আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পত্রিকা: 'তিন বছর পর সরকারের ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৩৪ লাখ কোটি টাকায়'
ঢাকা থেকে শনিবার প্রকাশিত প্রায় সব পত্রিকায় বাজেট ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন এবং বাজেট নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ীদের সংগঠন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতামত ও বিশ্লেষণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
বণিক বার্তা পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ- তিন বছর পর সরকারের ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৩৪ লাখ কোটি টাকায়।
এখানে বলা হয়েছে, ক্রমেই বাড়ছে সরকারের ঋণের বোঝা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে, মার্চ শেষে তা বেড়ে প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ প্রক্ষেপণ বলছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি প্রায় ৩৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সুষম সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসংগতি এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিধি ও সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকেই ঋণ গ্রহণের প্রবণতা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক নীতি বিবৃতির প্রক্ষেপণ বলছে, আগামী তিন বছরে এ ঋণ স্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছবে যা দেশের সার্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়।
এর পরবর্তী অর্থবছরে তা আরো বেড়ে ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হবে এবং তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে এ ঋণ স্থিতি দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।
এ বিশাল ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎসের অবদান থাকবে ১৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।
সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুুুুন:
সমকালের শেষ পাতার খবর- মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও ৫ শতাংশের প্রাথমিক কর ধাপ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ করের প্রাথমিক ধাপ ঠিক করা হয়েছে। বাজেটের এ প্রস্তাবে মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি করদাতারা যে রেয়াত পান, তাও কমানো হয়েছে। এটিও মধ্যবিত্তের করের চাপ বাড়াবে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রথম পৌনে চার লাখ টাকা করমুক্ত। পরবর্তী তিন লাখে ১০ শতাংশ, পরের চার লাখে ১৫ শতাংশ, পরের পাঁচ লাখে ২০ শতাংশ এবং পরের ২০ লাখ টাকা আয়ে ২৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে গিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা হবে এবং সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় করমুক্ত আয় আরও বাড়ানোর পক্ষে বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
অবাস্তব প্রাক্কলনে উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ - কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনকল্যাণমুখী ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গঠনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে সরকার।
তবে এই বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বাস্তব পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সংস্থাটির মতে, বাজেটের দর্শন ও নীতিগত উদ্দেশ্য ইতিবাচক হলেও এর অধিকাংশ লক্ষ্য এমন একটি অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত 'জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : সিপিডির পর্যালোচনা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'সরকার একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করেছে।
আয় পুনর্বণ্টন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা, রপ্তানি বাণিজ্যে উৎসাহ, কৃষি ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সৌরশক্তি ব্যবহারে প্রণোদনার মতো পদক্ষেপও বাজেটে রয়েছে।
কিন্তু মূল প্রশ্ন হচ্ছে, এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি ধরা হয়েছে, সেটি কতটা বাস্তবসম্মত।'
দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার সংবাদ- বাজেটে ছাড়, বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় ভোক্তা।
এখানে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের উপর উৎসে কর-এ বড় ছাড় দিয়েছে।
কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো চাল, আটা ও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে কর ছাড়ের ঘোষণায় ক্রেতারা খুশি হলেও এটা কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
বাজেট পেশের পরদিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরানবাজার ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
বাজেটে যেসব নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেল। সবমিলিয়ে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উেস কর আড়াই শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
কিন্তু বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। গতকাল খুচরা বাজারে মোটা ও মাঝারিমানের চাল ইরি, স্বর্ণা, পাইজাম ও লতার দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ডালের বাজারেও একই চিত্র।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও পণ্য দুটির দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল বাজারে মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়।
যা দুই দিন আগেও ৫২ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দুই দিনের ব্যবধানে মোটা চালের কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে তা ৫২ থেকে ৬০ বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে সাদা খোলা আটার দামও। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে তা ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডালের মধ্যে ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব পণ্য আগের কেনা। পুরোনো দামে কেনা পণ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর ছাড়ের সুবিধা বাজারে প্রতিফলিত হবে না।
'Budget for everyone' অর্থাৎ সবার জন্য বাজেট -ইংরেজি পত্রিকা The Daily Star এ প্রকাশিত প্রথম পাতার শিরোনাম এটি।
এতে বলা হয়েছে, অর্থসূচক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে ঋণ-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করব।" উল্লেখ্য, এর একদিন আগেই তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে এর প্রতিফলন রয়েছে। তিনি আরও জানান, বিনিয়োগ বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নীতি শিথিলকরণের বিষয়গুলো তদারকি করার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
এছাড়া, ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা যাতে কোনো বাধার সম্মুখীন হলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি ডেডিকেটেড অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কঠোর জবাবদিহিতা ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি ট্র্যাক করা হবে।
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো। কারণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয় এবং বন্দর ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের অদক্ষতার ফলে শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম ভোক্তাদের ওপরই চাপে।
তিনি বলেন, একটি কোম্পানি চালু করার অনুমোদনের জন্য ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লেগে যায়, যার মধ্যে একাধিক সংস্থার সম্পৃক্ততা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় জড়িত থাকে।
প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ- সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় বাড়তি কর, মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়বে।
এতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর অগ্রিম করের হার বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে যেকোনো ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা তোলার সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে।
জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার উত্থাপিত নতুন বাজেটের অর্থবিলে এ-সংক্রান্ত অগ্রিম করের প্রস্তাব অনুসারে সঞ্চয়পত্রের সুবিধাভোগীরা আগের চেয়ে কম মুনাফার টাকা হাতে পাবেন। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ বাড়বে।
বাজেটে এমন ঘোষণার আগে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার বিধান ছিল।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর এত দিন যে ৫ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হতো, তা চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত হতো। প্রস্তাবিত বাজেট সঞ্চয়পত্রের চূড়ান্ত কর দায় ব্যবস্থাটি তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই হার বেড়ে এখন ১০ শতাংশ হয়ে যাবে।
মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগী অনেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন। তাঁদের অনেকেই সংসারের খরচে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা কাজে লাগান। বাড়তি অগ্রিম করের জন্য তাঁদের মুনাফার টাকার পরিমাণ এখন কমে যাবে।
একটি উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পরিবার সঞ্চয়পত্রের ওপর মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতি এক লাখ টাকার জন্য বিনিয়োগকারীর মাসিক মুনাফার পরিমাণ ৯৯৪ টাকা ১৭ পয়সা। মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার ফলে গ্রাহক হাতে পান
আগে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার বিধান ছিল। সেই হার বেড়ে এখন ১০ শতাংশ হয়ে যাবে।
ইংরেজি পত্রিকা NEW AGE এ প্রকাশিত প্রধান শিরোনাম- BGB-BSF DG-LEVEL CONFCE: BGB for quick end to push-in, অর্থাৎ বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন: পুশ-ইন বন্ধে বিজিবির আহ্বান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবি-এর মহাপরিচালক ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বিএসএফ-এর মহাপরিচালককে ভারতীয় নাগরিক এবং রোহিঙ্গা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া (পুশ-ইন) বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রোটোকল অনুসরণ করে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজিবি-বিএসএফ যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের কাছে ঝুলে থাকা জাতীয়তা যাচাইয়ের সব মামলা দ্রুত সম্পন্ন করার এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএসএফ আবারও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদিও অতীতে করা তাদের এ ধরনের প্রতিশ্রুতি বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া, অনুপ্রবেশ ও হামলা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়েও বিএসএফ বিজিবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
এদিকে, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার যৌথ বিবৃতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরেই মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, চোরাচালানের ঘটনায় তিনি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় অংশে মো. মুজিব আলী (২০) নামে ওই যুবক নিহত হন বলে জানিয়েছেন বিজিবি-৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
যুগান্তর পত্রিকার প্রধান শিরোনাম- বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিক্রিয়া- বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ।
এখানে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাহসী বাজেট। এ বাজেটে যেমন ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগ আছে, তেমনি স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রচেষ্টাও বিদ্যমান।
তবে ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর রূপরেখা দৃশ্যমান হয়নি। সামগ্রিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
অতীতের অনেক ভালো বাজেটও বাস্তবায়নের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই সরকারকে বাজেট বাস্তবায়নে অর্থবছর শুরুর প্রথম দিন থেকে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার যুগান্তরের কাছে ব্যবসায়ী সংগঠনের কয়েকজন নেতা এমন মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, এ বাজেটে সরকারের দেশপ্রেমের অনেক স্বাক্ষর রয়েছে। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের এখনো ভাবাচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই। শিল্পের উন্নতি করতে হলে সবার আগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সব বাধা দূর করে দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাও জরুরি।
বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা প্রশংসনীয়।
তবে রাজস্ব আহরণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি খাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ফলে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না, সেবার মান ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আয়কর খাতে বড় সংস্কার: সৌরবিদ্যুৎ ও খাদ্যশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি কর ছাড় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে উৎসাহমূলক সুবিধা- নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবর।
এতে বলা হয়েছে, এবারের বাজেটে দেশের আয়কর কাঠামোয় একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-পরিবর্তন এনেছে সরকার, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ভোজ্যতেল শিল্প এবং দাতব্য অনুদানকে কেন্দ্র করে নতুন কর অব্যাহতি ও ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।
এ সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহ, খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এসআরও নং ২১১, ২১২ ও ২১৩-আইন/আয়কর/২০২৬ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ জুন জারি করা এই প্রজ্ঞাপনগুলো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
দাতব্য অনুদানে কর ছাড় : নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে 'স্বীকৃত দাতব্য প্রতিষ্ঠান' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ব্যক্তিগত অনুদান দাতার করযোগ্য আয় থেকে কর রেয়াতযোগ্য হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আসিক ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেনস ক্যানসার, ব্র্যাক, বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্ট, থ্যালাসেমিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ,অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ঢাকা, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, সিজেডএম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংস্থা।
কর কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপ দাতব্য খাতে ব্যক্তিগত অনুদান বাড়াতে উৎসাহ সৃষ্টি করবে এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করবে।
উন্নত দেশে উত্তরণে চূড়ান্ত বাধা এই বাজেট : জামায়াত - আজকের পত্রিকা তাদের প্রথম পাতায় এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
যেখানে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ।
সরকারের প্রতি বাজেট সংশোধনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি ।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরওয়ার । মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন , ' বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে
( প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ ) ঘাটতি বাজেট নতুন কিছু নয় । তবে এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে । প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট । এটা কোথা থেকে পূরণ করা হবে ?
এত বড় ঘাটতি বাজেটের ব্যয় সংকুলানে যে ব্যাংক লোন করা হবে , তাতে আমাদের বিনিয়োগ , বেসরকারি বিনিয়োগ অটোমেটিক্যালি কমে যাবে । ' পরওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন , বাড়তি সরকারি ঋণের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে গিয়ে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ।
রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত কোনো কাঠামো সরকার দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ।
তিনি বলেন , ' রাজস্ব আয়ের যে উৎসগুলো দেখানো হয়েছে , তার জন্য যে করকাঠামো লাগে , দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসন লাগে— সেগুলো কিছুই নাই । ভাষার ছলচাতুরীতে উনারা বলেছেন যে , আমরা করের উৎস বাড়াচ্ছি । "