পশ্চিমবঙ্গে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা থেকে নজর ঘুরিয়ে দিচ্ছে রাজনৈতিক দোষারোপ?

ছবির উৎস, x/@BJP4Bengal
- Author, প্রত্যুষ রায়
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
পশ্চিমবঙ্গে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পরে তার বাড়িতে যাওয়ার পথে মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে যে আক্রমণ হয়েছে, তা নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন মমতা ব্যানার্জী ঘনিষ্ঠ নেতা কর্মীরা। রাজ্য বিধানসভার সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে সোমবার তারা বিক্ষোভ দেখান।
ঘটনার সূত্রপাত পুলিশ হেফাজতে একটি মৃত্যুকে ঘিরে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের হালিশহর থানার লক-আপে মৃত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিরজু কেওট-এর মৃত্যুর খবর আসে আটই অগাস্ট, শনিবার।
পরের দিন রোববার বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। কাঁচরাপাড়ায় মৃতের বাড়িতে যাওয়ার সময়ে হালিশহরের কাছে আক্রমণের শিকার হন মমতা ব্যানার্জী। তার উদ্দেশ্যে 'চোর' ও 'ডাকাতরানী' স্লোগান তোলা হয় বলে অভিযোগ।
একই সঙ্গে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল, কাদা ও জুতো ছোঁড়া হয়। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের উপরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জী ঘনিষ্ঠরা।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার মৃত ওই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে যথাযথ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন ও একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহতি দিয়েছেন।
এছাড়াও পরিবারকে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে তাদের সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত সরকার। ময়নতদন্তের রিপোর্ট দেখে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ বিচার করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মি. অধিকারী।
অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জীর উপর হামলার ঘটনাকে অন্যান্য তৃণমূল নেতার উপর হামলার ঘটনার সঙ্গে একই সমীকরণে মূল্যায়ন করছে বিজেপি।
রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পেছনে 'জনরোষ'কেই দায়ী করেন।
ফলে, ঘটনার দুই দু'দিন পরেই দেখা যাচ্ছে, হেফাজতে একটি মৃত্যু নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনা পরিবর্তিত হয়েছে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে।

ছবির উৎস, ANI
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন
রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে দড়ি টানাটানি?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
তৃণমূল কংগ্রেস এমপি ও আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জী সুপ্রিম কোর্টে মমতা ব্যানার্জীর উপর ঘটা আক্রমণের ঘটনাটি উত্থাপন করবেন ও বিচারের জন্য লড়বেন বলে জানিয়েছেন আরেক তৃণমূল কংগ্রেস এমপি সৌগত রায়।
আজ শুভেন্দু অধিকারী মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী ও সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের বাড়িতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। প্রসঙ্গত, গতকাল মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে কথা বলতে চাননি মৃতের স্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তৃণমূল আমলে বহু বিজেপি কর্মী খুন জয়েছেন কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কোনও পদক্ষেপ নেননি। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও তিনি নিজে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন।
মৃত বিজু কেওটের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওটকে তিনি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, সন্তানদের যাবতীয় দায়িত্ব ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মৃতের স্ত্রী সরকারের আশ্বাসে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেছেন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মমতা ব্যানার্জীকে উদ্দেশ্য করে হালিশহরে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি আপনাকে অনুরোধ করব, কোথাও গেলে পুলিশকে জানিয়ে আসবেন ও পুলিশ যথাসম্ভব ব্যবস্থা করবে। আপনার সময়ে ৩১৫ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, অভয়ার মতো ঘটনা অসংখ্য, বিপরীত মতাদর্শ পোষণ করে তাদের কারও পাশে আপনি দাঁড়াননি... আপনি যা পারেননি সেটা শুভেন্দু অধিকারী করার চেষ্টা করল।"
এ বিষয়ে মিজ. কেওট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "হ্যাঁ অমি অন্য দল করতাম। তিনি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তার আশ্বাসে আমি বিচারের জন্য আশাবাদী।"
তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরের সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করার এই ঘটনার পরে বিজেপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন যে তৃণমূলের আমলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আছে এমন কোনও আক্রান্তের সঙ্গে দেখা করেননি মমতা ব্যানার্জী।
ফলে প্রশ্ন ওঠে, এই সাক্ষাৎ করে বিজেপি কী পরোক্ষে নিজেকে 'তৃণমূলের থেকে শ্রেষ্ঠতর' বলে তুলে ধরতে চাইল?
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের কাছে বিবিসি বাংলা এই বিষয়টি জানতে চায়, তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত তিনি ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনও উত্তর দেননি।
মমতা ব্যানার্জীর উপর আক্রমণ প্রসঙ্গে ১০ই অগাষ্ট দিল্লিতে অভিষেক ব্যানার্জী বলেন, "এর পেছনে বিজেপি নেতাদের হাত রয়েছে, বিজেপি বলেছিল 'ভয় আউট ভরসা ইন', কিন্তু এরা যা শুরু করেছে তিন মাসে, তা বাংলার মানুষ দেখেছেন।"
সামাজিক মাধ্যমে অভিষেক ব্যানার্জীই আটই অগাস্ট প্রথম বিরজু কেওটের ঘটনা নিয়ে পোস্ট করেন। যদিও শুভেন্দু অধিকারীর বিরজু কেওটের স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে কোনও কথা বলতে শোনা যায়নি তাকে।

ছবির উৎস, ANI
শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎ কীভাবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস?
শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপকে প্রশংসা করে বিজেপি এমপি সুকান্ত মজুমদার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, "আগে বিজেপির কর্মীরা মারা গেলে একবারও মমতা ব্যানার্জীর সরকার পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি, আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে, এটাই সবথেকে বড় পরিবর্তন যা মানুষ চেয়েছিলেন।"
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আমার মতে, শুভেন্দু ঠিক কাজই করেছেন। এই অর্থ প্রদান করা উচিত।
"কিন্তু সমস্যা হলো, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আরজি কর-এর ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক এই পদক্ষেপটিই তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, এটি ঘুষ বা মুখ বন্ধ রাখার টাকা। তিনি কেন এত দ্রুত টাকার প্রসঙ্গ তুললেন?"
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক নারী চিকিৎসক হাসপাতালেই ধর্ষণের শিকার হয়ে খুন হন দুবছর আগে।
সেই ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে মি. ঘোষ বলেন, "আমরা বলেছিলাম, টাকার বিনিময়ে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ হয় না। তবুও এটি সরকারের দায়িত্ব।"
"কোন ঘটনায় কত টাকা দেওয়া হবে, তার জন্য জাতীয় স্তরে একটি তালিকা রয়েছে। এর সঙ্গে ঘুষের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি চিকিৎসকদের একটি সংগঠনও বলেছিল যে, পরিবারটির সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।"
কুণাল ঘোষের মন্তব্যে এটা পরিষ্কার যে বিজেপির 'তোমার থেকে শ্রেষ্ঠ' বার্তার বিরুদ্ধে দুই সরকারের পদক্ষেপের মধ্যে মিল ও তুলনামূলকভাবে আলাদা প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
বিকেলে একটি সাংবাদিক সম্মেলনেও অধিকাংশ সময় জুড়ে তিনি মূলত কথা বলেছেন মমতা ব্যানার্জীর উপর আক্রমণ, তৃণমূল নেতাদের পুলিশি হেনস্থার বিষয়ে।
মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নিয়ে তার মত, "মমতা ব্যানার্জী গেছেন বলেই চাপে পড়ে শুভেন্দু অধিকারী পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। তিনি যে পুলিশ কর্তাদের বরখাস্ত করেছেন সেটি রুটিন প্রক্রিয়া মাত্র। এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিৎ।"

ছবির উৎস, Youtube/@Hothatjodiuthlokotha & Pradeep Gaur/Mint via Getty Images
'আসল ঘটনা' থেকে নজর ঘুরে যাচ্ছে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইউটিউবার পৌলমী নাগ মনে করেন যে আজকের মূল প্রশ্নটি আসলে অন্য হওয়ার কথা ছিল।
একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "আজ প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী, যিনি কিনা পুলিশমন্ত্রীও বটে, তাঁর অধীনস্থ পুলিশের হেফাজতে কীভাবে একজনকে অত্যাচার করা হয়? কীভাবে এখনও পুলিশ দলদাসের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়?"
তার মতে, বর্তমান সরকারের নিজেকে সাবেক সরকারের থেকে উত্তম প্রমাণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
"আপনি কোনও দিনও খুন হওয়া বিরোধীদের বাড়ি যাননি", শুভেন্দু অধিকারীর এই কথার প্রেক্ষিতে পৌলমী নাগ মনে করেন যে সাবেক সরকারকে শিক্ষা দেওয়াই এই সরকারের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, "মমতার শিক্ষক হয়ে কী লাভ যদি না শুভেন্দুবাবু ভাবেন যে মমতা আবার মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, তাই এখন পাঠ পড়িয়ে দিই। যদি এটা না হয়, তাহলে 'নিজের' পুলিশের শিক্ষক হয়ে শেখান, যাতে হেফাজতে মানুষকে মরতে না হয়।"
আরজি করে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সাবেক সরকারের নীতির সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা এমপি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সাবেক আমলা জহর সরকার।
বিজেপির সমালোচক বলে পরিচিত মি. সরকার বিবিসি বাংলাকে এই হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বলেন, "বিজেপি এমন সব তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দলে নিয়েছে যাদের বিরুদ্ধে জুলুমবাজির কুৎসিত সব অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।"
জহর সরকারের মতে, বিরজু কেওট, যিনি বা যার স্ত্রী বিজেপি শিবিরে যুক্ত হননি, সেই ঘটনায় সক্রিয় ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া বিজেপির দ্বিমুখী রাজনীতি, যা ভবিষ্যতে বিজেপির ক্ষতিই করবে।

ছবির উৎস, ANI
কী ঘটেছিল বিরজু কেওটের সঙ্গে?
মৃত বিরজু কেওট কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের জেরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার সাতই অগাষ্ট তাকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। এর পরে হেফাজতে থাকাকালীনই মৃত্যু হয় তার।
বিরজু কেওটের স্ত্রী আটই অগাষ্ট তার মৃত্যুর খবর পান এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, "গতকাল (সাতই অগাষ্ট) রাত নয়টার পরেও পুলিশ হেফাজতে আমি তার সঙ্গে দেখা করি। কিন্তু পুলিশ তার পরে আমার স্বামীকে হাত পা বেঁধে মারধর করে। সারা শরীরে এবং পশ্চাদদেশে আঘাতের ফলে তার রক্তপাত হয় ও তিনি হয়তো ভোরের দিকে মারা যান।"
"এর পর পুলিশই হাসপাতালে মৃতদেহ ফেলে চলে যায়। পরিবারের কাউকে কিছু জানানো হয়নি পুলিশের তরফে।"
সোমবার জেনি শর্মা কেওটের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বিরজু কেওট যে হেফাজতেই মারা গিয়েছেন তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।"
তবে কী কারণে মারা গিয়েছেন তা ময়নতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি।

ছবির উৎস, x/@AITCofficial
জনরোষ তত্ত্বেই অনড় বিজেপি
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই ঘোষণা করেছিলেন যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সুরক্ষায় কোনও খামতি রাখবে না বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "কোনও ভিআইপি এলে তার প্রোটোকল আগে থেকে নির্ধারণ করতে হয়। আপনি পুলিশকে কিছুই জানাননি।"
এর আগে রোববার রাত্রে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর উপর আক্রমণের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করে সাধারণ মানুষের রোষকেই দায়ী করেছিলেন।
সোমবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, "মানুষ একটু তার সঙ্গে ভুল ব্যবহার করে ফেলেছেন। তাতে কী, বাকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের তো জেলে যেতে হয়েছে। আপনার উপর তো কোনও হাত পড়েনি।"
"মহিলা বলেই তিনি অনেক ক্ষেত্রে পার পেয়ে গেছেন", বলে মত দিলীপ ঘোষের।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সামাজিক মাধ্যম-সেল দাবি করেছে যে ওই ভিড়ে যারা ছিলেন তারা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। কয়েকজনকে শনাক্ত করে ছবি পোস্ট করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে।
যদিও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, তিনি বলেন, "কোনও মহিলা ও রাজনৈতিক নেতার গাড়ির উপর আক্রমণ ভারতীয় জনতা পার্টি সমর্থন করে না। কিন্তু এই ঘটনা যখন ঘটেইছে, তখন পুলিশ তার যথাযথ তদন্ত করবে।"
যদিও এই ঘটনাকে "জনতা ও তৃণমূল লড়াই" বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি বলেন, "এই ঘটনা আমাদের সরকার ও পার্টি সমর্থন করে না। এই আক্রমণ আমাদের সংস্কৃতি নয়। মমতা ব্যানার্জীর দোষ থাকতে পারে কিন্তু এত বয়স্ক একজন মহিলার উপর এই আক্রমণ সমর্থনযোগ্য নয়।"








