গাজী নজরুলের সদস্যপদ শূন্য ইস্যুতে জামায়াত নেতাকে 'বুদ্ধি' দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ শূন্য করা ইস্যুতে জামায়াত নেতা শফিকুর রহমানকে 'বুদ্ধি' দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাংগঠনিক তদন্তে 'নৈতিক স্খলন' প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জুলাই মাসে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এরপর তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য করার জন্য চিঠি দিয়েছে দলটি।
সম্প্রতি সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসাবে গাজী নজরুল ইসলামের নাম রাখা হয়েছিল।
সোমবার এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে, মাননীয় স্পিকারকেও চিঠি দিয়েছে...তার সদস্য পদ শূন্য করার জন্য। এখানে বিধি মোতাবেক দল থেকে বহিষ্কার হলে তার পদ শূন্য হয় না, ১৭ অনুচ্ছেদ সেখানে আসে না, যদি তিনি নিজে পদত্যাগ না করেন।''
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে বা বিরত থাকলে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়।
সেই প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ''আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান যে তার আসনটি শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেয় নাই আপনাদের? এবং ভোট দানে বিরত ছিল। সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ কিন্তু আসে।''
''সেই জায়গায় কগনিজেন্সি নিয়ে যদি আপনারা স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন, আমরা সেই হিসেবে বিধি মোতাবেক সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করতে পারি। এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম,'' বলেন মি. আহমদ।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এর জবাবে বলেন, ''"গ্রামে একটা কথা চালু আছে, কোনো দুর্বল মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিতে হলে তাকে মেম্বার দিসেবে দাঁড় করিয়ে দাও। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে আমাদের এরকম কিছু টিপস দেন, আমরা সেটা এঞ্জয় করি। এইজন্য সেদিন বলছিলাম, উনি থাকলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়, সেটা হোক পজিটিভ বা নেগেটিভ। কিছু একটা হয়।''
গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, ''আমরা এখন তাকে ফ্লোর ক্রসিং-এর কথা বলবো কেন? আমরা তো তাকে বহিষ্কার করেছি। আমরা তো সেটা বলতে পারি না যে তিনি আমাদের দলের সদস্য হয়ে ফ্লোর ক্রসিং করেছেন। আমাদের সিদ্ধান্ত ভায়োলেট করেছে। তবে আমরা আগেই অনাপত্তি বলেছিলাম, যেহেতু আমাদের কোর্টে আসে নাই।
কিন্তু মহান জাতীয় সংসদের মতো একটা প্রেস্টিজিয়াস হাউজে, যাকে আমরা নৈতিক কারণে বহিষ্কার করে চিঠিও দিয়েছি, কোনো কমিটিতে না রাখাটা উত্তম ছিল। সেটা নৈতিকতার দিক থেকে বেটার। কিন্তু এখন রিথিংক করার সুযোগ আছে। কারণ বিভিন্ন সময় পুনর্মূল্যায়ন হয়, অদলবদল হয়, ড্রপ হয়, অ্যাড হয়। আমি মনে করি, নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা একতা এক্সাম্পল হবে যদি ওনাকে কোথাও না রাখা হয়।''
পরবর্তীতে বিরোধী দলের আপত্তির কারণে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি থেকে গাজী নজরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
এই বিষয়ে আরো পড়তে পারেন: