পত্রিকা: 'অভাবনীয়' উপহারের বার্তা দিয়ে তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে চাইছে দিল্লি'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

আজ শনিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় তারেক রহমানের দিল্লি সফর ইস্যু, যা হতে পারে চলতি মাসেই; এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটের এখনও সুরাহা না হওয়ায় গ্যাস সংকট কাটেনি, আর তাতে আজও বন্ধ থাকছে অধিকাংশ কারখানা এবং চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাসের বিষক্রিয়ায় অন্তত ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছেন— ঘুরেফিরে এই তিনটি খবর প্রাধান্য পেয়েছে।

এই খবরে বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগদান করছেন না— জানার পরই ভারত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ঢাকার কাছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবরকম প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব কতটা, সেটা স্পষ্ট করা হয়েছে ভারতের তরফে।

এমনকি ভারত সফরে এসে তারেক রহমানকে যাতে খালি হাতে ফিরে যেতে না হয় সেজন্য 'অভাবনীয়' কূটনৈতিক উপহারের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় মিডিয়াতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং দু'দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।

এদিকে, ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান। তার এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লি— দুই রাজধানীতেই প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

দেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক প্রথম আলোও তারেক রহমানের দিল্লি সফর ইস্যুতে প্রধান শিরোনাম করেছে। যেখানে সফরের প্রস্তুতির পাশাপাশি টানাপোড়েনের বিষয়ও ওঠে এসেছে।

পত্রিকাটির দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম— হামে মারা যাওয়া ৫১% শিশুর টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি

খবরটিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হামে মৃতদের ৫১ শতাংশের এই রোগের টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, হামের সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে। তবে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে সংক্রমণ যে স্তরে ছিল, জাতীয় টিকা ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও সেই পর্যায়ে আসেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামে মৃতদের ৯০ শতাংশ এ রোগের কোনো টিকা পায়নি। মৃতদের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হামের এক ডোজ টিকা পেয়েছে; আর ২ দশমিক ১৯ শতাংশ হামের দুই ডোজ টিকা পাওয়ার পরও মারা গেছে।

হামে মারা যাওয়া মানুষের বয়সভিত্তিক বিভাজনও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাতে দেখা যাচ্ছে, মৃতদের ২০ শতাংশের বয়স ৬ মাসের কম; আর ৬ থেকে ৯ মাস বয়স ৩১ শতাংশের। অর্থাৎ হামে মৃতদের ৫১ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। এদের কারও টিকা দেওয়ার বয়সই হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, হামে মূলত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদেরই মৃত্যু হচ্ছে, এই হার ৯৪ শতাংশ।

সমকালের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম— আজও বন্ধ থাকছে অধিকাংশ কারখানা, শঙ্কিত উদ্যোক্তারা

এতে বলা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ ভারী শিল্পকারখানা আজ শনিবারও স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে পারছে না।

কারখানা চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়া যাবে— এমন নিশ্চয়তা পাননি বলে জানিয়েছেন একাধিক শিল্প গ্রুপের মালিক।

গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে গত বুধবার থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, হবিগঞ্জ, নরসিংদীতে ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আজও এই অবস্থা অব্যাহত থাকছে।

একাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে যাতে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা যায়, সে জন্য তারা শ্রমিকদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, আগামীকাল রোববার পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে তারা শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার কথাও ভাবছেন।

এমন পরিস্থিতির কারণে বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন সংকট বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

এদিকে, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটের এখনও সুরাহা হয়নি।

নিউ এইজের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— Ensure gas, power supply or quit, NCP warns govt; অর্থাৎ সরকারকে এনসিপির হুঁশিয়ারি— গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করুন, নইলে সরে পড়েন।

এই খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সমাবেশে দলটির নেতারা সতর্ক করে বলেছে, দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে তারা পুনরায় রাস্তায় নামবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন।

এছাড়া, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, চাঁদাবাজি দমন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি সংস্কারের বিষয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম— সাগরপাড়ে বিষাক্ত সকাল

