আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বেইজিংয়ে ড্রোন বিক্রিতে কেন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন?
- Author, কোহ ইওয়ে এবং লরা বিকার, চীন সংবাদদাতা
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
রাজধানী বেইজিংয়ে ড্রোন বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন সরকার। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেইজিংয়ে ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ বিক্রি, ভাড়া দেওয়া বা বাইরে থেকে শহরে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, ড্রোন মালিকদের তাদের ডিভাইসগুলো বাধ্যতামূলকভাবে পুলিশের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। এছাড়া ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও থাকছে কড়াকড়ি।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের আউটডোর ড্রোন ওড়াতে, অর্থাৎ ঘরের বাইরে ড্রোন ওড়ানোর জন্য আগে থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
এছাড়া ড্রোন ব্যবহারকারীদের অনলাইনে একটি প্রশিক্ষণ সেশন সম্পন্ন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন বিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
চীন সরকার ড্রোন এবং 'ফ্লাইং ট্যাক্সি' প্রযুক্তিকে তাদের কৌশলগত 'লো-অল্টিটিউড ইকোনমি' বা নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।
২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাত থেকে দুই ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে দেশটির।
চীনের অনেক শহরে খাবার সরবরাহ, কৃষিকাজ এবং ভবন পরিষ্কারের কাজে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও বেইজিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এমনকি নতুন এই আইন অনুযায়ী, বেইজিং শহরের ভেতরে ড্রোন আনা বা বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের প্রমাণ দেখাতে হবে।
মেরামতের জন্য ড্রোন শহরের বাইরে পাঠালে, তা কুরিয়ারের বদলে মালিককে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সংগ্রহ করতে হবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
অবশ্য নতুন এই নিয়মে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ড্রোন কেনা এবং এর ব্যবহারের ওপর ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, জরুরি উদ্ধারকাজ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ড্রোন কেনা ও মজুত রাখা যাবে।
তবে সাধারণ ব্যবহারকারী বা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের জন্য এই সুযোগ রাখা হয়নি।
গত কয়েক বছর ধরেই ড্রোনের ব্যবহারে ধারাবাহিকভাবে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে চীন। বেইজিংয়ের এই নতুন বিধিনিষেধ গত মার্চ মাসে অনুমোদিত হয়।
সে সময় নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নিম্ন-উচ্চতার আকাশসীমায় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ড্রোনের ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বেইজিং মিউনিসিপ্যাল পিপলস কংগ্রেসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শিয়ং জিংহুয়া জানিয়েছেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই এই নতুন আইনের মূল লক্ষ্য।
"আমাদের লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সাথে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা," বলেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, গত বছরই বেইজিংয়ের সম্পূর্ণ আকাশসীমাকে 'নো-ড্রোন জোন' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ব্যাপক বিধিনিষেধ চীনের বিশাল ড্রোন বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই নিয়ম ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবহারকারীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে নিবন্ধিত ড্রোনের সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজেআই এর সদর দপ্তরের অবস্থানও এই দেশে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার শঙ্কায় বেইজিংয়ের ডিজেআই শোরুমগুলো থেকে ইতিমধ্যে ড্রোন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর ফলে দেশটির প্রযুক্তিপ্রেমী এবং ব্যবসায়িক খাত- উভয় পক্ষই এখন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।