স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে পরিবেশ বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন যেভাবে

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন পানি বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা
ছবির ক্যাপশান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন পানি বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা
Published

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শরীরের গঠন অনুপাতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে একজন মানুষের 'ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট' সর্বোচ্চ ৫৫% পর্যন্ত কম হতে পারে বলা হয় ঐ গবেষণায়।

ইতালি, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এই গবেষণা।

একদিনে একজন মানুষের মোট ব্যবহৃত পানি ও তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের পণ্য ও সেবা উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয় তার যোগফলকে সাধারণত ঐ ব্যক্তির 'ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট' হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

গবেষকরা বলছেন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ কমানোর পেছনেও ভূমিকা রাখে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ডেভি ভ্যানহাম বলেন, "মূল বার্তাটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হলে শুধু যে আপনি সুস্থ থাকবেন তা'ই নয়, তখন আপনার প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনে গড়ে আগের চেয়ে কম পানি প্রয়োজন হওয়ার কারণে আপনার ওয়াটার ফুটপ্রিন্টও কমে যাবে।"

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ কমানোর পেছনেও ভূমিকা রাখে
ছবির ক্যাপশান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ কমানোর পেছনেও ভূমিকা রাখে

গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য

·যুক্তরাজ্যে মানুষের খাদ্য গ্রহণের (দেশে উৎপাদিত ও রপ্তানিকৃত) বিপরীতে ওয়াটার ফুটপ্রিন্টের পরিমাণ জনপ্রতি দিনে ২,৭৫৭ লিটার। জার্মানিতে যা ২,৯২৯ লিটার ও ফ্রান্সে ৩,৮৬১ লিটার।

·মাংস ও সব ধরণের খাদ্য উপাদান সহ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে খাবার উৎপাদনে পানির ব্যবহার ১১-৩৫% পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

·খাদ্য তালিকায় মাংস বাদ দিয়ে মাছ ও তেলবীজ জাতীয় খাদ্যকে প্রাধান্য দিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করলে পানি ব্যবহারের মাত্রা ৩৩-৩৫% পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

·স্বাস্থ্যকর নিরামিষাশী আহারের ফলে পানি ব্যবহারের হার ৩৫-৫৫% পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

Vegetarian food
ছবির ক্যাপশান, পূর্ণ নিরামিষাশী আহারের অভ্যাসের ফলে 'ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট' সবচেয়ে বেশী মাত্রায় কমানো সম্ভব

পৃথিবীতে সুপেয় পানির উৎস দিনদিন কমে আসছে।

আর দ্রুতবেগে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জীবনধারার পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন কীভাবে পানি বাঁচাবে?

পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নানা ধরণের প্রচারণা চালানো হয়।

কিন্তু খাদ্য উৎপাদনে কি পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয় সেবিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতনতা তৈরি হয়নি মানুষের মধ্যে।

ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে মাংস জাতীয় খাবার উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম পানি ব্যবহৃত হয়
ছবির ক্যাপশান, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে মাংস জাতীয় খাবার উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম পানি ব্যবহৃত হয়

পশুপালনে বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়।

তেল, চিনি ও চর্বিজাতীয় খাবার উৎপাদনেও অনেক পানি প্রয়োজন হয়; কিন্তু ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে পানি ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত কম।

মানুষের বর্তমান খাদ্যাভ্যাস ও গবেষকদের সুপারিশকৃত খাদ্যাভ্যাসে সাপেক্ষে খাদ্য উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট পানি ব্যবহারের মাত্রার তারতম্য পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়েছে গবেষণাটি।

তবে গবেষকরা স্বীকার করেন যে মানুষকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে অনুপ্রাণিত করা মোটেও সহজ কাজ নয়।

মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্য অস্বাস্থ্যকর খাবারে উচ্চমাত্রায় শুল্ক আরোপ সহ সবধরনের খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার মত নান পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করেন গবেষকরা।