এই খবরে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় গ্যাসের বিষক্রিয়ায় অন্তত ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন দুই শ্রমিক।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোডসংলগ্ন সাগর উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

জাহাজভাঙা শিল্পের ৬৬ বছরের ইতিহাসে এক দিনে এত শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা ।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গ্যাসের তীব্রতা ব্যাপক ছিল। গ্যাসের গন্ধের কারণে তারা কারখানাসংলগ্ন খালে মাছ ধরার নৌকা ভেড়াতে পারেননি। খাল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রধান শিরোনাম— Millions in peril: Barind groundwater sinks beyond reach; অর্থাৎ বরেন্দ্র অঞ্চলে নাগালের বাইরে ভূগর্ভস্থ পানি, বিপদে কোটি মানুষ।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশের খরাপ্রবণ উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপেও পানির সরবরাহ কমছে এবং সেচ সুবিধা সংকুচিত হচ্ছে।

এর ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিজমি, সুপেয় পানির সরবরাহ এবং কোটি মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই সংকটে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক কোটি মানুষ।

নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫টি উপজেলার ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে সরকার 'অতি উচ্চ পানিসংকট' এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

আরও ৮৮৪টি মৌজাকে 'উচ্চ' এবং ১ হাজার ২৪০টি মৌজাকে 'মাঝারি' পানিসংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ নওগাঁর নিয়ামতপুর, পোরশা, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও সাপাহার উপজেলায়। এসব এলাকায় ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে নলকূপ বসানোর পরও কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা এ সংকটের জন্য নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনকে দায়ী করছেন।

যুগান্তরের প্রধান খবর— গডফাদারদের সম্পদ ক্রোক হচ্ছে

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি)।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা ৩৯টি মামলার অধীনে এই বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পর্যায়ক্রমে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

অপরাধীদের মূলোৎপাটনে সারাদেশে আরও ৬৮টি পৃথক অনুসন্ধান চালিয়ে গডফাদারদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই খবরে বলা হয়েছে, আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবার বেসরকারি খাতে বড় পরিসরে জ্বালানি তেল পরিশোধন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তুলছে টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি।

দেশে প্রতি বছর জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। এর বিপরীতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রিফাইনারিগুলোর পরিশোধন সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন, যা মোট চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ।

ফলে দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই পরিশোধিত আকারে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)।

টিকে গ্রুপের এই রিফাইনারি চালু হলে প্রতিষ্ঠানটির মোট জ্বালানি তেল পরিশোধন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা হবে ২২ লাখ টন, যা হবে দেশের সর্ববৃহৎ রিফাইনারি।

অন্যদিকে, চাহিদার প্রায় ৫৭ শতাংশ জ্বালানি তেল দেশেই পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রামে নতুন এই রিফাইনারির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে এটি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম— ভরা মৌসুমে ইলিশের আকাল। প্রতিবেদনটিতে রাজধানীর বাজারে ইলিশের রেকর্ড দাম; বরিশাল, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে ইলিশের উৎপাদন কমার কথা বলা হয়েছে।

রাজধানীতে গত ৫ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দামে এখন ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি ও ইলিশ ধরার খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন।

রুপালি এই মাছের প্রধান বিচরণক্ষেত্র বরিশাল বিভাগের নদ-নদীগুলোয় এখন দেখা দিয়েছে ইলিশের তীব্র আকাল। গত ৩ বছরেই এই অঞ্চলে অন্তত এক লাখ টন ইলিশ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে দাম বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ।

এদিকে, ইলিশের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় হঠাৎ করেই কমে গেছে রুপালি ইলিশ। একই অবস্থা চট্টগ্রামেও।

বিজ্ঞানীরা বলছেন নদীর নাব্য, স্বাভাবিক গভীরতা ও উজানপ্রবাহ না বাঁচালে অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় সম্পদ ইলিশ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এছাড়া, দূষণের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানালেন জেলেরা।