আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
নারীদের এগ ফ্রিজিং কী, বাংলাদেশে কি এই সেবা আছে?
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
এগ ফ্রিজিং বা ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন এমন একটি চিকিৎসাপদ্ধতি, যেখানে একজন নারীর ডিম্বাশয় থেকে নিষিক্ত না হওয়া ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় হিমায়িত অবস্থায় দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।
পরে সন্তান নিতে চাইলে সংরক্ষিত সেই ডিম্বাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশেও এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
কিন্তু কেন নারীরা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন? এই পদ্ধতিতে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কতটা? আর বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিং করতে খরচই বা কত?
কেন নারীরা এগ ফ্রিজিং করেন?
মূলত ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখার জন্য এগ ফ্রিজিং বা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন অনেক নারী। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। ফলে পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে।
এ কারণে কেউ কেউ তুলনামূলক কম বয়সে, যখন ডিম্বাণুর গুণগত মান ভালো থাকে, ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখেন। চিকিৎসাজনিত কারণেও অনেকে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন।
বিশেষ করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নেওয়ার আগে কেউ কেউ ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন। কারণ এসব চিকিৎসা কখনো কখনো ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে সন্তান ধারণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
"কেমোতে যাওয়া মানেই নারীর ওভারি অনেকখানি ড্যামেজ হয়ে যাবে। তাই, যারা বোঝে তাদের অনেকেই এগ ফ্রিজ করে রাখে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বাংলাদেশের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরইআই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহনাজ মুশতারী সুমি।
একইভাবে ডিম্বাশয়ে অস্ত্রোপচার বা প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো চিকিৎসার আগেও চিকিৎসকের পরামর্শে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হতে পারে।
তবে চিকিৎসাজনিত সমস্যা না থাকলেও ব্যক্তিগত কারণেও এখন অনেকে এগ ফ্রিজিং বেছে নেন। যেমন, কেউ হয়তো পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের কারণে এখনই সন্তান নিতে চান না। কেউ আবার উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়ায় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে চান।
এই ধরনের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা আগে থেকেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এটিকে বলে 'সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং'।
আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের তথ্য অনুযায়ী, একজন মেয়ে ডিম্বাশয়ে ১০ থেকে ২০ লাখ ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরপরই ডিম্বাণুর সংখ্যা কমতে শুরু করে; বয়ঃসন্ধিতে প্রায় তিন থেকে পাঁচ লাখ ডিম্বাণু থাকে এবং ৩৭ বছর বয়সে এটা প্রায় ২৫ হাজারে নেমে আসে; ৫১ বছর যেটি হয় এক হাজারের মতো।
কীভাবে এগ ফ্রিজিং করা হয়?
যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি চিকিৎসার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিউম্যান ফার্টিলাইজেশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি অথরিটির (এইচএফইএ) তথ্য অনুযায়ী, এগ ফ্রিজিংয়ের শুরুতে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নারীর ডিম্বাশয়ের অবস্থা ও ডিম্বাণুর সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।
এ সময় ওষুধ দেওয়া হয়, যাতে ডিম্বাশয়ে বেশি ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং সেগুলো পরিপক্ব হয়।
