আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পত্রিকা: '২৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম'
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের আনা দুর্নীতির অভিযোগ, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য খসড়া নিয়ে সংবাদ ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়াবলী।
আজকের পত্রিকার খবর- ২৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম
শিক্ষা ছুটি শেষে যোগদান না করা শিক্ষকদের কাছ থেকে ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ফেরত না নেওয়ায় দেশের ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২৬ কোটি টাকা।
এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে জনবলকাঠামোর বাইরে পদোন্নতি দিয়ে বেতন-ভাতা পরিশোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষতি ৪৭ কোটি টাকার বেশি।
এমন মোট ১৩২ ক্ষেত্রে অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে এই ২৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে করা নিরীক্ষায়। এসব অনিয়মে মোট আর্থিক ক্ষতি ২ হাজার ৩১ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ টাকা।
বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অধীন শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই নিরীক্ষা করা হয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ক্ষতি হওয়া টাকা আদায়ের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠ পত্রিকার খবর- ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আসিফের বিরুদ্ধে
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ বিশ্বের পাঁচটি দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও দায়িত্ব পালনে পদে পদে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধানের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করা হয়। পুরনো অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন অভিযোগটিও একই সঙ্গে অনুসন্ধান করা হবে।
দায়িত্ব পালনে পদে পদে দুর্নীতি : দুদকে আসা নতুন অভিযোগে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে দুই থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করেছেন।
বণিক বার্তা পত্রিকার খবর- ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ২১শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী এ সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়া। সাইডলাইনে কিছু বৈঠক তো হবেই, এগুলো প্রায় একদম শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত হয়। উনি যখন যাবেন, যাদের সঙ্গেই দেখা বা বৈঠক হবে, আপনাদের জানানো হবে। এটা কোনো গোপন কিছু হবে না, আপনাদের জানানো হবে।'
সমকাল পত্রিকার খবর- ডিজিটাল নিরাপত্তার মতোই হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। এতে মানহানির অপরাধে সাজা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা, গুজব-অপতথ্য ছড়ালে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে খসড়ায়।
এ রকম কিছু ধারা আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোও বলছে, খসড়ায় মানহানি, গুজব-অপতথ্যের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে; এগুলোর অপব্যবহার হতে পারে।
আওয়ামী লীগ আমলের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। সমালোচনার মুখে সেই আইন বিলোপ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। এতে জরিমানার বিধান থাকলেও কারাদণ্ড ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানহানির অংশ বাদ দিয়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ করা হয়। বিএনপি সরকার সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করলেও ছয় মাসের মাথায় এসে তা সংশোধন করে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান করতে চাইছে। এ ছাড়া গুজব, অপতথ্য প্রচার করলে ১০ বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে সংশোধনীর খসড়ায়।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর- Cyber security act: Draft changes echo DSA-era restrictions অর্থাৎ সাইবার নিরাপত্তা আইনে নতুন সংশোধনী, ডিএসএ আমলের বিধিনিষেধ ফেরার শঙ্কা
সরকারের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৬-এর সংশোধনীতে অনলাইনে মানহানিকে অপরাধ হিসেবে যুক্ত করার পাশাপাশি কাউকে 'অপমান' বা 'হয়রানি'র জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিভাগ প্রস্তাবিত এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে অনলাইনে মতপ্রকাশের আরও বিস্তৃত পরিসর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে উঠতে পারে।
সমালোচকেরা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিধিনিষেধের দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওই আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর খসড়া আইসিটি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা আইনটি ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে তৈরি, যা চলতি বছরের ১০ এপ্রিল আইনে পরিণত হয় এবং পরে ৩০ জুন সংসদে এর সংশোধনী পাস হয়।
প্রথম আলো পত্রিকার খবর- ইলিশের উৎপাদন কমছে, ভরা মৌসুমেও দাম চড়া
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ইলিশের দাম এবার বেশ চড়া। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকায়, যা গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। ক্রেতারা বলছেন, বাড়তি দামের কারণে ইচ্ছা থাকলেও বড় ইলিশ কিনতে পারছেন না। বিক্রেতারাও জানাচ্ছেন, ছোট আকারের ইলিশের চাহিদা এবার বেশি।
ব্যবসায়ীদের মতে, গতবারের তুলনায় এবার বিভিন্ন আকারের ইলিশের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এমন চড়া দাম আগে দেখেননি।
ইলিশের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে গত দুই বছর ধরে উৎপাদন বা আহরণ কমে যাওয়ার কথা বলছেন গবেষকেরা। খ্যাতনামা ইলিশ গবেষক মো. আনিছুর রহমান পরিস্থিতিকে 'বিপজ্জনক' উল্লেখ করে উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ দ্রুত অনুসন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইলিশের এই সংকটের পেছনে মানুষ ও প্রকৃতি, দুটিই দায়ী।
নিউ এইজ পত্রিকার খবর- Red Sea tensions threaten wheat, fuel imports অর্থাৎ লোহিত সাগরের উত্তেজনায় গম ও জ্বালানি আমদানিতে শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের গম ও জ্বালানি আমদানি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
ইয়েমেনের উপকূলের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ ও হামলার কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরের দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকটও রয়েছে।
শিপমেন্টে দেরি হলে পরিবহন খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের বাজারেও। বিশেষ করে গম, জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্টের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলার থাকা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম রোববার বেড়ে হয়েছে ১০৪ ডলার ৬১ সেন্ট। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শোধনাগারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুরবান ক্রুডের দামও এক মাসে ৮২ ডলার থেকে বেড়ে ১১৯ ডলার ৪৬ সেন্টে উঠেছে।
ফলে লোহিত সাগরের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দামে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
নয়া দিগন্ত পত্রিকার খবর- আদালতের রায়ের প্রতিবাদে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা
আদালতের কোনো রায় বা আদেশের প্রতিবাদে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
একই সাথে পরিবহন মালিক সমিতি কিংবা শ্রমিক সংগঠন আদালতের রায় বা আদেশের প্রতিবাদে এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে যান চলাচল বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার সুযোগও আইনসম্মত নয় বলে স্পষ্ট করেছেন আদালত।
আদালতের রায় ও আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘটের নামে যান চলাচল বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হলে তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
যুগান্তর পত্রিকার শীর্ষ খবর- গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট- চাপে জনগণ, সরকারে অস্বস্তি
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দেশের সব পেশার মানুষকে ভোগাচ্ছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বাসাবাড়িতে গ্যাস থাকে না।
আর রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরছে না ফ্যান। শিল্পকারখানায় মেশিনের চাকা বন্ধ। সাধারণ মানুষের ওপর এর বহুমুখী প্রভাব পড়ছে। মানুষের আয় কমছে।
এতে ক্ষুব্ধ সব শ্রেণির মানুষ। বিরোধী দলও সংসদের বাইরে রাজপথের আন্দোলনে নেমেছে।
এ নিয়ে সব মহলের সমালোচনায় সরকার বিব্রত। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে অস্বস্তির কথা স্বীকার করছে। তবে দাবি, এই সংকট তাদের সৃষ্টি নয়। তারা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। সংকট সমাধানের সহজ কোনো পথ নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য কিংবা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তবে এটি সব সরকারের আমলেই কম-বেশি ছিল। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবার যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।