পত্রিকা: 'শাহজালালে আটকা ১৩ হাজার যাত্রী'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

খবরে বলা হচ্ছে, হঠাৎ করেই বদলে গেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চিরচেনা দৃশ্য। ৮২টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর কমে গেছে সৌদিগামী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের জটলা। কারণ এতে আটকা পড়েছেন প্রায় ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী।

তাই শাহজালালে সৌদি ফেরত যাত্রী-স্বজনদের আনাগোনা নেই। অথচ ক'দিন আগেও সৌদিগামী ও সৌদি ফেরত যাত্রী-স্বজনদের আনাগোনায় সরব থাকতো টার্মিনাল এলাকা। কিন্তু সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

ঢাকা থেকে যাত্রীরা যেমন যেতে পারছেন না, ঠিক তেমনি কোনো যাত্রী আসতে পারছেন না। দুই দেশে আটকা পড়া যাত্রীদের অধিকাংশই ওমরাহ যাত্রী। আর আরেকটি বড় অংশ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। প্রতিদিন শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সৌদির বিভিন্ন গন্তব্যে যে ক'টি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করে তার সবক'টিই যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকে।

কিন্তু গত ক'দিনে একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। যাত্রীদের যাওয়া-আসায় ভাটা পড়েছে। এসব যাত্রী কবে যেতে পারবেন তার ঠিক নাই। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে অনেকেই চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়বেন।

নিউ এইজের শিরোনাম '35-yr age limit set for enrolment as lawyers' অর্থাৎ 'আইনজীবী হওয়ার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর করা হচ্ছে' ।

খবরে বলা হচ্ছে, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এই সিদ্ধান্ত ২০৩০ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস কাজল এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯শে আগস্ট সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের পর তিনি এ কথা বলেন। তিনি আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, সততা ও জবাবদিহি বজায় রাখা, আচরণবিধি কার্যকর করা, সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আইনজীবীদের অবশ্যই মক্কেলদের বিভ্রান্ত করা, অত্যধিক আর্থিক লাভের পেছনে ছোটা এবং অনৈতিকভাবে বিচারিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সভাপতিত্বে এবং কূটনীতিক, আইনপ্রণেতা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আইন স্নাতকদের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও ইউএনডিপির যৌথ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি দক্ষ, নীতিবান ও সহানুভূতিশীল আইনজীবী গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

খবরে বলা হচ্ছে, দেশে ৫০ থেকে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা। অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে যাওয়া এসব রিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন দিনের চেয়ে মধ্যরাতেই চাহিদা বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এ রিকশাগুলোই মধ্যরাতে গিলে খাচ্ছে (চার্জে) দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে বাধ্য হয়ে সরকারকে উচ্চমূল্যের তেলের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে গ্যাস সংকট ও এলপিজির উচ্চমূল্যের কারণে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহারও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

দেশে বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে দিনে নতুন করে আরও প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাত ১টায় (অফ-পিক) বিদ্যুতের চাহিদা দিনের সর্বোচ্চ চাহিদাকে (পিক) ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা না কমায় বাধ্য হয়ে সরকারকে উচ্চমূল্যের জ্বালানি তেলের (প্রতি ইউনিট ২৫ টাকার বেশি) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখতে হচ্ছে। পিডিবি, ডেসকো ও ডিপিডিসির হিসাব অনুযায়ী, মধ্যরাতে কেবল ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দিতে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।

'স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা বদলাবে' প্রথম আলোর শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭ সাল) পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত বর্ণনাও।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি সরকারের সময়ে পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা দাঁড়াচ্ছে তিন ধরনের।

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। পরিমার্জন শেষে এখন ছাপার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছুসংখ্যক বই ছাপাও হয়েছে।

২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ের প্রথম অধ্যায় 'বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন'। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। একপর্যায়ে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের কথা বলা হয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানীর চারটি রুগ্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি পূরণে রোগী দিয়ে সহায়তা করবে সরকার। এসব রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ সরকারই দেবে।

তবে রোগীপ্রতি কত টাকা দেওয়া হবে এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কীভাবে বিল পরিশোধ করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হাসপাতাল চারটি হলো- শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইমপাল্স হাসপাতাল, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে হাসপাতালগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। পরে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কলেজের নিজস্ব হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী না থাকায় হাতে-কলমে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এতে শিক্ষার ঘাটতি নিয়ে চিকিৎসক হয়ে বের হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।

খবরে বলা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিজেদের জন্য দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। একদিকে সরকার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, অন্যদিকে দল হিসেবে নির্বাচনে সফল হতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা, নেতাদের প্রভাব বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ফলে ইউপি নির্বাচনেই বড় পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে বিএনপি। ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক দলের নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও ইতিমধ্যে অধিকাংশ ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

