রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপগুলো সাইবার হামলার শিকার

Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশেরই ইমারজেন্সি ওয়ার্নিং সিস্টেম বা জরুরি সতর্কতা পদ্ধতি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।

মস্কোর ইমারজেন্সি বা দূর্যোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অ্যালার্ট অ্যাপে একটি "বড় ধরনের সাইবার হামলা" চালানো হয়েছে, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারতো।

তবে তাদের পাবলিক অ্যালার্ট সিস্টেম বর্তমানে স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে বলেও জানিয়েছে তারা। তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার পেছনে কে রয়েছে, সেটি জানায়নি রাশিয়া।

এর ঠিক কিছুদিন আগেই ইউক্রেনের বিমান হামলার ওয়ার্নিং বা সতর্কতা অ্যাপে হ্যাকিংয়ের কারণে ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল।

ইউক্রেন সরকারের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস সেন্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স, এ করা এক পোস্টে এই হ্যাকিংয়ের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে।

তারা বলছে, এই অ্যালার্টগুলোর একটি ছিল "রুশ ভাষায় একটি বার্তা।"

ইউক্রেন একটি ছবি পোস্ট করেছে, যাতে দেশটির বিমান হামলার সতর্কতা অ্যাপে প্রদর্শিত কিছু সতর্কতা দেখানো হয়েছে।

একইসঙ্গে, নাগরিকদের অ্যাপে দেখতে পাওয়া যায়, এমন যে কোনো "অদ্ভুত বার্তা" "উপেক্ষা" করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

অন্যদিকে, রাশিয়া বলছে, তাদের অ্যাপ এখনও বন্ধ রয়েছে, তবে বৃহত্তর সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

রুশ ইমারজেন্সি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের পাবলিক অ্যালার্ট সিস্টেম "স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে।"

তারা জোর দিয়ে বলছে যে, সাইরেন ও লাউডস্পিকার, টেক্সট মেসেজ এবং টিভি ও রেডিও সম্প্রচারসহ একাধিক চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্কবার্তা জানানো হচ্ছে।

একইসঙ্গে, অ্যাপটি "শুধুমাত্র একটি অতিরিক্ত, সহায়ক নিউজ সার্ভিস মাত্র।"

টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "মোবাইল অ্যাপ হ্যাক হওয়ার ফলে পাবলিক অ্যালার্ট সিস্টেমের কার্যকারিতায় কোনো প্রভাব পড়েনি এবং পড়ার কোনো সুযোগও নেই।"

তারা আরো জানিয়েছে, মোবাইল অ্যাপটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন তবে পরিস্থিতি "নিয়ন্ত্রণে" রয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরেই ইউক্রেন এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।

২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের সম্মুখসারির শহর ওলেশকির যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে ভুয়া সতর্কবার্তাগুলো পাঠানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যস্থতায় হওয়া এক চুক্তির মাধ্যমে বিরল এই ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি ওলেশকি থেকে শত শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।

রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি।

তবে ওলেশকিতে লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারণ উভয় পক্ষই এই সময়টিকে তাদের সম্মুখসারির বাহিনীগুলোকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করার জন্য একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে। তবে এরপরেও, এই মানবিক মিশন কিছু আশার আলো জাগিয়েছে।

কিয়েভের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি "পদ্ধতিগত সমাধান" এর দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং "শান্তি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর পথ প্রশস্ত করতে পারে।"

রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওলেশকি অপারেশন সমন্বয়কারী ইয়ানা লান্ত্রাতোভা বলেছেন, উভয় দেশই "নিয়মিত মানবিক মিশন" চালাতে রাজী হয়েছে।

তবে ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্রের ভাষায়, ক্রেমলিন এ ধরনের অপারেশনগুলোকে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে আলাদা হিসেবে দেখে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

কয়েক ঘণ্টা আগে অ্যালার্ট পাঠানো হলে, ইউক্রেন "শত্রুতামূলক হস্তক্ষেপের" বিষয়ে সতর্ক করে।

টেলিগ্রামে পাঠানো সতর্কবার্তায় বলা হয়, "এয়ার অ্যালার্ম অ্যাপ্লিকেশনটি সম্ভবত শত্রুভাবাপন্ন হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। কোনো তেজস্ক্রিয়তার হুমকি নেই! শান্ত থাকুন এবং আমাদের চ্যানেলে আপডেটগুলো অনুসরণ করুন।"

ইউক্রেনিয়ান সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, অ্যাপটিতে একটি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং বিমান হামলার হুমকির বিষয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য ব্যবহার করার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে।

এই এয়ার অ্যালার্ট অ্যাপটি ইউক্রেনের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মন্ত্রণালয়ের এবং অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারকারীদের প্রতিরক্ষা সতর্কতার শুরু এবং শেষ সম্পর্কে অবহিত করে।

এদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়া জানিয়েছে, রাতের বেলা পূর্ব মস্কোর একটি "শিল্প প্রতিষ্ঠানে" ড্রোন হামলা হয়েছে। যেটিকে ইউক্রেনের গণমাধ্যম কস্তোভো তেল শোধনাগার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কস্তোভো প্ল্যান্টের অবস্থান রাশিয়ার নিজনি নভগোরদ অঞ্চলের গভর্নরের কার্যালয়, যিনি রাতে ও সকালে একটি "বড় ধরনের" ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছেন।

ওই প্ল্যান্টে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গরম পানির সরবরাহ হ্রাসের বিষয়ে সতর্ক করেছেন গভর্নর গ্লেব নিকিতিন।

তিনি জানান, ড্রোনের খসে পড়া অবশিষ্টাংশের কারণে একজন নারী আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রুশ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনী বারবার রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার রাতের বেলা রাশিয়া চারটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে লক্ষাধিক ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এসব হামলার তীব্রতা ছিল "খুব বেশি"।

রোববার কিছু সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

রাশিয়ার জরুরি অ্যাপে পাঠানো ভুয়া সতর্কবার্তায় ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়েছিল, "পি১-সানস-এ (ইউক্রেনের আক্রমণকারী ড্রোন) স্থাপন করা পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো রাশিয়ার সকল অঞ্চলে নিক্ষেপ করা হয়েছে।"

সতর্কবার্তাটি নাগরিকদের "প্রাণবন্ত হওয়ার ঝুঁকি" রয়েছে বলে একটি বার্তা দিয়ে শুরু হয় এবং তাদের "জরুরি ভিত্তিতে তিন সপ্তাহের জন্য খাবার মজুত করতে এবং লুকিয়ে পড়তে" পরামর্শ দিয়েছে।