ছাত্রশিবির নেতার বিরুদ্ধে 'আত্মগোপন ও ধর্ষণের' অভিযোগ নিয়ে সংসদে তুমুল উত্তেজনা
সম্প্রতি ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতার নিখোঁজ ও আত্মগোপনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে পুলিশের উদ্ধার, এবং সবশেষে ওই নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার মামলা দায়েরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
রোববার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে কুমিল্লায় ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা মো. জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ এবং ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদকে অবহিত করেন।
বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতায় এ সময় সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দুপুরে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মি. আহমদ ৩০০ বিধিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের খবর জানান।
ওই বক্তব্যের পরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মি. প্রধানের বিষয়টি সংসদে জানানোর অনুমতি চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে অনুমতি দেন।
শিবির নেতা মি. প্রধান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একজন নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিনি অন্তস্বত্তা হয়ে পড়েন বলে কুমিল্লার পুলিশের বরাত দিয়ে সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "কিন্তু একপর্যায়ে ওই নারীকে জোরপূর্বক ভ্রুণ নষ্ট করার চাপ প্রয়োগ করে মি. প্রধান এবং নষ্ট না করলে মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
পরে ট্যাবলেট খাইয়ে ওই ভ্রুণ নষ্ট করা হয়। কিন্তু ওই নারী শিবির নেতা মি. প্রধানকে বারবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাজীও হন তিনি।"
"একপর্যায়ে ১১ই জুন শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান আত্মগোপন করে চাচাতো ভাইকে দিয়ে থানায় নিখোঁজ জিডি করান।"
সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এ ঘটনায় ওই নারীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত সজীব হাসান ও সেকান্দার আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুরো ঘটনাটির বর্ণনা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তার ফেসবুকে দেয়া পোস্টের কথা উল্লেখ করেন।
“এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তার নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পরে সেটা আমরা মনে করলাম এই ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার। আমি মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এইটা প্রকাশ করলাম” বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শিবির নেতা মি. প্রধানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে বলে কুমিল্লা জেলা পুলিশের বরাত দিয়ে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমি দলের নাম নিতাম না, যেহেতু এটার বিষয়ে কিছু ক্লেইম করা হয়েছে সেইজন্য নিচ্ছি।”
স্বরাষ্টমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি সংসদে বলেন, “ভেরি আনফরচুনেট থিং হচ্ছে, এই আমার জানা নাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী পর্যায়ে একটি আনডিসাইডেড ম্যাটারকে বিতর্কিত বিষয়কে পার্লামেন্টে এরকম বক্তব্য রাখা..কোন একটি দলকে করে..এইটা বোধ হয় পার্লামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম বলেই আমি মনে করি।”
“এইটা মনে হচ্ছে, আমার কাছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম করার জন্যই ইনটেনশনালি এটা এখানে প্লেস করেছেন” বলেন মি. তাহের।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে স্মরণ করিয়ে বলেন, সংসদের বিধান অনুযায়ী ৩০০ বিধিতে কথা বললে সে নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মি. তাহের শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানের অবস্থান জানতে চান ।
তিনি অভিযোগ করেন, “কুমিল্লার পুলিশ জিসানের সাথে ওই মেয়েটার সাথে কারো সাথেই কথা বলতে দিচ্ছে না। কিন্তু এটা কেন? এখানে কি কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে? আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা মনে হচ্ছে, ওনারা একটা প্লট তৈরি করার জন্যই পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই লাইনে আলোচনা করে এই কাজটি করেছেন।”