পত্রিকা: 'সাদা পতাকা কাণ্ডে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভুল বার্তার শঙ্কা'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

বিশ্বকাপ এলেই দেশে বিভিন্ন দলের পতাকা টাঙানোর দৃশ্য দেখা গেলেও এবার রাজধানীসহ দেশের নানা এলাকায় ভিন্ন ধরনের একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সাদা রঙের বিশেষ নকশার পতাকা, যেখানে আরবি হরফে কালিমা লেখা রয়েছে, তা বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় টাঙানো হয়েছে এবং কিছু জায়গায় শোভাযাত্রাও হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পতাকা টাঙানোর সঙ্গে জড়িতদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পতাকা নয়, বরং ইসলামের কালিমাসংবলিত একটি ধর্মীয় নিশান। তবে নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, শ্রমবাজার ও ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের নকশা কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে। এতে দেশের ভাবমূর্তি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রবাসী শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শনিবার সকাল থেকে দানবাক্স খুলে এবার সর্বোচ্চ ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। পরে কয়েক শ মানুষ মিলে টাকা গণনার কাজ শুরু করেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগেরবার দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। নগদ টাকার পাশাপাশি আগে বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরাও পাওয়া গেছে।

বর্তমানে পাগলা মসজিদের সরাসরি দানের ১১৪ কোটি টাকা এবং অনলাইনে পাওয়া ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। এ অর্থের লভ্যাংশ জেলার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বলে দুই দেশই উল্লেখ করেছে। এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং সম্পর্ক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বাইরে আঞ্চলিক কূটনীতি, সংযোগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সংলাপ ও ভূরাজনৈতিক সমন্বয়ের দিকেও বিস্তৃত হয়েছে।

সফর চলাকালে দুই দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি, একটি কাঠামোগত চুক্তি, একটি প্রটোকল, একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা, নয়টি সমঝোতা স্মারক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে ১৩টি ছিল মন্ত্রণালয় পর্যায়ে, তিনটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং একটি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি এর মধ্যে।

যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে যে বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও উন্নীত করে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ চীন কমিউনিটি গড়ে তোলা হবে, যাতে দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হয়।

সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শি জিনপিং, লি কিয়াং এবং ঝাও লেজি এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নিউ চ্যাম্পিয়নস বার্ষিক সম্মেলন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে অংশ নেন। ঢাকা ও বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা এই সফরকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

টাইমস অফ বাংলাদেশের খবর- China revives 3-nation corridor plan without India অর্থাৎ ভারতকে ছাড়া তিন দেশের অর্থনৈতিক করিডর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে চীন

বাংলাদেশ চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক করিডর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য আরও সহজ করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীন কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে দুই প্লাস দুই সংলাপ কাঠামো নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দরগুলোর বহুমুখী পরিবহন সংযোগ তৈরি করা। মিয়ানমারের যেসব বন্দর ইতিমধ্যে চীনের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আছে, সেগুলো ব্যবহার করে ছোট বাংলাদেশি জাহাজে সরাসরি পণ্য আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে স্থলপথের নতুন সংযোগ বাস্তবায়ন অনেকটাই মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ এতে চীনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে দেখা হতে পারে। আগে বাংলাদেশ চীন ভারত মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর পরিকল্পনা স্থবির হয়ে গেলেও এবার ভারতকে ছাড়াই নতুন কাঠামোতে এগোতে চাইছে চীন।

ছুটির দিন হলে সাধারণত অফিস আদালত শিল্পকারখানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে এবং লোডশেডিংও কম হওয়ার কথা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গত তিন সপ্তাহ ধরে শুক্র ও শনিবার গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। বৃষ্টি না হলে সামনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে এবং লোডশেডিংও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে চাহিদা ছাড়িয়ে যাচ্ছে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এই ঘাটতি সামাল দিতে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে ঢাকার বাইরে এবং বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। অনেক এলাকায় দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। রাত ১০টার পর থেকে লোডশেডিং বাড়ে এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ থাকে। শনিবার দিনের বেলাতেও প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

কালের কণ্ঠ পত্রিকার খবর- আলোচনায় চীনের করিডর প্রস্তাব

চীন ও মালয়েশিয়ায় ছয় দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান।

বৈঠকে অর্থনৈতিক করিডর, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন বাণিজ্য করিডর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় বেইজিং। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও চীন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ইস্যুটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ঢাকা-বেইজিং ১৭টি ইস্যুতে সমঝোতা স্মারক সই করার মাধ্যমে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরো বিস্তৃত করে সম্পর্কের নতুন যুগে প্রবেশ করার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে।

উভয় দেশ বেশ কিছু সহযোগিতার কথা বলেছে। প্রস্তাবে রয়েছে- মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ এবং কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন মাত্রা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা তৈরি। আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট ৯.২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক জরুরিভিত্তিতে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ১১০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার জন্য দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই সহায়তার অর্থ ধান উৎপাদনের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা করা এবং জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে কাজে লাগানো হবে।

যুগান্তর পত্রিকার আজকের প্রতিবেদন- ব্যক্তির করমুক্ত আয় সীমা বাড়ছে

সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হচ্ছে। এর ফলে বছরে ৬ লাখ টাকার কম বেতন আয় হলে কর দিতে হবে না, কারণ বেতনের এক তৃতীয়াংশ কর অব্যাহতির আওতায় থাকবে।

তবে করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও রেয়াতের সীমা কমানো এবং সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ ও এফডিআরের সুদের ওপর কাটা উৎসে করকে চূড়ান্ত করের বদলে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার কারণে করের মোট চাপ খুব বেশি কমবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য নিয়মিত কর দিয়ে দেখানোর সুযোগ বাতিল করা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক রাখার সিদ্ধান্তও তুলে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ আয়ের করহার আগের মতোই থাকবে। এসব পরিবর্তন অর্থবিলের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য আনা হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর পত্রিকার খবর- তুরাগে সেদিন কী ঘটেছিল দুই লাশ উদ্ধার

তুরাগ নদে আওয়ামী লীগের একটি নৌ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ এমন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ সদর দপ্তর এসব তথ্যকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নৌকায় করে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে মিছিল নিয়ে রওনা হন। আশুলিয়া বাজার ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা দ্রুত নৌকায় ফিরে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নৌকার নোঙর তুলতে না পারায় কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়।

পরে তুরাগ নদ থেকে মো. সুমন ও আরিফুল ইসলাম রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডিবির তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর তীব্র স্রোতে তারা ডুবে যান এবং পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।