সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশিরা কে কোন হাসপাতালে

ছবির উৎস, Reuters
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনালে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ জন বাংলাদেশি সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহতদের মধ্যে সাফফাত রহমান নামে একজন এখনো অচেতন অবস্থায় রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে।
শনিবারের ওই হামলার পর রোববাই মন্ত্রণালয় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোঃ নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে মো: শাহেদ আহম্মেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
মি. বদরপুরি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন বলে বিবিসি বাংলার কাছে নিশ্চিত করেছেন তার ভগ্নীপতি মাওলানা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন । অন্যদিকে শাহেদ আহম্মেদ সৌদি আরবেই প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি তিনি দেশে এসে আবার মক্কায় ফিরছিলেন।
ওইদিন বেলা ৩টা ২০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র যখন রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এ বিস্ফোরিত হয় তখন বাংলাদেশি যাত্রীরা জেদ্দাগামী ফ্লাইটে আসন গ্রহণ করার জন্য বোর্ডিং ব্রিজে লাইনে অপেক্ষমাণ ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশি সহ মোট ১৩ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও ২৪ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছে বলে প্রবাসী মন্ত্রণালয় নিশ্চিত হয়েছে।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, probashi.gov.bd
আহত বাংলাদেশিরা কে কোথায়
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে এখন দুই জন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন এবং এর মধ্যে একজন এখনো অচেতন অবস্থায় আছেন।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এই দুজনের মধ্যে একজন হলেন নওগাঁর রানিনগর উপজেলার মো: মোখলেসার রহমানের ছেলে সাফফাত রহমান। অন্যজন হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মো: মহিব উল্লাহর পুত্র মো: দাউদুল ইসলাম।
তারা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ছিলেন। আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাফফাত রহমান এখন পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে আছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
রিয়াদের কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন আছেন তিন জন বাংলাদেশি। তবে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে এসে দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন এই তিন জনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
এই তিন জন হলেন: ওমরাহ করতে যাওয়া ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের হাফেজ হাসান ও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া সদরের কাজী নুরুল্লাহ এবং সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী মো: ওমর ফারুক। তারা তিনজনই জেদ্দার বিমানের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ছিলেন।
ওমরাহ করতে যাওয়া আরও দুজন চিকিৎসাধীন আছেন রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে। তারা হলেন, ঢাকার লালবাগের মো: সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিংয়ের অধিবাসী আবুল মনসুর মো: রিয়াজ উদ্দীন।
এছাড়া ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া ঢাকার ডেমরার মো: আব্দুল্লাহকে এখন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে।

ওদিকে সুলাইমান আলহাবিব, তাখাসসুচি ব্রাঞ্চ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিন জন। এর মধ্যে ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক ও মোহাম্মদ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী।
আর অন্যজন হলেন ওমরা করতে যাওয়া ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মো: মুজিবুল হকের ছেলে আরমান হোসেন।
এছাড়া কিংডম হাসপাতালে প্রবাসী কর্মী মো: রফিক মিয়া, কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে মো: রায়হানুল ইসলাম, মো: মিসবাহ উদ্দীন হিরক ও ইসমাইল হোসেনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে পাঁচ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তারা সবাই প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী।
তারা হলেন, সালমা আক্তার, মো: শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো: শাহজাহান সরকার।
এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রবাসী কর্মী মো: আসাদুল ইসলাম ও মো: জামাল। আর সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে আছেন নাজমা আক্তার।
সুলাইমান আলহাবিব, আলসাহাফা ব্রাঞ্চ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল।

ছবির উৎস, Getty Images
ওদিকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের রিয়াদ হয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে গমন ও রিয়াদ থেকে বাংলাদেশে আসার জন্য আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে দূতাবাস।
এর মধ্যে প্রায় একশ বাংলাদেশি যাত্রীকে রিয়াদের মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল ও প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে আবাসনের ব্যবস্থা করার তথ্য দিয়েছে তারা।
এর বাইরে ওমরাহ পালনের জন্য ৬৭ জনকে বিশেষ বাসযোগে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী বাতিল হওয়া একটি ফ্লাইটর ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মাম কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং আরও বাংলাদেশি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার কথা রোববার সকালেই জানিয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আজ সোমবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গেছে।
রোববার সকালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হতাহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।









