আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইরানে হামলা নিয়ে নতুন পরিকল্পনার খবরে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করতে যাচ্ছে—এমন একটি প্রতিবেদনের পর বৃহস্পতিবার এশিয়ায় তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে।
খবরের ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস জানায়, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর "সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী" ধারাবাহিক হামলার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এরপরই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি (৯৪ পাউন্ড) হয়েছে, যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ।
প্রসঙ্গত, এক ব্যারেল সমান ১৫৯ লিটার প্রায়।
এই সপ্তাহে জ্বালানির দাম বেড়েছে, কারণ শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে; একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধই রয়ে গেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনায় বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
আরেকটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখলে নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য তা পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এতে স্থলবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়ে প্রায় ২.৩ শতাংশ উঠে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জুন মাসে সরবরাহের জন্য বর্তমান ব্রেন্ট ফিউচারস চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা। এশিয়ার সকালের লেনদেনে তুলনামূলক বেশি সক্রিয় জুলাইয়ের চুক্তি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৩ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখলে ইরানের বন্দরগুলো তারা অবরুদ্ধ করে রাখবে—যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন গুরুতরভাবে ব্যাহত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান ওই নৌপথে জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে—যে পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি প্রবাহিত হয়।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর "দীর্ঘমেয়াদি" অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন প্রতিবেদনের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
বিবিসি আরও জানতে পেরেছে, যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর সীমিত রাখা যায়—তা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এতে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।