নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত

বাস দূর্ঘটনার একটি চিত্র- ফাইল ফটো
ছবির ক্যাপশান, বাস দূর্ঘটনার একটি চিত্র- ফাইল ফটো
    • Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নাটোরের বড়াইগ্রামে এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে।

ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছ আরও অন্তত অর্ধশত যাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন যে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনা কবলিত দুটি বাসের একটি গুরুদাসপুর এবং আরেকটি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল।

যাত্রীদের অনেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল।

দুর্ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল কাদের সজল।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “এটা হলো রেজির মোড়। রাস্তার বাম দিকে অথৈ পরিবহনে গাড়িটি উল্টে পড়ে আছে। আর কেয়া পরিবহন খাদে পড়ে গেছে। দেখলাম লাশগুলো পড়ে আছ। পিছনের দিকে যাত্রীরা কম আহত হয়েছেন”।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত মুনিরুল ইসলাম বলেন দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতো বেশি ছিল যে একটি বাস সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

তার ধারণা দুটি বাসই অতিরিক্ত গতিতে চলছিল, ফলে মৃতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি।

তিনি বলেন, “ট্রাককে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক আসা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ ব্যাপার, স্পটেই ২০ জন মারা গেছে। না দেখলে বোঝানো যাবেনা। এমন মারাত্মক ঘটনা মানুষ দেখেনি। কিছু লাশ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে”।

দুর্ঘটনায় আহতদের একজন এম এস জলি সীমা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন, তবে বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুরে। সেখানেই যাচ্ছিলেন তিনি।

বনপাড়া হাসপাতাল থেকেই বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। উল্টো দিক থেকে একটা বাস আসছিলো। একটু বেশি বাম দিকে চলে আসছিলো। অনেক জোড়ে চলছিল বাসটি। সংঘর্ষের পর আমার জ্ঞান ছিলনা। পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে এসেছে। অনেকে মারা গেছে”।

পুলিশ বলছে দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।