আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে
- Author, নারদিন সাদ ও সারিন হাবেশিয়ান
- Published
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি নীতি ঘোষণা করেছে, যার ফলে গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক অধিকাংশ অভিবাসীকে দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থিত কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসিআইএস) শুক্রবার জানিয়েছে, যারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের "ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া" দেশটির বাইরে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
এই পদক্ষেপটিকে অবৈধ অভিবাসন কমানোতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ বলা হচ্ছে। এতদিন নানা রকম ভিসাধারী ও দর্শনার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারতেন, সেই সুযোগটির দুর্বলতা বন্ধ করার কধা বলা হচ্ছে।
এই নীতির সমালোচকেরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই পদ্ধতি পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ আবেদন প্রক্রিয়ার সময় একসঙ্গে থাকতে সাহায্য করত।
নতুন পদ্ধতি এমনও করতে পারে যে, যারা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আশায় দেশ ছাড়বেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়, তাদের মধ্যে কারও কারও ফিরে আসা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
ইউএসিআইএস -এর নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটক ভিসাধারীদের মতো ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে আসতে হবে।
"যখন বিদেশিরা তাদের নিজ দেশে থেকে আবেদন করেন, তখন তাদের খুঁজে বের করা এবং বহিষ্কার করার প্রয়োজন কমে যায়। এমন অনেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন," বলছে ইউএসিআইএস।
তারা এই ব্যবস্থাকে "আরও ন্যায্য ও কার্যকর" হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট, যা ইউএসিআইএস তত্ত্বাবধান করে, এক পোস্টে লিখেছে, "আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের যুগ শেষ"।
"আমরা আইনের মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাচ্ছি, যাতে বিদেশিরা আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থা সঠিকভাবে অনুসরণ করে," ইউএসিআইএস -এর মুখপাত্র জ্যাক কালার বলেন।
"এখন থেকে, যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকা কোনো বিদেশি যদি গ্রিন কার্ড চান, তবে তাকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে"।
কালার বলেন, এই নীতির ফলে অভিবাসন ব্যবস্থা "আইনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী" কাজ করবে, এবং ফাঁকফোকর ব্যবহারে উৎসাহিত করার পরিবর্তে তা বন্ধ করবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ "গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করা উচিত নয়"।
চলমান গ্রিন কার্ড আবেদনগুলো এতে প্রভাবিত হবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
ইউএসিআইএস -এর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, নীতিটি কার্যকর হওয়ার সময় "অর্থনৈতিক সুবিধা দেয় বা জাতীয় স্বার্থ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের আবেদন সম্ভবত বর্তমান প্রক্রিয়াতেই চলতে পারবে"।
তিনি আরও বলেন, "অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিদেশে আবেদন করতে বলা হতে পারে"।
গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বহু ধাপে সম্পন্ন হয় এবং এতে কয়েক মাস থেকে বহু বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা বিভাগের পরিচালক জানিয়েছেন, বর্তমানে এক মিলিয়নেরও বেশি বৈধ অভিবাসী তাদের স্ট্যাটাস পরিবর্তনে গ্রিন কার্ড আবেদনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
ইউএসসিআইএস এর মুখপাত্র জ্যাক কালার যুক্তি দেন, আইন অনুসরণ করলে অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি বিদেশে অবস্থিত কনস্যুলার অফিসগুলোর মাধ্যমে করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে ইউএসসিআইএস তাদের সম্পদের ব্যবহার অন্য মামলায়, যেমন সহিংস অপরাধ ও মানবপাচারের শিকারদের ভিসা এবং নাগরিকত্ব আবেদন পর্যালোচনায় ব্যবহার করতে পারবে।
সংস্থাটি বলেছে, এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের অভিবাসন আইন এবং আদালতের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে "কোনো বিদেশি এই বিশেষ ধরনের সহায়তা পাওয়ার যোগ্য কি না তা নির্ধারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সব তথ্য ও উপাদান বিবেচনা করতে"।
গত বছর বিদায়ের আগ পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএস -এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা মাইকেল ভালভার্দে বিবিসির মার্কিন গণমাধ্যম সহযোগী সিবিএস-কে বলেছেন, শুক্রবারের এই ঘোষণা "প্রতি বছর লাখো পরিবারের এবং নিয়োগদাতাদের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটাবে"।
"এটি একটি প্রায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ, যা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করবে," তিনি বলেন, "যারা নিয়ম মেনে চলেছেন, তারা এখন ব্যাপক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন"।
ট্রাম্প প্রশাসন এরইমধ্যে প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এ বছর প্রশাসনের আরেকটি নীতিতে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সে দেশে অবস্থান করলে বহিষ্কার, ভবিষ্যৎ ভিসায় অযোগ্যতা এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকতে পারে।