এই নির্বাচনে ভালো ফল করতে কয়েক মাস আগে থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালাচ্ছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে এবং নির্বাচনে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' থাকা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকদের। এরপরও মাঠ গোছাচ্ছে দলটি

অপরদিকে, ইউপি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে নয়, নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় এনসিপি-সমর্থিত প্রার্থীরা অন্যদের সঙ্গে সমঝোতায় গেলে দল বাধা হবে না।

খবরে বলা হচ্ছে, দেশে চিনির ব্যবহার গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাবে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তা কমে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টন হওয়ার প্রাক্কলন রয়েছে। পাঁচ বছরে ব্যবহার কমার হার প্রায় ৩৩ শতাংশ।

প্রধান চিনি ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের চিনি খাওয়া কমার হার সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ ব্যাপক হারে বাড়ায় চিনি গ্রহণ কমিয়ে দিচ্ছে মানুষ। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণেও চিনির ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে।

ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের চিকিৎসার শুরুতেই চিনি খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সাধারণভাবে বেশি চিনি ও পরিশোধিত শর্করা গ্রহণ স্থূলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

দেশে অল্পবয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার। ফলে সচেতনভাবেই অনেকে চিনিজাতীয় খাবার গ্রহণ কমাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি চিনির মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এ প্রবণতার পেছনে কিছু ভূমিকা রাখছে।

খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে খারাপ খবর বা উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফ। সংস্থাটি মনে করে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশে নামতে পারে।

একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমা ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার এই পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দ্বিমুখী চাপের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

একদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে খারাপ বার্তা দিলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে বলে জানায় সংস্থাটি। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা চলার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসে ধারাবাহিক অবনতি দেখা যাচ্ছে। গত এপ্রিলে চলতি অর্থবছরে ৪.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

খবরে বলা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ ধরে রাখার লড়াইয়ে নতুন চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশর রপ্তানিকারকরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আয় কমেছে, দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারীর অবস্থানও ধরে রাখা যায়নি।

ইউরোপের বড় বাজারগুলোর কয়েকটিতেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। বিপরীতে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও কয়েকটি অপ্রচলিত বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি খাতটিকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশের পোশাক রপ্তানিতে এখন দ্বিমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

অর্থাৎ একদিকে সামগ্রিক আয় বাড়ছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, কয়েকটি বাজারের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দিয়ে প্রধান বাজারের দুর্বলতা কতটা সামাল দেয়া সম্ভব।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯৯৭ কোটি চার লাখ ডলার।

সে হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এ সময়ে নিট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে ইতিবাচক চিত্র থাকলেও বাজারভিত্তিক তথ্য বলছে, সব জায়গায় সমান গতিতে এগোতে পারছে না বাংলাদেশের পোশাকশিল্প।

'FERTILISER SUBSIDIES, Big farmers get half: WB' দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে বড় জমির মালিকদের সংখ্যা ২০ শতাংশ হলেও সারের ভর্তুকির অর্ধেকই তারা পান। অপরদিকে, ক্ষুদ্র কৃষক ৪০ শতাংশ হলেও তারা পান মাত্রা ১৩ শতাংশ সার। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র। ৯২ শতাংশ কৃষক আড়াই একরের কম জমির মালিক। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন কৃষক আধা একরেরও কম জমির মালিক। তাদের কৃষিজমির পরিমাণ মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক তাদের সর্বশেষ 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট' প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আয়ের ভিত্তিতে হিসাব করলে কৃষিজীবী পরিবারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ সরাসরি সুবিধার মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কিছুটা অংশ পায়। অপরদিকে ধনী এক-পঞ্চমাংশ পরিবার সুবিধাভোগীদের সংখ্যার অনুপাতে তাদের প্রাপ্য অংশের প্রায় দ্বিগুণ সুবিধা পান।

খাদ্যের দাম ও কৃষি মজুরির মাধ্যমে প্রাপ্ত পরোক্ষ সুবিধাও অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারগুলোই বেশি পায়। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ পরিবার মোট সুবিধার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পেয়ে থাকে।

গত পাঁচ বছরে সার বাবদ ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় চার গুণ বেড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক সরকারকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে তুলে নিয়ে বাজার-ভিত্তিক মূল্যব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে সংস্থাটি বিএনপি সরকারের আমলে প্রবর্তিত 'কৃষক কার্ড'-এর সাথে সংযুক্ত ইলেকট্রনিক ভাউচারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি সহায়তার সুপারিশ করেছে।