ডিম্বাণু প্রস্তুত হয়ে গেলে অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের মাধ্যমে নারীকে অচেতন বা ঘুমঘুম অবস্থায় রেখে সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে যোনিপথ দিয়ে একটি সরু সূচ প্রবেশ করিয়ে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে পেটের মধ্য দিয়েও ডিম্বাণু সংগ্রহ করা যায়, বলছে যুক্তরাজ্যের গাই'স অ্যান্ড সেন্ট থমাস' এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।
সংগ্রহ করা ডিম্বাণুগুলো সাধারণত 'ভিট্রিফিকেশন' পদ্ধতিতে খুব দ্রুত হিমায়িত করা হয়।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএস-এর অধীন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি হসপিটালসের তথ্য অনুযায়ী, পরে সেগুলো তরল নাইট্রোজেনে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা হয়।
এরপর কোনো নারী যখন সন্তান নেওয়ার জন্য সেগুলো ব্যবহার করতে চান, তখন পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে ডিম্বাণুগুলোকে হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করে আনা হয়। যেসব ডিম্বাণু তখন অক্ষত থাকে, সেগুলোতে শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে নিষিক্ত করা হয়।
গাই'স অ্যান্ড সেন্ট থমাস-এর তথ্য অনুযায়ী, হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করার পর প্রতি ১০টি ডিম্বাণুর মধ্যে আট থেকে নয়টি ডিম্বাণু টিকে থাকার আশা করা যায়।
ডিম্বাণু নিষিক্ত করা হলে সেটি ধীরে ধীরে ভ্রূণে পরিণত হয়। তখন একটি সরু নলের সাহায্যে তা জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। ভ্রূণটি সফলভাবে স্থাপিত হলে নারী গর্ভধারণ করতে পারেন।
তবে, কেউ চাইলে শুধু ডিম্বাণু সংরক্ষণের বদলে সঙ্গীর শুক্রাণু দিয়ে সেটি নিষিক্ত করে তৈরি হওয়া ভ্রূণও হিমায়িত করে রাখতে পারেন। একে এমব্রিও ফ্রিজিং বলা হয়। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সময় নতুন করে ডিম্বাণু নিষিক্ত করার প্রয়োজন হয় না। সংরক্ষিত ভ্রূণটি হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করে সরাসরি জরায়ুতে স্থাপন করলেই হয়।
বাংলাদেশে এই সেবা আছে? খরচ কত?
বাংলাদেশেও এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা পাওয়া যায়। তবে ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম বলছেন, দেশে এখনো চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা 'সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং' তেমন জনপ্রিয় হয়নি।
মূলত ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিতে হবে, এমন কিছু নারী ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন।
ডা. রাশিদা বেগম বর্তমানে ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান।
তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে গত এক দশকে আট থেকে ১০ জনের মতো নারী ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছেন। তবে তাদের কেউ এখনো সেই ডিম্বাণু ব্যবহার করতে ফিরে আসেননি।
ফলে এগ ফ্রিজিংয়ের পর সন্তান জন্মের সাফল্যের হার সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
এগ ফ্রিজিংয়ের খরচ কেমন জানতে চাইলে ডা. রাশিদা বেগম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। বয়স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পরিমাণ অনুযায়ী এই খরচ কম-বেশি হতে পারে।
এরপর ডিম্বাণু ফ্রিজ করার জন্য এককালীন ৫৫ হাজার টাকা জমা দিতে হয় এবং সংরক্ষণ চালিয়ে যেতে প্রতি বছর ২০ হাজার টাকা দিতে হয়।
তবে তারা যেহেতু মূলত ক্যান্সার রোগীদের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন, তাই তাদের কাছ থেকে আইসিআরসি কোনো বার্ষিক সংরক্ষণ ফি নেয় না এবং সেই কারণে যারা তাদের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করার জন্য রেখে গেছেন, তাদের সাথেও সেভাবে যোগযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ডা. মেহনাজ মুশতারী সুমি জানিয়েছে, বার্ষিক সংরক্ষণ ফি একেক হাসপাতালে বা সেন্টারে একেকরকম। কোথাও কোথাও এটি ৩০ হাজার বা তার বেশিও হতে পারে।
তবে, ডা. রাশিদা বেগম আরও জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে এমব্রিও ফ্রিজিং-ও করা হয় এবং বাংলাদেশের অনেক নারী এই পদ্ধতিতে সন্তান নিচ্ছেন এখন।
উল্লেখ্য, এগ ও এমব্রিও ফ্রিজিং-এর খরচ প্রায় কাছাকাছি-ই।
ডিম্বাণু ফ্রিজ করলেই কি পরে সন্তান হবে?
ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই যে ভবিষ্যতে সন্তান হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ সন্তান ধারণের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করে কোন বয়সে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়েছিল, কতগুলো ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর গুণগত মান কেমন, তার ওপর।
গাই'স অ্যান্ড সেন্ট থমাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সে ১২টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে পরে তা ব্যবহার করে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। আর ২০টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা থাকলে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি চিকিৎসার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএফইএ বলছে, এগ ফ্রিজিংয়ের প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হলেও এর তুলনায় সাধারণ আইভিএফে অনেক বেশি ভ্রূণ স্থানান্তর করা হয়। ফলে এগ ফ্রিজিংয়ের সাফল্যের হার নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো তুলনামূলকভাবে কম।
উল্লেখ্য, আইভিএফ-ও হলো শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরির একটি চিকিৎসাপদ্ধতি। তবে এটি এগ বা এমব্রিও ফ্রিজিংয়ের মতো সংরক্ষণের পদ্ধতি নয়।
আইভিএফে তৈরি ভ্রূণ ফ্রিজ না করেই জরায়ুতে দেওয়া যেতে পারে, আবার কেউ চাইলে এটিকে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য হিমায়িত করেও সংরক্ষণ করা যায়। আইভিএফে তৈরি ভ্রূণ ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য হিমায়িত করে রাখা হলে সেটিকে তখন আবার এমব্রিও ফ্রিজিং বলা হয়।
এখন প্রশ্ন হলো, ডিম্বাণু কতদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়?
যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এখন ডিম্বাণু, শুক্রাণু বা ভ্রূণ সর্বোচ্চ ৫৫ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তবে সংরক্ষণ চালিয়ে যেতে প্রতি ১০ বছর পরপর নতুন করে সম্মতি দিতে হয়।
তবে দীর্ঘদিন হিমায়িত অবস্থায় রাখলে ডিম্বাণুর কার্যকারিতা কমে যায় কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই বলে জানিয়েছে এইচএফইএ।
এদিকে, কোনো নারী তার ডিম্বাণু ফ্রিজ করে রাখলে ভবিষ্যতে সেটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিতে পারেন, অন্য কারও সম্মতির প্রয়োজন হয় না।
কিন্তু স্বামী, সঙ্গী বা কোনো দাতার শুক্রাণু দিয়ে ডিম্বাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ ফ্রিজ করলে, ভবিষ্যতে সেই ভ্রূণ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতির প্রয়োজন হয়।
এগ ফ্রিজিংয়ে কী ধরনের ঝুঁকি আছে?
গাই'স অ্যান্ড সেন্ট থমাস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, এগ ফ্রিজিংয়ের আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রোগীকে হরমোনের ইনজেকশন দেওয়া হয়, যাতে ডিম্বাশয়ে একসঙ্গে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব হয়ে ওঠে। তবে এর একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হলো ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম, সংক্ষেপে ওএইএসএস।
এতে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং পেট বা বুকে তরল জমতে পারে। গুরুতর হলে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ভিট্রিফিকেশন (ফাস্ট ফ্রিজিং) পদ্ধতিতে এই ঝুঁকি এক শতাংশেরও কম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়াতেও কিছু ঝুঁকি রয়েছে। আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হলেও সংক্রমণ, রক্তপাত কিংবা আশপাশের অঙ্গ, যেমন– মূত্রথলি বা অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সামান্য ঝুঁকি থাকে। ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশন দেওয়ার কারণে আবার কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, হরমোনের ওষুধে ডিম্বাশয় যথেষ্ট সাড়া না দিলে বা সংগ্রহ করা ডিম্বাণু সংরক্ষণের উপযোগী না হলে পুরো প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধও করতে হতে পারে।
ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এগ ফ্রিজিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তত আড়াই সপ্তাহ সময় লাগে। তখন কেমোথেরাপি শুরু করতে কিছুটা দেরি হতে পারে। আবার জরুরি ভিত্তিতে কেমোথেরাপি শুরু করতে হলে এগ ফ্রিজিংয়ের সুযোগ নাও থাকতে পারে।
এইচএফইএ-ও বলছে, এগ ফ্রিজিং এমনিতে নিরাপদ হলেও হরমোনের ওষুধের কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছুক্ষেত্রে ওএইএসএস-এর মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় অসুবিধা, ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেও ভবিষ্যতে গর্ভধারণের নিশ্চয়তা নেই।