহসান জাফরিকে যখন খুন করা হয়, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। এটা আদৌ ন্যায় বিচার হয় নি।'' তিনি সাংবাদিকদের বলেন।

মিসেস জাফরি বলেন তাঁর স্বামী মিঃ মোদীর কাছে সাহায্য চেয়ে ফোন করেছিলেন, কিন্তু সে সাহায্য কখনই পৌঁছয় নি।

নরেন্দ্র মোদী ওই ঘটনার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং সহিংসতা বন্ধে প্রায় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা রয়েছে।

মিঃ মোদী কোনোরকম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেেছন, তবে দাঙ্গার জন্য কখনই দুঃখপ্রকাশ করেন নি।

২০০২ সালে তিনদিন ধরে গুজরাটে চলেছিল মুসলমান বিরোধী দাঙ্গা।
ছবির ক্যাপশান, ২০০২ সালে তিনদিন ধরে গুজরাটে চলেছিল মুসলমান বিরোধী দাঙ্গা।

সুপ্রিমে কোর্টের একটি প্যানেল ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা করতেও অস্বীকার করে এই বলে যে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হবার পর দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনায় ২০০২ সালে এক হাজারের বেশি মুসলমান প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন গুলবার্গ কমপ্লেক্সের ওই ৬৯ জন মুসলমান।

বহু মুসলমানের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয় ওই দাঙ্গায়।
ছবির ক্যাপশান, বহু মুসলমানের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয় ওই দাঙ্গায়।

একটি ট্রেনে আগুনে ৬০ জন হিন্দু তীর্থযাত্রীর প্রাণহানিকে কেন্দ্র করে দাঙ্গার সূচনা হয়।

হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনার জন্য মুসলমানদের দায়ী করে হিন্দু দাঙ্গাকারীরা মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা চালায় তিনদিন ধরে।

প্রতিশোধ নিতে গুজরাটের শহরে ও গ্রামে মুসলিমদের লক্ষ্য করে যে ব্যাপক হামলা চালানো হয় তার মধ্যে বড়ধরণের হামলা হয়েছিল গুলবার্গ আবাসিক কমপ্লেক্সে।

গুলবার্গ সোসাইটি মামলায় দায়ী করা হয়েছিল ৬৩ জনকে।

এ মাসের গোড়ার দিকে এদের মধ্যে ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং ৩৬ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে ২০০৮ সাল থেকে ওই ঘটনার তদন্ত চালায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল।