ট্রাম্পকে 'হত্যার পরিকল্পনা' ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর মোজতবা খামেনির 'প্রতিশোধের' বার্তা

Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে- গণমাধ্যম প্রকাশিত এমন খবর সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এমন কোনো হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের "সব এলাকাকে সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেবে এবং ধ্বংস করবে"।

শনিবার ভোরে ট্রুথ সোশ্যালে এই প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য গণমাধ্যম এ সপ্তাহে জানায়, ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে যাতে বলা হয়েছে, ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে হত্যার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজাতেও জড়ো হওয়া মানুষের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রতিশোধ এবং ট্রাম্পকে হত্যার প্রকাশ্য আহ্বান জানানো হয়েছিল।

ট্রাম্পের হুমকি সামনে আসার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি একটি লিখিত বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে বলা হয় তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া "অবশ্যম্ভাবী"।

বাবার দাফনের পর প্রকাশিত প্রথম বক্তব্যে তিনি বলেন, "এই বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত উপস্থিতি বা অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। আমরা উপস্থিত থাকি বা না থাকি, এটি ঘটবেই।"

'এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত'

ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে- এই ক্ষেত্রে আমাকে- হত্যা করা বা হত্যার চেষ্টা করার যে হুমকি ইরানের সরকার দিয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উচ্চারিত হয়েছে, সে হুমকির ওপর যদি তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে তাক করে রাখা ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত ও নিক্ষেপের জন্য সম্পূর্ণ সজ্জিত রয়েছে এবং এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত থাকবে।"

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বছরের জন্য, প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়িয়ে, ইরানের "সব অঞ্চলে সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ" চালাতে প্রস্তুত বলেও লিখেছেন তিনি।

ট্রাম্প "সব প্রশংসা আল্লাহর" এই বাক্য দিয়ে বার্তাটি শেষ করেন।

গত সপ্তাহে তুরস্কে নেটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময়ও ট্রাম্প একই প্রসঙ্গ তুলে বলেছিলেন, "আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু"।

২০২৪ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবির জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচক্রান্ত সম্পর্কে তাদের অবহিত করেছিল। সে সময় ইরান সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় বিভিন্ন শহরে অংশ নেওয়া অগণিত মানুষের অনেককেই আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ এবং ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি লেখা বার্তাসহ পোস্টার-ব্যানার বহন করতে দেখা গেছে।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিকেই আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে 'প্রতিশোধ' এবং 'সমঝোতা' ইরানের রাজনীতিতে বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সম্প্রতি জানিয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন তথ্য দিয়েছে যাতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি নতুন পরিকল্পনা বিবেচনা করছিল।

যদিও ইরানের কর্মকর্তারা বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্পের হুমকি সামনে আসার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি একটি লিখিত বার্তা প্রকাশ করা হয়।

বার্তাটিতে যে তারিখ দেওয়া হয়েছে সেটি তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের দিনের। তবে বাবার মৃত্যুর পর, এমনকি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পাওয়ার পরও তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

পরিবারের সদস্যদের জানাজা বা দাফনেও তাকে দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, তিনি তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লিখিত বার্তাটি পোস্ট করেছেন।

মোজতবা খামেনি তার বাবা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহতদের জন্য "রক্তের প্রতিশোধ" নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বার্তায় মি. খামেনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, "খুব শিগগিরই বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীন মানুষ এই ঐশী মিশনের একটি করে অংশ বাস্তবায়ন করবে।"

আলী খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রকাশিত এই বার্তায় বলা হয়, "আমরা আপনার পবিত্র রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধে নিহত সব শহীদের রক্তের প্রতিশোধ অপরাধী ও কলঙ্কিত হত্যাকারীদের কাছ থেকে নেওয়ার অঙ্গীকার করছি। এই প্রতিশোধ আমাদের জাতির ইচ্ছা এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে।"

গত মাসে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয় যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং 'সব ক্ষেত্রে' সংঘাতের অবসান ঘটানো।

তবে গত সপ্তাহে দুই দেশে মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হয়। বুধ ও বৃহস্পতিবার ইরানের ১৭টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে তেহরানও। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, জর্ডানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

তবে শুক্রবারের পর নতুন করে আর কোনো হামলার খবর আসেনি। ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আবার শুরুর কথা রয়েছে।