কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় যা জানা যাচ্ছে

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
    • Author, সজল দাস
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৪ মিনিট

(এই প্রতিবেদনের কিছু বর্ণনা পাঠকের অস্বস্তির কারণ হতে পারে)

নিজ কার্যালয়ের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল নারী শিক্ষকের দেহ। পাশেই নিজের গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করছেন কর্মচারী। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার বিকেলে একজন নারী শিক্ষকের মৃত্যুর এই ঘটনা ঘিরে আলোচনা চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই নারী শিক্ষককে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান।

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক। আর গুরুতর আহত ওই কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহে কাজ করছে পুলিশের গোয়েন্দা টিম।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহিনুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, চেয়ারম্যানের রুম থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিক্ষক এবং ওই কর্মচারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

"বিকেলে ম্যাডামের অফিসের দরজা ভেঙে এই দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়," বলেন তিনি।

জানা গেছে, নিহত শিক্ষকের সঙ্গে 'ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে' কর্মচারী ফজলুর রহমানকে সমাজ কল্যাণ বিভাগ থেকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। এর জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন নিহত শিক্ষকের সহকর্মীদের অনেকে।

গুরুতর অবস্থায় শিক্ষক ও কর্মচারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়
ছবির ক্যাপশান, গুরুতর অবস্থায় শিক্ষক ও কর্মচারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়

ঘটনা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

শিক্ষকের এমন মৃত্যুর ঘটনার পেছনে প্রকৃত রহস্য কী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যার পর নিজেও কেন ওই কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে- এমন অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে চিৎকার শুনতে পেয়ে বিভাগের কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যান।

এসময় রুমটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী নাজমুল হোসেন।

বিবিসি বাংলাকে মি. হোসেন বলেন, "দরজা ভেঙে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় ম্যাডামকে পড়ে থাকতে দেখেন শিক্ষার্থীরা। রুমের একপাশে পড়ে থাকা কর্মচারী ফজলুরও নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন"।

তিনি জানান, সমাজ কল্যাণ বিভাগে চুক্তিভিত্তিকভাবে কর্মরত অবস্থায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এর আগেও বাকবিতণ্ডা করেছিলেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। মূলত এই কারণেই এক মাস আগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়।

"ডেইলি বেসিস কর্মী হিসেবে ছয় হাজার টাকা বেতন পেতেন ওই কর্মচারী। ম্যাডামের কাছে দুই হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়ায় অতীতেও খারাপ আচরণ করেছিলেন তিনি," বলেন মি. হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. শাহিনুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে ওই শিক্ষকের নিথর দেহ পড়ে ছিল। পরে শিক্ষক এবং কর্মচারীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

"আজ ওই বিভাগে একটা ইফতার পার্টি ছিল। ম্যাডাম ওনার অফিসেই অবস্থান করছিলেন, তার রুমে গিয়ে ওই কর্মচারী তাকে ছুরির আঘাত করেছে। শিক্ষার্থীরা চিৎকার শুনতে পেয়ে দরজা ভাঙে," বলেন তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে নারী শিক্ষক এবং কর্মচারীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ
ছবির ক্যাপশান, ঘটনাস্থল থেকে নারী শিক্ষক এবং কর্মচারীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ

হামলার কারণ কী জানতে চাইলে প্রক্টর মো. শাহিনুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, সমাজ কল্যাণ বিভাগেই চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। কদিন আগেই তাকে বদলি করে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হয়।

"বিভাগে ইন্টারনাল দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনেছি, ম্যাডাম কমান্ড করলে কমান্ড শুনতো না। এছাড়া কর্মচারী ছেলেটা স্থানীয় এবং সে নাকি খুব বদমেজাজী, নানা অভিযোগ থাকায় তাকে এই বিভাগ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল," বলেন মি. শাহিনুজ্জামান।

নিহত শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনার সহকর্মীরা বলছেন, বেতন বৃদ্ধি ইস্যুতে অতীতে চেয়ারম্যানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিলেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। এরপরই তাকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়।

"ম্যাডামের সঙ্গে ওই কর্মচারী ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছিল। এক দেড় মাস আগে বিভাগীয় কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে সমাজ কল্যাণ বিভাগ থেকে বদলি করা হয়," বিবিসি বাংলাকে বলেন সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার।

তিনি বলছেন, "শুধুমাত্র বদলির কারণে হত্যার মতো ঘটনা ঘটবে এটি আমরা ভাবতেও পারছি না"।

এদিকে, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ করছে পুলিশ। এছাড়া আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

"বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফোনে ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর অবস্থায় একজন নারী শিক্ষক এবং ওই কর্মচারীকে হাসপাতালে পাঠাই আমরা। কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন এবং কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন," জানান মি. রানা।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলছেন, কেন এই ঘটনা ঘটেছে সেই বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার সঙ্গে কথা বলবেন তারা।

"ছুরির আঘাতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এটি বলা যাচ্ছে। তবে কে বা কারা তার মৃত্যুর জন্য দায়ী এটা তদন্তসাপেক্ষ," বলেন তিনি।