আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় নিহত অনেক

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক সেনাসদস্য।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠিগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, যে দাবি তালেবান সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে (ফাইল ছবি)
    • Author, বিবিসি পশতু এবং বিবিসি উর্দু
  • Published
  • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

রবিবার পাকিস্তান তাদের সীমান্ত সংলগ্ন আফগান প্রদেশগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং স্থলসেনা পাঠিয়েছে। এ হামলার ফলে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে বলে তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই "কাপুরুষোচিত কাজ"-এর নিন্দা জানিয়েছে এবং একে "অপরাধ ও নৃশংসতা" বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিবিসি পশতুকে তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১০০ জন নিহত বা আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠিগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২৯ জন 'জঙ্গি' নিহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই হামলাগুলো ছিল "নিরীহ মানুষের ওপর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার" জবাব।

পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো, তাদের ভাষায়, 'সন্ত্রাসীদের' আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে।

যদিও, তালেবান সরকার বরাবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।

মার্চ মাসে পাকিস্তান কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে তালেবান সরকার
ছবির ক্যাপশান, মার্চ মাসে পাকিস্তান কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে তালেবান সরকার

অন্যদিকে, কাবুলও এর আগে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে, যেখানে বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে - যদিও পাকিস্তান বলছে তারা কেবল 'জঙ্গিদের' লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর গত অক্টোবরে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।

তবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় অতীতের অন্যান্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মতো এই চুক্তিটিও পরে ভেঙে যায়।

সাম্প্রতিক হামলায় পাকিস্তান ও তালেবান সরকারের দাবি করা হতাহতের সংখ্যা বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, এই হামলা বেসামরিক মানুষের বাড়িঘরে আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠিগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকতিকা প্রদেশের মানদিখেল গ্রামে হতাহতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।

ফেব্রুয়ারিতে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় হামলা চালায় পাকিস্তান - ফাইল ফটো

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ফেব্রুয়ারিতে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় হামলা চালায় পাকিস্তান - ফাইল ফটো
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, শনিবার করাচিতে সদর দপ্তরে পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধু রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত হওয়ার একদিন পর রোববারের এই হামলার ঘটনা ঘটল।

ওই আত্মঘাতী হামলায় তিন হামলাকারীও নিহত হয় এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা চতুর্থ একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন যিনি একজন আফগান নাগরিক।

টিটিপি-র একটি বিভক্ত অংশ জামাত-উল-আহরার শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে।

অতীত হামলায় জড়িত থাকার কারণে টিটিপি (যাকে পাকিস্তানের তালেবানও বলা হয়) এবং জামাত-উল-আহরার—উভয়কেই পাকিস্তান এবং জাতিসংঘ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত এলাকায় থেমে থেমে সীমান্ত সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় অনেক মানুষ নিহত হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে অনেক মানুষ নিহত হয়।

মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলায় শত শত মানুষ প্রাণ হারায়।

এর আগে জুনে, পাকিস্তান প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায় যাতে ২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছিল, এই হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু।