বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০-১৩ জন আটকে আছেন বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায়
বাংলাদেশের যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ১০-১৩ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
তারা এখন বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর গ্রামের বোম্বে তলার খড়ের মাঠে জিরো লাইনে অবস্থান করছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
আজ সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটা বা পৌনে চারটার দিকে ওই কয়েকজনকে কাটাতারের বেড়া পার করে দেয়। কিন্তু তারা এখনও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হতে পারেনি।
তিনি জানান, বিজিবি'র কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে বেনাপোল সীমান্তের কয়েকটি জায়গা থেকে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে। তাই, আগে থেকেই মানচিত্র ধরে সতর্ক অবস্থানে ছিল বিজিবি।
সেইসব জায়গাতেই "গতকাল আনুমানিক ১০০-১২০ জন লোক নিয়ে ট্রাকের মতো তিনটি গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় কাটাতারের বেড়ার সাথে লাগানো লাইট নিভিয়ে দেয়, ইচ্ছে করে। গেটগুলো খুলে খুলে ভেতরে পুশইনের চেষ্টা করছিলো। কিন্তু আমরা আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম।"
"আমরা আমাদের জনবল দুই থেকে তিনগুণ করে দিয়েছিলাম এবং ফ্ল্যাশ লাইট, টর্চ লাইট ইত্যাদি বাড়িয়ে দিয়েছি। তাদেরকে সফল হতে দেইনি। সেগুলোর ভিডিও ফুটেজও রেখে দিয়েছি। সারা রাত-ই তারা চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাত সাড়ে ৩টার দিকে তারা আবারও লাইট বন্ধ করে দেয় এবং জোর করে ১০-১৩ জনের মতো লোককে কাটাতারের বেড়া পাড় করে দেয়। কিন্তু তারা এখনও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাড় হতে পারেনি।"
আজ সোমবার সকাল থেকেই এই পরিস্থিতি চলমান জানিয়ে তিনি আরও বলেন যে বিভিন্নভাবে বিএসএফ-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে এবং "তাদেরকে আমরা বলেছি, এরা আমাদের লোক না। এরা যদি আসলেই বাংলাদেশের লোক হয়ে থাকে, তাহলে প্রোপার কূটনৈতিক চ্যানেল ফলো করে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিয়ে যেকোনো ইন্টারন্যাশনাল ক্রসিং বর্ডার দিয়ে পাঠান। সেভাবে আমরা তাদেরকে গ্রহণ করবো।"
বেনাপোলের স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, শূন্যরেখায় অপেক্ষমান মানুষগুলোর মাঝে নারী-শিশুও রয়েছে।